নোয়াখালীতে দেশীয় বন্দুকসহ অস্ত্র তৈরির কারিগর গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত
ছবি সংগৃহীত
ছবি সংগৃহীত
সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর রাজধানীর উপকণ্ঠে তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, যেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই এলাকায় কখনো যাননি তাহসিফ। নিখোঁজ হওয়ার আগে বাসা থেকে ডেকে নেওয়া, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং রাতে পাঠানো শেষ বার্তা ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তাহসিফের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ। তবে তাহসিফ ওই ভিডিও ধারণ বা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, এমন দাবির পক্ষে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে ওই অভিযোগের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।
তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল কালবেলাকে জানিয়েছেন, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যার পর দ্বীপ নামে ছেলের এক জুনিয়র তাঁকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর আর বাসায় ফেরেননি তাহসিফ। পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার ফোন করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে বার্তা পাঠিয়ে তিনি জানান, ‘আম্মু, আমি আসছি।’ পরিবারের সঙ্গে সেটিই ছিল তাঁর শেষ যোগাযোগ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) কালবেলাকে হেলাল বলেন, ঘটনার দিন প্রায় সারা দিন তাহসিফ তাঁর মা হোসনে আরা বিথির সঙ্গে ছিলেন। মা-বাবার জন্য কেনাকাটাও করেছিলেন। সন্ধ্যার পর দ্বীপ নামে এক বন্ধু ও জুনিয়র নিচ থেকে ডাকলে মাকে জানিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান তিনি।
হেলাল বলেন, ‘সে অত্যন্ত জেন্টেল প্রকৃতির, অত্যন্ত সোশ্যাল। সিনিয়র-জুনিয়র সবার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক। যেদিনের ঘটনা, সে সারাদিন তার মায়ের সঙ্গে ছিল, শপিং করেছে, আমার জন্যও কিছু শপিং করেছে। সন্ধ্যার পরে দ্বীপ নামে ওর একটা বন্ধু ছোটভাই ওকে নিচ থেকে ডাকে। সে তার মাকে বলে, মা দ্বীপ আসছে, একটু কথা বলে আসি। এসব বলে নিচে যায়, আর ফেরেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর মধ্যে ওর মা অনেকবার চেষ্টা করেছে, ও ফেরেনি। এবং রাত ১টা ৩৫ মিনিটে সে মেসেজ দিয়েছে, সে আসছে। আম্মু আমি আসছি, এই রকম একটা মেসেজ দিয়েছে। এরপর থেকে তাকে আর লোকেট করতে পারিনি।’
থানায় খোঁজ নেওয়ার পর মিলল মরদেহের খবর
ছেলেকে খুঁজতে বুধবার দুপুরের দিকে তুরাগ থানায় গিয়েছিলেন বলে জানান হেলাল। তাঁর ভাষ্য, সেখানে পুলিশ তাঁকে আশ্বস্ত করেছিল। কিন্তু ওই দিন বিকেলেই উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফোন করে ছেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানান।
হেলাল বলেন, ‘আমি তুরাগ থানায় গিয়েছিলাম বুধবার দুপুরের দিকে। তারা (তুরাগ থানা) বললেন, এমন কোনো ব্যাড নিউজ নাই, আপনি নিশ্চিন্ত থাকেন। সন্ধ্যার আগে, সোয়া ৫টার দিকে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমার সঙ্গে কথা বললেন। আমার নাম, ছেলের নাম নিশ্চিত হয়ে তারপর আমাকে জানালেন যে, নদীতে ডেডবডি পাওয়া গেছে।’
মরদেহ উদ্ধারের স্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটা হলো রাজাবাড়ির ঘাটে। আটিপাড়া দিয়ে যেতে হয়। ওই এলাকায় আমার ছেলে কখনো যায়নি। এখন কারা বা কে তাকে হত্যা করেছে, এটা আমি জানি না।’
পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করা হলেও ময়নাতদন্ত ও তদন্তের ফল ছাড়া তাহসিফের মৃত্যুকে হত্যা বলে নিশ্চিত করার সুযোগ নেই। মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে কী বলেছিলেন তাহসিফ
বিমানবাহিনী থেকে তাহসিফের অব্যাহতির সঙ্গে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, জানতে চাইলে তাঁর বাবা বলেন, পরিবারকে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
হেলাল বলেন, ‘৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের ভিডিও শেয়ার করার কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল কি না, এটা সে আদৌ করেছে কি না, সে বিষয়ে আমাদের জানায়নি। এটা তার ডিপার্টমেন্ট বলতে পারবে। ওর ডিপার্টমেন্ট আমাদের সিম্পলি জানিয়েছে, এটা ডিসিপ্লিন অর্গানাইজেশন, ওর ইনডিসিপ্লিনারি কাজের কারণে ওকে ইস্তফা দেওয়া হয়েছে।’
তাহসিফ কোনো হুমকি পেয়েছিলেন কি না, এমন প্রশ্নে তাঁর বাবা বলেন, ছেলে হুমকি বা প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা সরাসরি জানাননি। তবে সে কিছুটা আশঙ্কিত ছিল বলে জানিয়েছিল।
হেলালের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর তাহসিফ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, নেত্র নিউজ হয়ে সর্বশেষ ভার্গো টোব্যাকোতে কর্মরত ছিলেন তিনি।
ভিডিও নিয়ে অভিযোগকে ‘প্রমাণহীন’ বলেছিলেন তাহসিফ
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও তাহসিফ ধারণ বা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন—এমন আলোচনা আগে থেকেই ছিল। তবে এ বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। মৃত্যুর প্রায় তিন মাস আট দিন আগে প্রকাশিত একটি পডকাস্টে তাহসিফ নিজেই অভিযোগটিকে ‘প্রমাণহীন অভিযোগ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।
গত ২১ জুলাই ‘স্পিক উইথ রশিদ’ নামের একটি চ্যানেলে প্রকাশিত ওই পডকাস্টে নিজের চাকরি ও বিমানবাহিনীর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি। তাঁকে নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনকেও প্রোপাগান্ডা বলে দাবি করেন তাহসিফ।
সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে উপস্থাপক শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময়কার ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করেন। জবাবে তাহসিফ বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে ভিডিওটি তিনি ছড়িয়ে দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হলেও, ভিডিওটি তিনিই ধারণ করেছেন—এমন দাবি করা হয়নি। অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি পাওয়ার সঙ্গে ওই অভিযোগের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, জানতে চাইলে তাহসিফ বলেন, এমনটি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে সবকিছু প্রকাশ করতে পারবেন না বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘যে ঘটনাগুলো ৫ আগস্টের আগে-পরে ঘটেছিল। সবকিছু আমি বলব না। আমারও কিছু অপরাগতা আছে।’
এদিকে, নিজেকে তাহসিফের বন্ধু দাবি করা বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত কে এস এম ইনতিসার ইনজামাম ফেসবুকে দেওয়া এক বক্তব্যে শেখ হাসিনার হেলিকপ্টারে দেশত্যাগের ভিডিও ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে তাহসিফের মৃত্যুর যোগসূত্র থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন। ঘটনাটিকে রাজনৈতিক বলেও মত দেন তিনি। তবে এসব বক্তব্য ব্যক্তিগত সন্দেহ ও ধারণার ভিত্তিতে দেওয়া; এর পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তুরাগ নদ থেকে যেভাবে উদ্ধার হয় মরদেহ
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে উত্তরখান থানার দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।
নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে খবর পেয়ে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা উত্তরখান থানাধীন রাজাবাড়ি ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদে পৌঁছান। পরে সেখান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের সময় তাহসিফের পরনে ছিল সাদা পাজামা ও কালো জামা। তাঁর হাতে একটি ঘড়ি এবং পকেটে আইফোন পাওয়া যায়। পরে সঙ্গে থাকা আইফোনের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তাহসিফের বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে মরদেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত কী ঘটেছিল, তিনি কীভাবে তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালেন এবং তাঁর মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম
ছবি সংগৃহীত
প্রকল্প অনুমোদনের পর বাস্তবায়নে বছরের পর বছর সময়ক্ষেপণ গ্রহণযোগ্য নয়। আগামী দুই মাসের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ব্যর্থ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা ওয়াসা ভবনের সম্মেলনকক্ষে সংস্থাটির সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
প্রতিমন্ত্রী চলমান প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, দাসেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় পাইপলাইন সংযোগ প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি পূর্বাচল এলাকায় পানি সরবরাহের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের নির্দেশ দেন তিনি।
ওয়াসার বোর্ড ব্যবস্থা প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমান আইনে ওয়াসাগুলোতে বোর্ড গঠনের বিধান থাকলেও সরকার যেকোনো সময় তা গঠন বা ভেঙে দিতে পারে। মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে ওয়াসা বোর্ডের অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ জনসেবামূলক কার্যক্রমের গতি কমিয়ে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আইন সংশোধন করে দেশের সব ওয়াসা থেকে বোর্ড তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
ঢাকা ওয়াসার কার্যক্রমের ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীতে প্রতিদিন পানির চাহিদা ও সরবরাহ উভয়ই ৩১৪ কোটি লিটার। জনসংখ্যা ও বাসাবাড়ির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু গত সাত মাসে ওয়াসার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য নতুন উদ্ভাবন বা প্রকল্প বাস্তবায়নে দৃশ্যমান গতি দেখা যায়নি, যা দুঃখজনক।
তিনি বলেন, পানির সংকট তৈরি হলে এর দায় সরকারের ওপরই বর্তায়। তাই নগরবাসীর পানির চাহিদা পূরণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
পানির উৎসের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার সরবরাহ করা পানির ৭৪ শতাংশ ভূগর্ভস্থ এবং ২৬ শতাংশ উপরিভাগের উৎস থেকে আসে। ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমানো এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস করতে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার ২০ থেকে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে উপরিভাগের পানিনির্ভর প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি।
ঢাকা ওয়াসার আর্থিক সক্ষমতা ও আধুনিকায়নের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, সেবার মান বজায় রেখে নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। এতে বিদেশি ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব তহবিল থেকে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
তিনি মিটার রিডিং ও বিলিং কার্যক্রমে অটোমেশন জোরদারের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ২০৫০ সালের পানির চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা ওয়াসার আধুনিকায়নে নতুন ও পূর্ণাঙ্গ জনবল কাঠামো বা অর্গানোগ্রাম তৈরি করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলেন।
শহরের অবৈধ ও চোরাই পানির সংযোগ চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব কর্মকাণ্ডে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা জড়িত থাকলেও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে হবে। সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে দলীয় বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের সেবা ব্যাহত করা যাবে না বলে সিবিএ ও কর্মচারী সংগঠনগুলোকেও সতর্ক করেন তিনি।
পানির অপচয় রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। ব্রাশ করা বা শেভ করার সময় অপ্রয়োজনে পানির কল খোলা না রাখা এবং সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর নির্দেশ দেন তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, আগামী দুই মাস পর তিনি আবারও ঢাকা ওয়াসার কার্যক্রম পর্যালোচনা করবেন। এর মধ্যে দৃশ্যমান ও আমূল পরিবর্তন দেখতে চান তিনি, যাতে নগরবাসী পানির বিষয়ে স্বস্তি পান।
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী সমিতি, ডিপ্লোমা অ্যাসোসিয়েশন, সিবিএর নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম
ছবি সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ঢুকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জুয়েল হোসেন নিরবকে পেটানোর ঘটনায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা আব্দুর রহমান শাহেদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী। এর আগে রাত ৮টার দিকে শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার আব্দুর রহমান শাহেদ লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাঞ্চানগর এলাকার ফিরোজ আলমের ছেলে। তিনি দালালবাজার ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ছাত্রদলের আহ্বায়ক ছিলেন। তবে জুয়েলকে পেটানোর ঘটনায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তাঁকে ছাত্রদল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী জুয়েল হোসেন নিরব লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি। তিনি সাহাপুর এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ফোন কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে জুয়েল ও শাহেদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে রোববার রাতে সাহাপুর এলাকায় একটি বৈঠক হয়। সেখানে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জুয়েলের ওপর হামলা করেন। তাঁকে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয়।
পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসা নিতে জুয়েল লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গেলে শাহেদের নেতৃত্বে তাঁর ওপর আবারও হামলা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তাঁকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারার পাশাপাশি জরুরি বিভাগে থাকা কাঠের চেয়ার দিয়ে পেটানো হয়। এতে তিনি আহত হন।
এ সময় হাসপাতালের আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়। পরে জুয়েলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় সোমবার রাতে জুয়েলের বাবা মো. শাহজাহান বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় শাহেদসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, মামলার প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
আপনার মতামত লিখুন