কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: মাভাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থীসহ একই পরিবারের ৪ জন নিখোঁজ
ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদুর রহমানসহ একই পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ অন্যরা হলেন নাহিদুরের স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি এবং তাদের দুই শিশুকন্যা রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না স্বজনরা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের পাশে অবস্থিত টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের সবার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিখোঁজ নাহিদুর রহমান (৪১) যশোরের মনিরামপুর পৌরসভার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি ঢাকার শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে রাজধানীতে বসবাস করতেন তিনি।
জানা গেছে, নাহিদুর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের (২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী ছিলেন।
রিসোর্টের বুকিং নথি অনুযায়ী, গত ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত দুই রাতের জন্য নাহিদুরের নামে ২০২ নম্বর সুপার ডিলাক্স কক্ষটি বুক করা হয়েছিল। ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায় তাদের রিসোর্ট ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। এ-সংক্রান্ত বুকিং বিলের একটি কপিও রয়েছে।
তবে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে হাসপাতাল, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেও নাহিদুর ও তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি স্বজনরা।
নাহিদুরের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স বলেন, ‘সে শুক্রবার কক্সবাজার যাওয়ার কথা জানিয়েছিল। শনিবার সকালে রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পেয়ে নাহিদুরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করি। কিন্তু ভাই কিংবা তার পরিবারের অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। পরে শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দুই ভাই। মা নেই। অসুস্থ বাবা আমাদের সঙ্গে গ্রামে থাকেন। বাবা এখনো নাহিদুরের খবর জানেন না। তারা বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন, সেটিও নিশ্চিত হতে পারিনি। আমরা খুব উদ্বেগের মধ্যে আছি।’
নাহিদুরের কর্মস্থল গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা রকিবুজ্জামান বলেন, ‘আমি বর্তমানে চীনে রয়েছি। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর আমি ও প্রতিষ্ঠানের অন্যরা নাহিদুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। কিন্তু কেউই তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি।’
এদিকে নাহিদুর ও তার পরিবারের সদস্যদের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়ায় উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন স্বজনরা। তাদের সন্ধান পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন তারা।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন