অপ্রতীম হত্যা মামলার চার্জশিট ২-৩ দিনের মধ্যে: পুলিশ সুপার
ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। এ ঘটনায় তিনজন নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জবানবন্দি দেওয়া তিনজন হলেন সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান।
শনিবার সন্ধ্যায় যুবদলকর্মী আবু কাউছার হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন ও প্রধান দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার অপ্রতীম হত্যা মামলার চার্জশিটের বিষয়ে এ তথ্য জানান।
পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে তুহিন অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলে যায়। পরে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তুহিনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনায় তাকে ওই স্থানে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় ফাহাদ ও তার এক বন্ধুর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পরে অভিযান চালিয়ে ফাহাদকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ফাহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরুলকেও হেফাজতে নেয় পুলিশ।
তুহিনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেল আনুমানিক ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় অপ্রতীম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।
পুলিশ আরও জানায়, অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তুহিন তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলসহ ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
এ ঘটনায় সিয়াম নামে আরও একজন কুমিল্লা কারাগারে রয়েছে। অন্যদিকে ফাহাদ ও কামরুল গাজীপুরের কিশোর সংশোধনাগারে আটক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযুক্তদের পরিচয়
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম তুহিনের বয়স ১৯ বছর। তিনি সদর দক্ষিণ থানার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সানন্দা (মৈশান বাড়ি) এলাকার নুরে আলম ও শিরিনা আক্তারের ছেলে। ২০২৫ সালে কুমিল্লা সিটি কলেজের একাদশ শ্রেণিতে অকৃতকার্য হওয়ার পর তিনি পড়াশোনা ছেড়ে দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদের বয়স ১৫ বছর। তিনি সদর দক্ষিণ থানার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সালমানপুর (মেম্বার বাড়ি) এলাকার মমিন হোসেন ও জুলি আক্তারের ছেলে। তিনি ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
অন্য অভিযুক্ত মো. কামরুল হাসান কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার হাতিগাড়া, কালিবাজার এলাকার আব্দুল কুদ্দুস ও কুলসুম আক্তারের ছেলে।
এ ছাড়া আটক সিয়ামের বয়স ১৯ বছর। তিনি সদর দক্ষিণ থানার এলাহীপুর এলাকার সেলিম মিয়া ও শিরিনা আক্তারের ছেলে। তিনি কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার দৌলতপুর এলাকার আফজাল খান ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, অপ্রতীম হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন