খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক, ১৪৩৩

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ জামায়াতের ১৫ দফা দাবি

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ জামায়াতের ১৫ দফা দাবি

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত এবং শিল্পের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দ্রুত ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণসহ ১৫ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, একের পর এক কারখানা বন্ধ এবং লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কেবল শ্রমিক-মালিক বিরোধের বিষয় নয়; এটি দেশের শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি বাণিজ্য, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং জাতীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকট।

তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াত এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসের ব্যয় বাড়লেও শ্রমিকদের আয় ও জীবনমানের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি। ফলে একজন শ্রমিকের মাসিক আয়ে নিজের ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় শ্রমিকরা ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করছেন।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি তার অধিকার। শ্রমিকের জীবনমান উপেক্ষা করে শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ডের প্রথম সভার প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, শ্রমিকদের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয়, বাজারদর, পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও মৌলিক চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে বোর্ড নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য সুপারিশ দেবে বলে তারা আশা করেন। শ্রমিকদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে দ্রুত ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, যানবাহনে হামলা ও উৎপাদন ব্যাহত করার মতো কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, কারখানা ধ্বংস করে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায় না। এতে শ্রমিকরা কর্মসংস্থান হারান, মালিকেরা বিনিয়োগ হারান এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয় জাতীয় অর্থনীতি।

চলমান শ্রম অসন্তোষকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও শ্রমিকলীগসহ রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী কোনো মহল উসকানি বা নাশকতার চেষ্টা করছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে শ্রমিকদের আন্দোলন দমনের নামে হয়রানি, নির্যাতন ও গণগ্রেপ্তার বন্ধের আহ্বান জানান।

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখের মৃত্যুর ঘটনাও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, কারা দায়ী এবং কোন পরিস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। দায়ীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা এবং নিহত ও আহতদের পরিবারকে যথাযথ সহায়তা দিতে হবে।

পোশাকশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিজিএমইএ ও সংশ্লিষ্ট শিল্প সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মিরপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে সহস্রাধিক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। শত শত কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে হাজার হাজার শ্রমিক কাজে যোগ দিতে পারেননি।

এ ছাড়া গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে শতাধিক পোশাক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে এবং প্রায় ৬২ হাজার শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিদেশি ক্রয়াদেশ বাতিল, পণ্য সরবরাহে ব্যর্থতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সরকারের প্রতি জামায়াতের ১৫ দফা দাবি:

1. শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও মৌলিক চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি নির্ধারণ এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর করতে হবে।

2. গাজীপুরে নিহত শ্রমিক তৌফিক শেখের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা ও নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

3. কারখানা ও যানবাহনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নাশকতায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

4. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে শ্রমিকদের ওপর অযাচিত বলপ্রয়োগ, নির্যাতন, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করতে হবে।

5. গ্রেপ্তার হওয়া নিরপরাধ শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের মুক্তি দিতে হবে এবং হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

6. রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয়ে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

7. শ্রমিক, কারখানা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহনের নিরাপত্তায় শিল্পাঞ্চলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

8. সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে অবিলম্বে কার্যকর সংলাপের আয়োজন করতে হবে।

9. শ্রমিকদের আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগ বা অন্য কোনো মহলের উসকানি ও নাশকতার চেষ্টা থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তা প্রতিরোধ করতে হবে।

10. বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত চালু করে শ্রমিকদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

11. অন্যায় ও বেআইনিভাবে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে। কালো তালিকাভুক্ত শ্রমিকদের বিষয়টি পর্যালোচনা করে পুনরায় কাজের সুযোগ দিতে হবে।

12. শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, ভাতা, ওভারটাইম ও অন্যান্য আইনগত পাওনা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।

13. শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ন্যায্যমূল্যে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করতে হবে।

14. নারী শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

15. পোশাকশিল্প, শ্রমিকদের চাকরি, মালিকদের বিনিয়োগ ও জাতীয় অর্থনীতি রক্ষায় শ্রমিক-মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন, শ্রমিক হত্যার সুষ্ঠু বিচার, নিরপরাধ শ্রমিকদের মুক্তি এবং বন্ধ কারখানাগুলো চালুর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। মালিকদেরও শ্রমিকদের প্রতিপক্ষ নয়, বরং শিল্পের অপরিহার্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আনম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

বাউবি ও IIUM-এর মধ্যে একাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৫:০৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাউবি ও IIUM-এর মধ্যে একাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা

ছবি বাউবি

যোগফল প্রতিবেদন ।। অনলাইন

 

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) এবং ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া (IIUM)-এর মধ্যে একাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা আজ ৫ নভেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার বাউবির মাননীয় উপাচার্যের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়।

 

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যার বিবেচনায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং উন্মুক্ত, দূরশিক্ষণ ও নমনীয় পদ্ধতিতে শিক্ষা প্রদানে দেশের একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের ১২টি আঞ্চলিক কেন্দ্র, ৬৩টি উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্র ও প্রায় ১,৫০০টি স্টাডি সেন্টারের মাধ্যমে বাউবি শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করছে।

 

সাতটি স্কুলের অধীনে বহুমুখী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি গবেষণা, পিএইচডি প্রোগ্রাম, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে বিশ্ববিদ্যালয়টি কাজ করছে। তিনি IIUM-এর সঙ্গে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক বিনিময় এবং জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে একটি ফলপ্রসূ, টেকসই ও পারস্পরিক সহযোগিতামূলক একাডেমিক সম্পর্ক গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন”।

 

সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন IIUM এর ডেপুটি রেক্টর (গবেষণা, উদ্ভাবন ও উন্নয়ন) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আসলাম বিন মোহাম্মদ হানিফ, IIUM অফিস অব দ্য স্ট্র্যাটেজিক ইনস্টিটিউশন ট্রান্সফরমেশন এর প্রিন্সিপাল ডিরেক্টর প্রফেসর ড. শুকরান বিন আবদ রহমান এবং IIUM অফিস অব দ্য ডেপুটি রেক্টর এর স্পেশাল অফিসার ও সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম, বিভিন্ন স্কুলের ডিন, উপাচার্যের একান্ত সচিব ও প্রশিক্ষণ ও গবেষণা বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন।

 

আলোচনা সভায় উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ সাধনে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয়।


আইসিএপিপির অধিবেশনের ভাইস চেয়ারপারসন নির্বাচিত বিএনপি নেতা ইসমাইল জবিউল্লাহ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আইসিএপিপির অধিবেশনের ভাইস চেয়ারপারসন নির্বাচিত বিএনপি নেতা ইসমাইল জবিউল্লাহ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

এশিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজের (আইসিএপিপি) ১৩তম সাধারণ অধিবেশনের ভাইস চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের দ্য শিলা সিউল হোটেলে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। দেশটির ক্ষমতাসীন মিনজু (ডেমোক্রেটিক) পার্টি ও বিরোধী দল পিপল পাওয়ার পার্টি যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সম্মেলনে বিএনপির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইসমাইল জবিউল্লাহ। উদ্বোধনের পর প্রথম প্ল্যানারি অধিবেশনে বক্তব্যে তিনি বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত ও আস্থার সংকট মোকাবিলায় গণতন্ত্র, সুশাসন, আইনের শাসন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।

‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে আস্থা পুনর্গঠন’ প্রতিপাদ্যকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারস্পরিক আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। গণতন্ত্র কেবল নির্বাচনি প্রক্রিয়া নয়, বরং জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রক্ষমতায় দায়িত্ব পালনকারীদের একটি সামাজিক চুক্তি। এর ভিত্তি হতে হবে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা, আইনের শাসন ও মৌলিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা।

ফিলিস্তিনসহ মধ্যপ্রাচ্যের মানবিক বিপর্যয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ভূরাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে মানবজীবনের মর্যাদাকে স্থান দিতে হবে। আন্তর্জাতিক নীতি ও আদর্শ কোনো বৈষম্য ছাড়াই সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে।

আন্তমহাদেশীয় রাজনৈতিক সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান অস্থির বিশ্বে বিভিন্ন মহাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ইউরোপের অস্থিরতা থেকে এশিয়া বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না, একইভাবে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাব থেকেও ইউরোপ মুক্ত থাকতে পারে না। বিএনপি এ ধরনের সংলাপে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে আগ্রহী।

অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের এমনভাবে অন্য দেশের রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করা উচিত নয়, যাতে সংশ্লিষ্ট দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হয়। এ সময় আন্তসীমান্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রতিরোধে আইসিএপিপির কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি।

ইসমাইল জবিউল্লাহ আরও বলেন, বিশ্বের ভবিষ্যৎ কেবল জবরদস্তি কিংবা সম্পদের ওপর নির্ভর করবে না; আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখতে কতটা সক্ষম, তার ওপরও নির্ভর করবে।

বাংলাদেশ ও বিএনপির পক্ষ থেকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আস্থা পুনর্গঠনকে শুধু রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে নয়, বরং অভিন্ন ভবিষ্যতের প্রতি স্থায়ী অঙ্গীকার হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

আইসিএপিপির ১৩তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের পাঁচটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। বিএনপির প্রতিনিধিদলে ইসমাইল জবিউল্লাহ ছাড়াও রয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী ও সালাহউদ্দিন আইয়ুবী। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধিদলে রয়েছেন মুহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মনিরা শারমিন ও মো. আলাউদ্দিন।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিদলে রয়েছেন মো. মমতাজ উদ্দিন ও মো. আলাহান উদ্দিন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন কেএম বিল্লাল ও মো. রাজন সিকদার।

এশিয়ার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংলাপ জোরদার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে অভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে আয়োজিত এ সম্মেলন চলবে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত। সম্মেলন-পরবর্তী ৭ নভেম্বর অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

বেনাপোল ইমিগ্রেশনে স্টপলিস্টে নাম, যুবলীগ নেতা আটক

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৪৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বেনাপোল ইমিগ্রেশনে স্টপলিস্টে নাম, যুবলীগ নেতা আটক

ছবি: কালবেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশনে স্টপলিস্টে নাম থাকায় হিমাংশু পাল নামে এক যুবলীগ নেতাকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে তাকে আটক করা হয়।

আটক হিমাংশু পাল বাগেরহাটের স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি হাড়িখালী এলাকার বাসিন্দা অমলেন্দু পালের ছেলে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হিমাংশু পালের বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে।

বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন জানান, তাকে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের হেফাজতে সাময়িকভাবে রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। পরে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদ তিতুমির বলেন, ইমিগ্রেশনে আটক যুবলীগ নেতাকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাগেরহাট সদর থানায় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা থাকায় তাকে ওই থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তি বর্তমানে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বাগেরহাট সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম