খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক, ১৪৩৩

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকাসহ জামায়াতের ১৫ দফা দাবি

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকাসহ জামায়াতের ১৫ দফা দাবি

ছবির ক্যাপশন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন এবং শ্রমিকদের অধিকার ও শিল্পের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দ্রুত ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণসহ ১৫ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, একের পর এক কারখানা বন্ধ এবং লাখ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কেবল শ্রমিক-মালিক বিরোধের বিষয় নয়; এটি দেশের শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি বাণিজ্য, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও জাতীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকট।

তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াত এবং বিদ্যুৎ-গ্যাসের ব্যয় বাড়লেও সেই তুলনায় শ্রমিকদের আয় ও জীবনমানের উন্নতি হয়নি। একজন শ্রমিকের মাসিক আয়ে নিজের ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে পোশাকশ্রমিকরা ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন করছেন।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি তার শ্রমের অধিকার। শ্রমিকের জীবনমান উপেক্ষা করে শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ডের প্রথম সভার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের এই নেতা বলেন, শ্রমিকদের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয়, বর্তমান বাজারদর, পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও মৌলিক চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে বোর্ডকে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য সুপারিশ দিতে হবে। শ্রমিকদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে দ্রুত ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করতে হবে।

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, যানবাহনে হামলা ও উৎপাদন ব্যাহত করার কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানান। তিনি বলেন, কোনো কারখানা ধ্বংস করে শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যায় না। এতে শ্রমিকরা কর্মসংস্থান হারান, মালিকেরা বিনিয়োগ হারান এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয় জাতীয় অর্থনীতি।

চলমান শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও শ্রমিকলীগসহ কোনো রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল উসকানি বা নাশকতার চেষ্টা করছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে শ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলন দমনের নামে হয়রানি, নির্যাতন ও গণগ্রেপ্তার বন্ধের আহ্বান জানান।

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে এবং কারা দায়ী, তা বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা এবং নিহতের পরিবারকে যথাযথ সহায়তা দিতে হবে।

শিল্প খাতের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বিজিএমইএ ও সংশ্লিষ্ট শিল্প সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলমান পরিস্থিতিতে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মিরপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে সহস্রাধিক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। শত শত কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। এ ছাড়া গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে সাম্প্রতিক সময়ে শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে এবং প্রায় ৬২ হাজার শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিদেশি ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ বাতিল, সময়মতো পণ্য সরবরাহে ব্যর্থতা, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হ্রাস এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

জামায়াতের ১৫ দফা দাবি

1. শ্রমিকদের জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা বিবেচনায় পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি নির্ধারণ এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর করতে হবে।

2. গাজীপুরে নিহত শ্রমিক তৌফিক শেখের মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আহতদের চিকিৎসা ও নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

3. কারখানা ও যানবাহনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নাশকতায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

4. শ্রমিকদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অযাচিত বলপ্রয়োগ, নির্যাতন, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করতে হবে।

5. গ্রেপ্তার হওয়া নিরপরাধ শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের মুক্তি এবং হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

6. রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয়ে সাধারণ শ্রমিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

7. শ্রমিক, কারখানা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহনের নিরাপত্তায় শিল্পাঞ্চলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিতে হবে।

8. সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে অবিলম্বে কার্যকর সংলাপের আয়োজন করতে হবে।

9. শ্রমিকদের আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগ বা স্বার্থান্বেষী মহলের উসকানি ও নাশকতার চেষ্টা থাকলে তা তদন্ত করে প্রতিরোধ করতে হবে।

10. বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত চালু করে শ্রমিকদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

11. অন্যায় ও বেআইনিভাবে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং কালো তালিকাভুক্ত শ্রমিকদের পুনরায় কাজের সুযোগ দিতে হবে।

12. শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, ভাতা, ওভারটাইম ও অন্যান্য আইনগত পাওনা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।

13. শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে ন্যায্যমূল্যে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করতে হবে।

14. নারী শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ ও সুরক্ষিত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

15. পোশাকশিল্প, শ্রমিকদের চাকরি, মালিকদের বিনিয়োগ ও জাতীয় অর্থনীতি রক্ষায় শ্রমিক-মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন, শ্রমিক হত্যার সুষ্ঠু বিচার, নিরপরাধ শ্রমিকদের মুক্তি এবং বন্ধ কারখানাগুলো চালুর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পোশাকশিল্পের মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের প্রতিপক্ষ নয়, শিল্পের অপরিহার্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পাইকগাছা হাসপাতালে রোগীদের উন্নত খাবার পরিবেশন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৯:২৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছা হাসপাতালে রোগীদের উন্নত খাবার পরিবেশন

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে খুলনার পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবসটি উপলক্ষে এদিন দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত থেকে রোগীদের মাঝে খাবার পরিবেশন করেন জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার (ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার) ডা. মো. আবু জাফর।

অনুষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ।

দিবসটি উপলক্ষে রোগীদের মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের এ উদ্যোগে সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ হাসপাতালের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

গাজীপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গাজীপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে

ছবি যোগফল

যোগফল প্রতিবেদন | অনলাইন

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেনের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় চলতি বছরের গত ২৪ সেপ্টেম্বর গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই তরুণী।

ভিকটিম গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর এলাকার বাসিন্দা। তরুণী'র অভিযোগ, ওসি ও তার লোকজনের হুমকির কারণে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে তরুণীসহ তার পরিবার।

অভিযোগ দেওয়ার প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

অভিযোগে ওই তরুণী বলেন, দীর্ঘ ১ বছর ৫ মাস আগে ওসি ইফতেখার হোসেন কাশিমপুর থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় ওই তরুণী ব্যক্তিগত অভিযোগ নিয়ে কাশিমপুর থানায় যান।

সেই সুযোগে ওসি ইফতেখার হোসেন তার (ভিকটিমের) মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন এবং মোবাইলের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

অভিযোগে বলা হয়, সম্পর্ক চলাকালীন ওসি ইফতেখার হোসেন নিজেকে অবিবাহিত দাবি করেন এবং ওই তরুণীকে বিয়ে করার নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি দেন। দীর্ঘদিন ওসি ইফতেখার হোসেন তার বন্ধু সোহেলের বাসায় আমাকে (ভিকটিম) নিয়ে যেতেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক (ধর্ষণ) করতেন। ওসি ইফতেখারের এ অপরাধের সঙ্গে সোহেল সরাসরি জড়িত।

সে আমাকে নিয়মিত ওসির সঙ্গে দেখা করানোর জন্য নিয়ে যেত এবং ওসির জন্য তার নিজের বাসাকে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করতে দিত। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে ওসি ইফতেখার আমাকে ৫ বছর অপেক্ষা করতে বলেন। পরে সর্বশেষ বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।

অভিযোগে ওই তরুণী আরো বলেন, এ ঘটনা জানার পর ওসি ইফতেখার হোসেনের বাবা আমাকে ফোন করে পরিবারের চরম আর্থিক অসচ্ছলতা নিয়ে কটূক্তি ও অপমান করেন। ওসির বাবার এই দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় ওসি ইফতেখার নিজে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল, মানসিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।

তিনি আরো বলেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর ওসি ইফতেখার হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার বন্ধু সোহেল এবং তার কথিত এক আংকেলকে আমার বাসায় পাঠান। এ সময় তারা আমাকে চরম ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ওসির বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত কল রেকর্ড ও মেসেজ ডিলিট করে দেয়।

বর্তমানে ওসি ইফতেখার এবং তার সহযোগী সোহেল ক্ষমতার অপব্যবহার করে যেকোনো সময় আমার ও পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। এ ছাড়া মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিতে পারে। ওসি আমার মা-বাবাকে বার্তা পাঠায় যেন আমাকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় এবং সে বিয়ের কিছু টাকা দেবে।

দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পোশাক ব্যবহারকারী ওসি ইফতেখার হোসেন এবং সোহেলের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ওই তরুণী।

ওই তরুণী বলেন, কমিশনার সাহেবের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে ওসি ইফতেখার হোসেন আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক (ধর্ষণ) করেছে। বাসা থেকেও বের হতে পারছি না তাদের ভয়ে। আমি এর বিচার চাই।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, এগুলো সব কথা মিথ্যা।
গাজীপুর মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান জানান, একটি অভিযোগ পেয়েছি। এটা তদন্তে আছে। অভিযোগ পাওয়ার পর একজন অফিসার নিয়োগ করা আছে, সে তদন্ত করে রিপোর্ট দিলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

কোম্পানীগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপিড়নের অভিযোগ স্থানীয় মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কোম্পানীগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপিড়নের অভিযোগ স্থানীয় মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে

ছবি যোগফল

কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি:

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে এক ইমামের বিরুদ্ধে ১৬ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের (যৌন নিপিড়ন) অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত ইমাম গা ডাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দিনগত রাতে উপজেলার বটেরতল গ্রামে ইমামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ওই ইমামের নাম হাফেজ মুফতি নোমান বিন রব্বানী (৩৫)। তিনি উপজেলার বটেরতল গ্রামের গোলাম রব্বানীর ছেলে এবং শহীদ স্মৃতি টুকেরবাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ জামে মসজিদের ইমাম। এছাড়াও তিনি দারুল আরক্বাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসা কোম্পানীগঞ্জের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা শানে সাহাবা জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশনের সভাপতি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা সেক্রেটারি, হেফাজতে ইসলামের উপজেলার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভুক্তভোগী ওই মাদ্রাসাছাত্র যুগান্তরকে জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মসজিদে গেলে হুজুর আমাকে বলে মাথায় ব্যথা করতেছে, আমার মাথা টিপে দাও। আমি উনার মাথা টিপে দেই এবং উনি আমাকে এশার নামাজ পড়াতে বলেন। আমি এশার নামাজ পড়াই। এরপর হুজুর বলে তুমি বাড়িতে গিয়ে বলে আস আজ আমার সাথে তোমার দাওয়াত আছে এবং রাতে আমার বাড়িতে থাকবে। দাওয়াত খেয়ে হুজুরের বাড়িতে যাই। সেখানে এক রুমে আমি ও হুজুর এবং অন্য রুমে হুজুরের বউ ঘুমায়। রাতে এক পর্যায়ে হুজুর বললেন উনার পেটে ব্যথা করতেছে, আমি যেন উনার পেটে মালিশ করে দেই। সাথে সাথে আমি মালিশ করে দিলাম।

এরপর হুজুর আমাকে বলাৎকার করে। বিষয়টি কাউকে জানালে আমাকে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। ফজরের সময় হুজুর উনার বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল দিয়ে আমাকে নিয়ে মসজিদে আসেন এবং গোসল না করেই ফজরের নামাজ পড়ান। ফজরের নামাজের পরও তিনি আমাকে দিয়ে উনার পা টেপান। পরে আমি বাড়িতে এসে ঘটনার বিস্তারিত আমার মায়ের কাছে খুলে বলি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী ওই মাদ্রাসাছাত্রের মা যুগান্তরকে বলেন, আজ আমার ছেলের সাথে এমন নোংরা ঘটনা ঘটেছে। আর যেন কারো সাথে এমন ঘটনা না ঘটে এজন্য আমি হুজুরের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

শহীদ স্মৃতি টুকেরবাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল হাশেম বলেন, ভুক্তভোগী আমাকে এবিষয়ে জানিয়েছে। আমি সভাপতি সাহেবকে অবগত করেছি। তিনি ওই ভুক্তভোগীকে দরখাস্ত দিতে বলেছেন। নিয়মানুযায়ী আমাদের যে যে ব্যবস্থা নেওয়া লাগে, তা আমরা নিব।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ উছমান গনি বলেন, খোঁজ খবর নিচ্ছি। এবিষয়ে অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।