খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২ কার্তিক, ১৪৩৩

পাইকগাছায় মাদক সেবন ও জনবিশৃঙ্খলার দায়ে আটক ৯ জন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় মাদক সেবন ও জনবিশৃঙ্খলার দায়ে আটক ৯ জন

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় মাদক সেবনের সময় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুই পিস ইয়াবা ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া গভীর রাতে পৌর এলাকায় জনবিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে আরও ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। আটক নয়জনকে শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের নাসিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মৃত আনসার গাজীর ছেলে আনারুল ইসলাম ওরফে কালু (৪৪)-এর বাড়ি থেকে মাদক সেবনকালে তিনজনকে আটক করা হয়। আটক অন্য দুজন হলেন একই এলাকার মৃত সুবান সানার ছেলে এরশাদ সানা (২৮) এবং নগর শ্রীরামপুর এলাকার মনিরুল মাস্টারের ছেলে আলিমুল ইসলাম (২৩)। পুলিশ জানায়, আটক তিনজনের বিরুদ্ধে সামারি ট্রায়ালের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, গভীর রাতে পাইকগাছা পৌর এলাকায় জনবিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ফেরদাউস গাজী (২২), হাসান গাজী (২৬), আশিকুর রহমান সুজন (২৬), মো. রাকিব (২০), মো. শাহিন শেখ (২৮) ও মো. রাকিব (২৩) নামের আরও ছয়জনকে আটক করা হয়।

পাইকগাছা থানার (ওসি তদন্ত) এসএম মিজানুর রহমান জানান, গভীর রাতে পৌর এলাকায় জনবিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে আটক ছয়জনসহ মোট নয়জনকে শনিবার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আব্দুল আউয়াল কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শারদীয় দুর্গাপূজার উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

গোপালগঞ্জে মোটর সাইকেল-পিকআপ সংঘর্ষে দেহ থেকে হাত বিচ্ছিন্ন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১:৫৪ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গোপালগঞ্জে  মোটর সাইকেল-পিকআপ সংঘর্ষে দেহ থেকে হাত বিচ্ছিন্ন

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

সাইফুল ইসলাম | গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :

গোপালগঞ্জে মোটর সাইকেল ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে হাত হারালেন বসুন্ধরা গ্রুপের মার্কেটিং বিভাগে বিক্রয় প্রতিনিধি হাসিবুর মোল্লা (৩০)।

তিনি জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ধলগ্রামের হোসেন আলী মোল্লার ছেলে। তাঁর ডান হাতটি শরীর থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সংকটজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা রেফার করা হয়েছে।

আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) গোপালগঞ্জ শহরে থেকে বিক্রয় প্রতিনিধি হাসিবুর মোল্লা  মোটর সাইকেলে করে  কোটালীপাড়া যাচ্ছিলেন ।  

গোপালগঞ্জ-কোটালীপাড়া সড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মাঝিগাতি নামকস্থানে বিপরিত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সাথে মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে হাসিবুরের ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

কর্তব্যরত চিকিতসক ডাঃ সাব্বির হোসেন বলেন, এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপোতালে নিয়ে আসে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশংকাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পাইকগাছায় এনজিও বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় এনজিও বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

এম জালাল উদ্দীন | খুলনা জেলা প্রতিনিধি 

খুলনার পাইকগাছায় এনজিও বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) ভূমিকা, পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনজিও বিষয়ক মুখ্য উপদেষ্টা ও খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল মজিদ, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা এসএম আমিনুল ইসলাম, ইউনিট সদস্য সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মমিন সানা, মাওলানা শেখ কামাল হোসেন এবং পৌর বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ, পৌর জামাতের সেক্রেটারি মোঃ মিজানুর রহমান।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব পাইকগাছার সাধারণ সম্পাদক এম. জালাল উদ্দীন, সুশীলনের উপজেলা ম্যানেজার মো. আয়ূব আলী, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস শাহ, নবলোকের প্রকল্প কর্মকর্তা ফারহানা আক্তার, ফ্রেন্ডশিপের প্রকল্প কর্মকর্তা সমরশ্বর সিনহাসহ বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধি, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সাংবাদিক বৃন্দ। 

সভায় সংশ্লিষ্টরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

পাইকগাছায় সুপারির ভরা মৌসুম, জমজমাট হাট-বাজার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২:১৫ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় সুপারির ভরা মৌসুম, জমজমাট হাট-বাজার

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

এম জালাল উদ্দীন | পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি :

খুলনার পাইকগাছায় সুপারির ভরা মৌসুমে জমে উঠেছে হাট-বাজারগুলো। উপজেলার বিভিন্ন হাটে প্রতিদিনই চলছে সুপারি কেনাবেচার ব্যস্ততা। গদাইপুর, আগড়ঘাটা, বাকা, নতুন বাজার, কপিলমুনি, রাড়লী, কাটিপাড়াসহ আশপাশের এলাকার হাটগুলোতে বাগান মালিক, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের পদচারণায় তৈরি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। তবে এ বছর সুপারির ফলন কিছুটা কম হওয়ায় বাজারে সরবরাহ ও দাম নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমের শুরুতে প্রতি কুড়ি সুপারি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে দাম কমে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় নেমে এসেছে। তবে বড় আকারের সুপারি প্রতি কুড়ি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আকার ও মানভেদে দামের এ পার্থক্য দেখা যাচ্ছে বাজারগুলোতে। ফলন তুলনামূলক কম হলেও সুপারির চাহিদা থাকায় ব্যবসায়ীরা কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছা উপজেলায় প্রায় ৪২ হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ। প্রতিটি গাছে গড়ে দুই থেকে চার কাঁদি সুপারি ধরে। কোনো কোনো গাছে ৫০ থেকে ১৫০টি সুপারি পাওয়া যায়, আবার ভালো ফলন হলে কোনো কোনো গাছে ৫০০ থেকে ৬০০টি পর্যন্ত সুপারি ধরে।

লবণাক্তপ্রবণ এ অঞ্চলের মাটি ও পরিবেশে সুপারি চাষ বেশ পরিচিত। উপজেলার গড়ইখালী, গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি ও রাড়লী ইউনিয়নে সুপারি বাগানের আধিক্য রয়েছে। এ ছাড়া চাঁদখালী ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকাতেও সুপারি গাছ দেখা যায়। অনেক বাগান মালিক নিজেদের জমিতে সুপারি চাষ করে বাড়তি আয় করছেন। মৌসুমি এ ফসল স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা জানান, বিভিন্ন হাট থেকে সুপারি সংগ্রহ করে পাইকাররা খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে পাঠাচ্ছেন। কেউ কেউ সরাসরি সুপারি বিক্রি করছেন, আবার অনেকে পরবর্তী সময়ে ভালো দামে বিক্রির আশায় সুপারি গুদামজাত করছেন। কিছু ব্যবসায়ী সুপারি শুকিয়ে কিংবা পানিতে ভিজিয়ে সংরক্ষণ করে পরে বাজারজাত করেন। এভাবে সুপারি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে পরিবহন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমও বেড়েছে।

কাটিপাড়ার বাগান মালিক আবুল হোসেন বলেন, এ বছর সুপারির ফলন তেমন ভালো না। তবে বাজারদর তুলনামূলক ভালো থাকায় খরচ সহ টাকাটা হয়তো বাঁচবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী এম সামাদ হাসান, আজিজুল ইসলাম ও নুরুজ্জামান বলেন, বাজারে সুপারির সরবরাহ কম থাকায় দাম ওঠানামা করছে। আকার ও মান অনুযায়ী সুপারির দাম নির্ধারিত হচ্ছে। এক কুড়িতে ২২০টি সুপারি থাকে, যা স্থানীয়ভাবে ৫৫ গোণ্ডা হিসেবে গণনা করা হয়।

সুপারি কেবল একটি অর্থকরী ফসল নয়, বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেও এর রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। পান খাওয়ার অন্যতম উপাদান হিসেবে সুপারি গ্রামবাংলার মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক ও ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়। কেউ কাঁচা সুপারি, কেউ শুকনো, আবার কেউ পানিতে ভিজিয়ে সংরক্ষণ করা সুপারি খেয়ে থাকেন।

সব মিলিয়ে, ফলন কিছুটা কম হলেও সুপারি ঘিরে পাইকগাছার হাট-বাজারে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।