চিকিৎসক-নার্স সংকটে লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, যন্ত্রপাতি থাকলেও মিলছে না সেবা
ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
হাসপাতালে রয়েছে ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রাম যন্ত্র, আছেন ডেন্টাল চিকিৎসকও। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর অভাবে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি থাকছেন ৭০ জনেরও বেশি রোগী। অথচ ৩৬ জন চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ১১ জন। একইভাবে ২৫ জন নার্সের পদে রয়েছেন ১৬ জন। চিকিৎসক-নার্সের সংকট এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে এমনই বেহাল দশা হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। এতে চিকিৎসা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সেই অনুপাতে বাড়ানো হয়নি জনবল। চারজন কনসালট্যান্টসহ মোট ৩৬ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন। গুরুত্বপূর্ণ মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক নেই। অন্যদিকে, ২৫ জন নার্সের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ১৬ জন। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় কম জনবল দিয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের।
শুধু জনবল সংকটই নয়, চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও সেবা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালটিতে। ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রাম করার যন্ত্রপাতি থাকলেও এসব পরীক্ষা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নেই। ফলে যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত পড়ে থাকছে। রোগীদের এসব পরীক্ষা করাতে যেতে হচ্ছে হাসপাতালের বাইরে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ১৮ জুন প্রথম ইসিজি যন্ত্র সরবরাহ করা হয়। পরে ২০২০ সালের ১৯ জুলাই আরও একটি ইসিজি যন্ত্র দেওয়া হয়। আলট্রাসনোগ্রাম যন্ত্রও সরবরাহ করা হয়েছে। সূত্রের তথ্যমতে, প্রথম আলট্রাসনোগ্রাম যন্ত্রটি আসে ২০১৪ সালের ১৮ জুন এবং ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই আরও একটি যন্ত্র সরবরাহ করা হয়। তবে প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে এসব যন্ত্রের মাধ্যমে রোগীদের নিয়মিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে, হাসপাতালে ডেন্টাল চিকিৎসক থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোর অভাবে দাঁতের চিকিৎসাসেবা দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও এ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।
লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী শামসুল আরেফিন বলেন, “লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবলের সংকট রয়েছে। ৩৬ জন চিকিৎসকের বিপরীতে ১১ জন এবং ২৫ জন নার্সের বিপরীতে মাত্র ১৬ জন নার্স দিয়ে ৫০ শয্যার হাসপাতালটি পরিচালনা করতে হচ্ছে। শয্যার তুলনায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। এত কমসংখ্যক জনবল দিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালে ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রামের যন্ত্রপাতি থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল নেই। আবার ডেন্টাল চিকিৎসক থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতালের শয্যাসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ, গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে চিকিৎসক পদায়ন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি। এসব ঘাটতি পূরণ করা না হলে লাখাই উপজেলার মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
তুলি আক্তার / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন