খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক, ১৪৩৩

সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে সংস্কার বাস্তবায়নে‘র নতুন কমিটির প্রস্তুতি ১১ দলের

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে সংস্কার বাস্তবায়নে‘র নতুন কমিটির প্রস্তুতি ১১ দলের

ছবি সংগৃহীত

যোগফল প্রতিবেদন ।। অনলাইন


গণভোটের রায় ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন একটি জাতীয় কমিটি গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে জনমত তৈরি ও আন্দোলন জোরদার করতে প্রস্তাবিত এই কমিটিতে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি জোটভুক্ত দলগুলোর দ্বিতীয় সারির নেতা ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদেরও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা বলছেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে জনমত গঠন, বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় ও মাঠের কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোই হবে এই কমিটির মূল লক্ষ্য।

জামায়াত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৭ অক্টোবর রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে কমিটি গঠনের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। কমিটির সদস্য ও কার্যক্রম নিয়ে একটি খসড়া রূপরেখাও তৈরি হয়েছে।

বিরোধী জোটের একাধিক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতা জানান, ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি’ বা ‘সংস্কার বাস্তবায়ন পরিষদ’ নামে এই কাঠামো গঠনের আলোচনা চলছে। কমিটি ১৫ থেকে ২১ সদস্যের হতে পারে। তবে কমিটির নাম, সদস্যসংখ্যা ও কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতাদের পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

তাঁরা জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিরোধী দলের এমপিরা শপথ নিয়েছেন। সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়ে করা অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তাঁদের দায়িত্ব রয়েছে। সে দায়িত্ব পালনের উদ্যোগ হিসেবেই জাতীয় কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

জামায়াতের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা যেহেতু সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়েছি, আমাদের একটা দায়িত্ব আছে। আমরা চুপচাপ বসে থাকতে পারি না। সে জন্য সংস্কার বাস্তবায়ন পরিষদ গঠনের আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।’

১১-দলীয় ঐক্যভুক্ত একটি দলের শীর্ষস্থানীয় একজন নেতা বলেন, এ মুহূর্তে জনগণকে সচেতন করা ছাড়া বিরোধী দলের সে অর্থে অন্য কিছু করার নেই। সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনই এই কমিটি গঠনের উদ্দেশ্য। সরকারও যেন ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সংস্কার পরিষদ গঠন করে।

যাঁদের নাম আলোচনায়:

প্রস্তাবিত কমিটিতে রাখার বিষয়ে যাঁদের নাম আলোচনায় আছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান (মোমেন), জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আইনজীবী শিশির মনির, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি তাসমিয়া প্রধান এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমের নামও আলোচনায় রয়েছে। রোকেয়া বেগম সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য।

বিরোধী জোটের নেতারা মনে করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা কোনো একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সে কারণে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনেও রাজনৈতিক দলের বাইরের মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে চান তাঁরা। শহীদ পরিবার, জুলাই যোদ্ধা ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁদের।

কমিটির কাজ কী হবে:

সূত্র জানায়, জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সভা, সারা দেশে গণসংযোগ, আইনজীবী, কূটনীতিক, শিক্ষকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করা হতে পারে। মাঠের কর্মসূচিও থাকতে পারে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধনের পথে এগোচ্ছে, তা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নয়। তাঁর মতে, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমেই এগোতে হবে। সে দাবি সামনে রেখেই নতুন কমিটির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সংস্কার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে মতবিরোধ:

গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে বৈধ ভোটের ৬৮ শতাংশ সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের পক্ষে পড়ে। কিন্তু সংস্কার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদা শপথ নেননি। অন্যদিকে জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিরোধী দলের সদস্যরা এই শপথ নিয়ে গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে অনড় রয়েছেন।

এই মতভিন্নতার মধ্যে গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করে। বিরোধীদলীয় প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হয়। কমিটিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে বিরোধী দল এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধনের পথে এগোচ্ছে, তা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নয়। তাঁর মতে, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমেই এগোতে হবে। সে দাবি সামনে রেখেই নতুন কমিটির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

পাইকগাছা হাসপাতালে রোগীদের উন্নত খাবার পরিবেশন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৯:২৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছা হাসপাতালে রোগীদের উন্নত খাবার পরিবেশন

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে খুলনার পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবসটি উপলক্ষে এদিন দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত থেকে রোগীদের মাঝে খাবার পরিবেশন করেন জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার (ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার) ডা. মো. আবু জাফর।

অনুষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ।

দিবসটি উপলক্ষে রোগীদের মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের এ উদ্যোগে সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ হাসপাতালের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

গাজীপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গাজীপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে

ছবি যোগফল

যোগফল প্রতিবেদন | অনলাইন

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেনের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় চলতি বছরের গত ২৪ সেপ্টেম্বর গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই তরুণী।

ভিকটিম গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর এলাকার বাসিন্দা। তরুণী'র অভিযোগ, ওসি ও তার লোকজনের হুমকির কারণে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে তরুণীসহ তার পরিবার।

অভিযোগ দেওয়ার প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

অভিযোগে ওই তরুণী বলেন, দীর্ঘ ১ বছর ৫ মাস আগে ওসি ইফতেখার হোসেন কাশিমপুর থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় ওই তরুণী ব্যক্তিগত অভিযোগ নিয়ে কাশিমপুর থানায় যান।

সেই সুযোগে ওসি ইফতেখার হোসেন তার (ভিকটিমের) মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন এবং মোবাইলের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

অভিযোগে বলা হয়, সম্পর্ক চলাকালীন ওসি ইফতেখার হোসেন নিজেকে অবিবাহিত দাবি করেন এবং ওই তরুণীকে বিয়ে করার নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি দেন। দীর্ঘদিন ওসি ইফতেখার হোসেন তার বন্ধু সোহেলের বাসায় আমাকে (ভিকটিম) নিয়ে যেতেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক (ধর্ষণ) করতেন। ওসি ইফতেখারের এ অপরাধের সঙ্গে সোহেল সরাসরি জড়িত।

সে আমাকে নিয়মিত ওসির সঙ্গে দেখা করানোর জন্য নিয়ে যেত এবং ওসির জন্য তার নিজের বাসাকে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করতে দিত। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে ওসি ইফতেখার আমাকে ৫ বছর অপেক্ষা করতে বলেন। পরে সর্বশেষ বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।

অভিযোগে ওই তরুণী আরো বলেন, এ ঘটনা জানার পর ওসি ইফতেখার হোসেনের বাবা আমাকে ফোন করে পরিবারের চরম আর্থিক অসচ্ছলতা নিয়ে কটূক্তি ও অপমান করেন। ওসির বাবার এই দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় ওসি ইফতেখার নিজে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল, মানসিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।

তিনি আরো বলেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর ওসি ইফতেখার হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার বন্ধু সোহেল এবং তার কথিত এক আংকেলকে আমার বাসায় পাঠান। এ সময় তারা আমাকে চরম ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ওসির বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত কল রেকর্ড ও মেসেজ ডিলিট করে দেয়।

বর্তমানে ওসি ইফতেখার এবং তার সহযোগী সোহেল ক্ষমতার অপব্যবহার করে যেকোনো সময় আমার ও পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। এ ছাড়া মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিতে পারে। ওসি আমার মা-বাবাকে বার্তা পাঠায় যেন আমাকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় এবং সে বিয়ের কিছু টাকা দেবে।

দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পোশাক ব্যবহারকারী ওসি ইফতেখার হোসেন এবং সোহেলের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ওই তরুণী।

ওই তরুণী বলেন, কমিশনার সাহেবের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে ওসি ইফতেখার হোসেন আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক (ধর্ষণ) করেছে। বাসা থেকেও বের হতে পারছি না তাদের ভয়ে। আমি এর বিচার চাই।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, এগুলো সব কথা মিথ্যা।
গাজীপুর মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান জানান, একটি অভিযোগ পেয়েছি। এটা তদন্তে আছে। অভিযোগ পাওয়ার পর একজন অফিসার নিয়োগ করা আছে, সে তদন্ত করে রিপোর্ট দিলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

কোম্পানীগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপিড়নের অভিযোগ স্থানীয় মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কোম্পানীগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপিড়নের অভিযোগ স্থানীয় মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে

ছবি যোগফল

কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি:

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে এক ইমামের বিরুদ্ধে ১৬ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের (যৌন নিপিড়ন) অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত ইমাম গা ডাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দিনগত রাতে উপজেলার বটেরতল গ্রামে ইমামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ওই ইমামের নাম হাফেজ মুফতি নোমান বিন রব্বানী (৩৫)। তিনি উপজেলার বটেরতল গ্রামের গোলাম রব্বানীর ছেলে এবং শহীদ স্মৃতি টুকেরবাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ জামে মসজিদের ইমাম। এছাড়াও তিনি দারুল আরক্বাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসা কোম্পানীগঞ্জের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা শানে সাহাবা জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশনের সভাপতি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা সেক্রেটারি, হেফাজতে ইসলামের উপজেলার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভুক্তভোগী ওই মাদ্রাসাছাত্র যুগান্তরকে জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মসজিদে গেলে হুজুর আমাকে বলে মাথায় ব্যথা করতেছে, আমার মাথা টিপে দাও। আমি উনার মাথা টিপে দেই এবং উনি আমাকে এশার নামাজ পড়াতে বলেন। আমি এশার নামাজ পড়াই। এরপর হুজুর বলে তুমি বাড়িতে গিয়ে বলে আস আজ আমার সাথে তোমার দাওয়াত আছে এবং রাতে আমার বাড়িতে থাকবে। দাওয়াত খেয়ে হুজুরের বাড়িতে যাই। সেখানে এক রুমে আমি ও হুজুর এবং অন্য রুমে হুজুরের বউ ঘুমায়। রাতে এক পর্যায়ে হুজুর বললেন উনার পেটে ব্যথা করতেছে, আমি যেন উনার পেটে মালিশ করে দেই। সাথে সাথে আমি মালিশ করে দিলাম।

এরপর হুজুর আমাকে বলাৎকার করে। বিষয়টি কাউকে জানালে আমাকে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। ফজরের সময় হুজুর উনার বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল দিয়ে আমাকে নিয়ে মসজিদে আসেন এবং গোসল না করেই ফজরের নামাজ পড়ান। ফজরের নামাজের পরও তিনি আমাকে দিয়ে উনার পা টেপান। পরে আমি বাড়িতে এসে ঘটনার বিস্তারিত আমার মায়ের কাছে খুলে বলি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী ওই মাদ্রাসাছাত্রের মা যুগান্তরকে বলেন, আজ আমার ছেলের সাথে এমন নোংরা ঘটনা ঘটেছে। আর যেন কারো সাথে এমন ঘটনা না ঘটে এজন্য আমি হুজুরের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

শহীদ স্মৃতি টুকেরবাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল হাশেম বলেন, ভুক্তভোগী আমাকে এবিষয়ে জানিয়েছে। আমি সভাপতি সাহেবকে অবগত করেছি। তিনি ওই ভুক্তভোগীকে দরখাস্ত দিতে বলেছেন। নিয়মানুযায়ী আমাদের যে যে ব্যবস্থা নেওয়া লাগে, তা আমরা নিব।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ উছমান গনি বলেন, খোঁজ খবর নিচ্ছি। এবিষয়ে অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।