রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ
ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে সরকার আন্তরিক। এরই ধারাবাহিকতায় বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে মোংলা উপজেলার নারিকেলতলা মাঠে আয়োজিত এক জনসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ প্রমাণ করে, বর্তমান সরকার পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে কতটা আন্তরিক।
সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারি ভবন, স্কুল-কলেজ এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে কেসিসি প্রশাসক বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা অনেক কমবে। এতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ খাতের ওপর আর্থিক চাপও কমে আসবে।
‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ স্লোগানে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন রক্ষা এবং দ্রুত পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের দাবিতে এ জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়। ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা), ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’ ও ‘পশুর রিভার ওয়াটারকিপার’ যৌথভাবে এ সমাবেশের আয়োজন করে।
‘ধরা’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসচিব ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়কারী শরীফ জামিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গবেষক ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী, রিভার বাংলা সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, মোংলা পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মো. জুলফিকার আলী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও শ্রমিকনেতা মাহবুবুর রহমান মানিক এবং কৃষকনেতা বদরুল আলম।
এ ছাড়া সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের নিখিল চন্দ্র ভদ্র, সচেতন ফাউন্ডেশনের মো. হাবিবুর রহমান, মিশন গ্রিন বাংলাদেশের আহসান রনি, হাওর অঞ্চলবাসীর জাকিয়া শিশির, কসমস সংস্থার মেহনাজ মালা, ব্রাইটার্সের সাইদুর রহমান সিয়াম, বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশনের মাসফিকুল হাসান টনি, ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ারের জুবায়ের ইসলাম এবং ওয়েব ফাউন্ডেশনের আসাদুজ্জামান তুহিন সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন