বান্দরবানে ভাল্লুক হত্যা করে ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ, পরিবেশবাদীদের ক্ষোভ
যোগফল প্রতিবেদক:
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় জুমক্ষেতের ফসল রক্ষার নামে একটি বন্য ভাল্লুককে ফাঁদ পেতে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন জুমচাষি যুবকের বিরুদ্ধে। হত্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাল্লুকটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে পরিবেশবাদীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলীকদম সদর ইউনিয়নের ডোওরি পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এলাকাটি আলীকদম ও থানচি উপজেলার মধ্যবর্তী দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত। তবে ঘটনাটি ঠিক কবে ঘটেছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। কেউ বলছেন, গত শনিবার জুমক্ষেতে ঘটনাটি ঘটেছে। আবার স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ঘটনাটি প্রায় দেড় মাস আগের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন যুবককে ভাল্লুক হত্যার পর আনন্দ-উল্লাস করতে দেখা গেছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, পাহাড়ে জুমচাষের ফসল নষ্ট করে বন্য ভাল্লুক। এ ছাড়া ভাল্লুকের আক্রমণে আলীকদমে প্রতিবছর জুমচাষিসহ পাহাড়ি সম্প্রদায়ের অনেকে আহত হন। ফসল রক্ষার জন্য ফাঁদ পেতে ভাল্লুকটিকে ধরে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) লামা উপজেলা সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, বন্য প্রাণী হত্যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এভাবে বন্য প্রাণী হত্যার কারণে বান্দরবান জেলা থেকে ভাল্লুক, হরিণ ও মেছোবাঘসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ছে। ভাল্লুক হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
আলীকদম সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন বলেন, ডোওরি পাড়া আলীকদমের ২৯১ নম্বর তৈনফা মৌজার অন্তর্ভুক্ত। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম। সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে খবরাখবর পাওয়া কঠিন। এ কারণে ভাল্লুক হত্যার ঘটনাটি তিনি আগে শোনেননি।
বন বিভাগের তৈনফা রেঞ্জ কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান বলেন, ছুটিতে থাকায় তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত নন। তবে সংশ্লিষ্ট বনপ্রহরীর মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম বলেন, ভাল্লুক হত্যার বিষয়ে আগে তাঁর জানা ছিল না। প্রতিবেদকের কাছ থেকেই তিনি প্রথম বিষয়টি শুনেছেন। ঘটনাটি বন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের জানিয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন