নওগাঁয় পিকআপে ছিনতাইয়ের ঘটনায় কৃষকদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩, উদ্ধার ৯ লাখ টাকা
ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নওগাঁর মহাদেবপুরে ভাঙারি ব্যবসায়ীর পিকআপে ছিনতাইয়ের ঘটনায় রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় কৃষকদল নেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় পিকআপচালক নিজেও জড়িত ছিলেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এর আগে মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে নওগাঁ-মহাদেবপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মহাদেবপুর উপজেলার চৌদ্দমাইল ব্রিজ এলাকায় এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পরে ওই রাতেই যৌথ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মহাদেবপুর উপজেলা কৃষক দলের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও ঈশ্বরলক্ষীপুর গ্রামের মৃত ইয়াদ আলীর ছেলে রবিন (২৫), রামচরনপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মুন্না (২৪) এবং ডিমজাউন গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে পিকআপচালক সোহেল রানা (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার রাঘববাড়িয়া গ্রামের আব্দুল বারি মণ্ডলের ছেলে আব্দুল আলিম (৩৪) মহাদেবপুরে নাসির মাস্টারের দোকান ভাড়া নিয়ে ভাঙারির ব্যবসা করেন। মঙ্গলবার তাঁর দোকানের ম্যানেজার ও চাচাতো ভাই মজনু মিয়া (৩৫) এবং পিকআপচালক সোহেল রানা বগুড়া থেকে ভাঙারি বিক্রির ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা নিয়ে মহাদেবপুরে ফিরছিলেন।
পথে চৌদ্দমাইল ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে পিকআপটি বিকল হয়ে যায়। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা ছিনতাইকারীরা চালক সোহেলকে হালকা মারধর এবং ম্যানেজার মজনু মিয়াকে ব্যাপক মারধর করে। পরে তাঁদের কাছ থেকে ভাঙারি বিক্রির নগদ ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
তাঁদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মজনু মিয়াকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে মহাদেবপুর থানা পুলিশ ও নওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে থানা পুলিশ ও ডিবির সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল রাতভর অভিযান চালায়।
প্রযুক্তি ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রথমে মুন্নাকে তাঁর গ্রামের বাড়ি রামচন্দ্রপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর বাড়ি থেকে ছিনতাই হওয়া ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। মুন্নার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবিনকে তাঁর ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বাড়ি থেকে আরও ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত নিবন্ধনবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পরে রবিন ও মুন্নার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভুক্তভোগী হিসেবে পরিচয় দেওয়া পিকআপচালক সোহেল রানাকে নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ছিনতাইয়ের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন চালক সোহেল রানা ও মুন্না। আর ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রধান ভূমিকা পালন করেন রবিন। তাঁরা তিনজনই গত এক সপ্তাহ ধরে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করছিলেন।
তিনি আরও বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশ সড়কে ছিনতাই ও ডাকাতিসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ আইন অনুযায়ী কঠোর হাতে দমন করবে।
এদিকে মহাদেবপুর উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি বলেন, উপজেলা কৃষক দলের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রবিনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন