খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২ কার্তিক, ১৪৩৩

দেড় কিলোমিটার সড়কে ৪০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ, গর্তে ভরা চলাচলের পথ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৬:০০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দেড় কিলোমিটার সড়কে ৪০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ, গর্তে ভরা চলাচলের পথ

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মাত্র দেড় কিলোমিটার সড়ক। অথচ এই পথ পাড়ি দিতে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। কোথাও উঠে গেছে কার্পেটিং, কোথাও বেরিয়ে এসেছে ইটের খোয়া। আবার কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। ভেঙে গেছে সড়কের পাড়ও। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, রোগী, অটো-ভ্যানচালকসহ সাধারণ মানুষকে।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের সিঙ্গারডাবড়ীহাট বাজার থেকে কুড়ারপাড় বাজার পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কের এমনই বেহাল দশা। সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৪০টি গর্ত রয়েছে। বর্ষায় এসব গর্তে পানি জমে সড়কটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। আর শুষ্ক মৌসুমে যানবাহন চলাচলের সময় ধুলায় দুর্বিষহ হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদ্যানন্দ, ঘড়িয়ালডাঙ্গা ও রাজারহাট সদর ইউনিয়নের প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। সিঙ্গারডাবড়ীহাট বাজারের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি ঘড়িয়ালডাঙ্গা, কানুরাম, রামপাড়া, চেতনা, কুড়ারপাড়, কামারপাড়া, রতিগ্রাম, চতুরা, দিনা ও বিজলীর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম পথ এটি।

ভাঙা সড়কে দুর্ভোগ চরমে

কুড়ারপাড় এলাকার বাসিন্দা হারুন মিয়া বলেন, ‘রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেল চালালে মনে হয় পাহাড়ে ওঠানামা করছি। কোমরের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।’

চেতনা গ্রামের বাসিন্দা মোছা. হামিদা বেগম বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে গেলে ঝাঁকুনিতে অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। অটোতে যাতায়াত করলে মনে হয় কোমর ভেঙে যাবে। একদিন এই রাস্তা দিয়ে গেলে সাত দিন কোমরে ব্যথা থাকে।’

সড়কটির বেহাল অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন অটো ও ভ্যানচালকেরা। তাদের দাবি, ভাঙাচোরা সড়কের কারণে যানবাহনের ক্ষতি হচ্ছে এবং বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। অনেক চালক এই পথে যেতে অনীহা প্রকাশ করেন।

চৌকিদারপাড়ার অটোচালক রায়হান বাদশা বলেন, ‘আগে এই রাস্তা দিয়ে ভাড়া মারতাম। এখন আর যাওয়া যায় না। গেলেও বেশি ভাড়া নিতে হয়। কিন্তু উপায় নেই। যাওয়া-আসার পথে দুর্ঘটনা ঘটলে কী হবে?’

ভ্যানচালক মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে মালামাল নিয়ে যাওয়া খুব কষ্টকর। পুরো রাস্তা ভাঙা। গাড়ি উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।’

ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

এই সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে প্রায় ১ হাজার ১০০ শিক্ষার্থী। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সিঙ্গারডাবড়ীহাট বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়, সিঙ্গারডাবড়ীহাট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, শিশু নিকেতন স্কুল, এডুকেয়ার প্রি-ক্যাডেট স্কুল, সিঙ্গারডাবড়ীহাট দাখিল মাদ্রাসা ও পাটোয়ারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেউ সাইকেলে, কেউ অটোতে, আবার কেউ হেঁটে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। তাদের অনেকে সিঙ্গারডাবড়ীহাট এলাকায় প্রাইভেট ও কোচিং পড়তে যায়। ফলে দিনে দুই থেকে চারবার পর্যন্ত এই সড়ক ব্যবহার করতে হয় তাদের। ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

সিঙ্গারডাবড়ীহাট বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিতা কর্মকার বলে, ‘আমি সাইকেলে যাতায়াত করি। রাস্তায় ভাঙাচোরা বেশি থাকায় যেতে কষ্ট হয়। মাঝে মাঝে সাইকেলের চাকাও পাংচার হয়ে যায়।’

একই শ্রেণির শিক্ষার্থী লামিয়া বলে, ‘আমার সাইকেল নেই। অটোতে কুড়ারপাড় পর্যন্ত যেতে হয়। রাস্তা ভাঙা থাকায় অটো যেতে চায় না। মাঝে মাঝে অটো না পেলে হেঁটে যেতে হয়।’

ভারী যানবাহনে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক

স্থানীয়দের অভিযোগ, হ্যাচারিরপাড় এলাকায় আগে ইটভাটা ছিল। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই সড়ক দিয়ে অতিরিক্ত ওজনের ভারী যানবাহন চলাচল করেছে। এতে সড়কের ওই অংশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সড়কটি পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে। তাই জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিক বলেন, ‘আমি মাসিক সভায় একাধিকবার এই রাস্তাটির বিষয়টি উত্থাপন করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।’

এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. এজাহারুল হক জানান, এক বছর আগে সড়কটি আম্পান প্রকল্পের আওতায় সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তবে বিলম্ব হওয়ায় পুনরায় সড়কটি যৌথ প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা এই সড়কটি সংস্কার হলে কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

গোপালগঞ্জে মোটর সাইকেল-পিকআপ সংঘর্ষে দেহ থেকে হাত বিচ্ছিন্ন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১:৫৪ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গোপালগঞ্জে  মোটর সাইকেল-পিকআপ সংঘর্ষে দেহ থেকে হাত বিচ্ছিন্ন

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

সাইফুল ইসলাম | গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :

গোপালগঞ্জে মোটর সাইকেল ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে হাত হারালেন বসুন্ধরা গ্রুপের মার্কেটিং বিভাগে বিক্রয় প্রতিনিধি হাসিবুর মোল্লা (৩০)।

তিনি জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ধলগ্রামের হোসেন আলী মোল্লার ছেলে। তাঁর ডান হাতটি শরীর থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সংকটজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা রেফার করা হয়েছে।

আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) গোপালগঞ্জ শহরে থেকে বিক্রয় প্রতিনিধি হাসিবুর মোল্লা  মোটর সাইকেলে করে  কোটালীপাড়া যাচ্ছিলেন ।  

গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া সড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মাঝিগাতি নামকস্থানে বিপরিত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সাথে মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে হাসিবুরের ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

কর্তব্যরত চিকিতসক ডাঃ সাব্বির হোসেন বলেন, এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপোতালে নিয়ে আসে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশংকাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পাইকগাছায় মাদক সেবন ও জনবিশৃঙ্খলার দায়ে আটক ৯ জন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় মাদক সেবন ও জনবিশৃঙ্খলার দায়ে আটক ৯ জন

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় মাদক সেবনের সময় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুই পিস ইয়াবা ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া গভীর রাতে পৌর এলাকায় জনবিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে আরও ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। আটক নয়জনকে শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের নাসিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মৃত আনসার গাজীর ছেলে আনারুল ইসলাম ওরফে কালু (৪৪)-এর বাড়ি থেকে মাদক সেবনকালে তিনজনকে আটক করা হয়। আটক অন্য দুজন হলেন একই এলাকার মৃত সুবান সানার ছেলে এরশাদ সানা (২৮) এবং নগর শ্রীরামপুর এলাকার মনিরুল মাস্টারের ছেলে আলিমুল ইসলাম (২৩)। পুলিশ জানায়, আটক তিনজনের বিরুদ্ধে সামারি ট্রায়ালের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, গভীর রাতে পাইকগাছা পৌর এলাকায় জনবিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ফেরদাউস গাজী (২২), হাসান গাজী (২৬), আশিকুর রহমান সুজন (২৬), মো. রাকিব (২০), মো. শাহিন শেখ (২৮) ও মো. রাকিব (২৩) নামের আরও ছয়জনকে আটক করা হয়।

পাইকগাছা থানার (ওসি তদন্ত) এসএম মিজানুর রহমান জানান, গভীর রাতে পৌর এলাকায় জনবিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে আটক ছয়জনসহ মোট নয়জনকে শনিবার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আব্দুল আউয়াল কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শারদীয় দুর্গাপূজার উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

পাইকগাছায় এনজিও বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় এনজিও বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

এম জালাল উদ্দীন | খুলনা জেলা প্রতিনিধি 

খুলনার পাইকগাছায় এনজিও বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) ভূমিকা, পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনজিও বিষয়ক মুখ্য উপদেষ্টা ও খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল মজিদ, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা এসএম আমিনুল ইসলাম, ইউনিট সদস্য সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মমিন সানা, মাওলানা শেখ কামাল হোসেন এবং পৌর বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ, পৌর জামাতের সেক্রেটারি মোঃ মিজানুর রহমান।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব পাইকগাছার সাধারণ সম্পাদক এম. জালাল উদ্দীন, সুশীলনের উপজেলা ম্যানেজার মো. আয়ূব আলী, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস শাহ, নবলোকের প্রকল্প কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার, ফ্রেন্ডশিপের প্রকল্প কর্মকর্তা সমরশ্বর সিনহাসহ বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধি, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সাংবাদিক বৃন্দ। 

সভায় সংশ্লিষ্টরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।