খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক, ১৪৩৩

মামুনুল হকের তিন মুরুব্বিকে ওলীপুরীর ছয় পৃষ্ঠার চিঠি, কওমি অঙ্গনে বিতর্ক

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মামুনুল হকের তিন মুরুব্বিকে ওলীপুরীর ছয় পৃষ্ঠার চিঠি, কওমি অঙ্গনে বিতর্ক

ছবির ক্যাপশন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম) আমির মাওলানা মামুনুল হকের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান ঘিরে কওমি অঙ্গনে মওদুদী ও সালাফি মতাদর্শের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ‘আকিদা, দেওবন্দিয়ত ও কওমি ঐতিহ্যের সুরক্ষায়’ মামুনুল হকের তিন মুরুব্বির কাছে ছয় পৃষ্ঠার একটি লিখিত চিঠি পাঠিয়েছেন হবিগঞ্জের মাদ্রাসা নূরে মদিনার পরিচালক ও আলেম মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী।

সম্প্রতি সিলেটের ঐতিহ্যবাহী আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে খাদিমুল কোরআন পরিষদের তাফসির মাহফিলে মামুনুল হককে অতিথি করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আলেমদের একাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, মামুনুল হক জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রেখেও কওমি সমাজের প্রতিনিধিত্বের দাবি করায় বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।

এ নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসার পর ওলীপুরীর চিঠির বিষয়টি কওমি অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন মামুনুল হকের তিন মুরুব্বি।

চিঠিতে বলা হয়েছে, এর আগে এক বক্তব্যে মামুনুল হক জানিয়েছিলেন, তার কোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে তা যেন তার তিন মুরুব্বির কাছে উপস্থাপন করা হয়। তাদের সিদ্ধান্ত তিনি মেনে চলবেন বলেও জানিয়েছিলেন। সেই নির্দেশনা অনুসারে মিরপুরের মাদ্রাসা দারুর রাশাদের শিক্ষাসচিব মাওলানা লিয়াকত আলী, গাজীপুরের অধ্যক্ষ শাহ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী (দেওনার পীর) এবং বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হকের কাছে চিঠিটি পাঠান ওলীপুরী।

চিঠির বিষয়ে মাওলানা লিয়াকত আলী জানান, চিঠি পাওয়ার সময় তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং কিছুটা ব্যস্ততাও ছিল। তিনজন একসঙ্গে বসে পরামর্শ করে জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চিঠিটি তো মূলত তিনজনকে দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা চেয়েছিলাম তিনজন একসঙ্গে বসে পরামর্শ করে জবাবটা দেব। এখন আমরা তিনজন বসে পরামর্শ করে জবাবটা দেব ইনশাআল্লাহ।’

অন্যদিকে মাওলানা মাহফুজুল হক লিখিত জবাবের পরিবর্তে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, চিঠিতে উত্থাপিত বিষয়গুলো লিখিত জবাব দেওয়ার মতো নয়; বরং সামনাসামনি আলোচনার বিষয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা চিঠি পেয়েছি, তবে চিঠির বিষয়গুলো এমন যে, এটা লিখিত জবাব দেওয়ার মতো কিছু না। এটা হলো সাক্ষাতে কথা বলার মতো বিষয়। ওলীপুরী সাহেব তো ওইরকমভাবে সাক্ষাতে কথা বলার মতো কোনো উদ্যোগ নেননি। আমরা মনে করি এখানে মাওলানা মামুনুল হকসহ সবাই বসে কথা বলা দরকার। তো কোনো সময় সরাসরি সাক্ষাতে বসার উদ্যোগ নিলে ইনশাআল্লাহ আমরা কথা বলব।’

তৃতীয় মুরুব্বি অধ্যক্ষ শাহ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরীও চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে বাইরে অবস্থান করায় পরে বিস্তারিত মতামত জানাবেন বলে জানান তিনি।

চিঠিতে ওলীপুরীর পাঁচটি প্রধান আপত্তি

দীর্ঘ চিঠিতে মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলীপুরী আকিদা ও কওমি-দেওবন্দি আদর্শ রক্ষার বিষয়ে বেশ কিছু তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—

১. আকিদাগত তুলনা ও বিভ্রান্তির আশঙ্কা: মামুনুল হকের একটি বক্তব্যে চার মাজহাব—হানাফি, মালেকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি—এর আকিদার সঙ্গে সালাফি ও মওদুদীবাদের আকিদার তেমন কোনো পার্থক্য নেই বলে উল্লেখ করার বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করেছেন ওলীপুরী। তার দাবি, চার মাজহাবের আকিদার সঙ্গে সালাফি ও মওদুদীবাদীদের আকিদার মৌলিক ও ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। মামুনুল হকের এমন বক্তব্য সাধারণ আলেম ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

২. ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে আপত্তি: নির্বাচনি প্রচারে জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকে ইনসাফ ও ওলামায়ে কেরামের প্রতীক হিসেবে আখ্যা দেওয়ার সমালোচনা করেছেন ওলীপুরী। তার প্রশ্ন, যেসব দল আকাবির, সাহাবা ও সালাফদের সঙ্গে বে-ইনসাফি করেছে বলে তিনি মনে করেন, তাদের প্রতীক কীভাবে আলেমদের প্রতীক হতে পারে।

৩. দেওবন্দি-হানাফি আকিদা সংশোধনের আহ্বান: মামুনুল হকের পক্ষ থেকে দেওবন্দি ও হানাফিদের আকিদা সংশোধনের আহ্বানকে অনভিপ্রেত বলে উল্লেখ করেছেন ওলীপুরী। তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য শত বছরের ঐতিহ্যের ওপর আঘাতের শামিল।

৪. রাজনৈতিক ঐক্যের নজির: মওদুদীবাদীদের সঙ্গে মামুনুল হকের রাজনৈতিক ঐক্যকে শাইখুল হিন্দ (রহ.)-এর কংগ্রেসের সঙ্গে ঐক্যের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপনকে বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন ওলীপুরী। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, মামুনুল হকের বাবা শায়খুল হাদিস মাওলানা আজিজুল হক (রহ.) তাঁর বুখারি শরিফের ব্যাখ্যাগ্রন্থে মওদুদীর বিভিন্ন মতাদর্শের দলিলভিত্তিক খণ্ডন করেছেন। চিঠিতে মওদুদীবাদী বলতে জামায়াতে ইসলামীকে বোঝানো হয়েছে।

৫. ‘আকিদাতুল জিহাদিয়া’ পরিভাষা: জিহাদকে মূল আকিদা হিসেবে উপস্থাপন এবং ‘আকিদাতুল জিহাদিয়া’ পরিভাষা ব্যবহারের শাস্ত্রীয় ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ওলীপুরী। একই সঙ্গে দেওবন্দি আকিদার সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

মাহফিল স্থগিত, পদত্যাগ সভাপতি-সম্পাদকের

সিলেটে খাদিমুল কোরআন পরিষদের তাফসির মাহফিলে মামুনুল হককে অতিথি করা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতবিরোধ থেকেই কওমি অঙ্গনে মওদুদীবাদী মতাদর্শের প্রভাব নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ওলীপুরীর চিঠির বিষয়টি সামনে আসে।

পরিষদের চলতি বছরের তাফসির মাহফিল আগামী ১৯, ২০ ও ২১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে চলমান বিতর্কের কারণে পূর্বনির্ধারিত সময়ে মাহফিল হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এরই মধ্যে সংগঠনটির সভাপতি মাওলানা মাশুক উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আসজাদ পদত্যাগ করেছেন।

পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার আহ্বায়ক কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা এবং নতুন মজলিসে শুরা গঠনের কথা রয়েছে। পরে ১০ নভেম্বর নতুন শুরার বৈঠকে তাফসির মাহফিলের নতুন তারিখ ঘোষণা হতে পারে।

এদিকে তিন মুরুব্বির বক্তব্যে বিষয়টি সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আগ্রহের কথা উঠে এসেছে। এখন ওলীপুরী কিংবা তিন মুরুব্বির উদ্যোগে আনুষ্ঠানিক যৌথ বৈঠক হয় কি না, সেটিই দেখার বিষয়।

উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে মুরুব্বি হিসেবে উল্লেখ করা মাওলানা লিয়াকত আলীকে সম্প্রতি নিজের রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করেছেন মামুনুল হক। তবে মাওলানা মাহফুজুল হক ও অধ্যক্ষ শাহ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরীকে তিনি মুরুব্বি হিসেবে অনুসরণ করেন কি না, তা কালবেলা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি। ওলীপুরীর চিঠি এবং মাহফুজুল হক ও অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান চৌধুরীর বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে তাদের মুরুব্বি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি কালবেলার নিজস্ব কোনো মূল্যায়ন নয়।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পাইকগাছা হাসপাতালে রোগীদের উন্নত খাবার পরিবেশন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৯:২৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছা হাসপাতালে রোগীদের উন্নত খাবার পরিবেশন

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে খুলনার পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবসটি উপলক্ষে এদিন দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত থেকে রোগীদের মাঝে খাবার পরিবেশন করেন জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার (ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার) ডা. মো. আবু জাফর।

অনুষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ।

দিবসটি উপলক্ষে রোগীদের মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের এ উদ্যোগে সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ হাসপাতালের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

গাজীপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গাজীপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে

ছবি যোগফল

যোগফল প্রতিবেদন | অনলাইন

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেনের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় চলতি বছরের গত ২৪ সেপ্টেম্বর গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই তরুণী।

ভিকটিম গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর এলাকার বাসিন্দা। তরুণী'র অভিযোগ, ওসি ও তার লোকজনের হুমকির কারণে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে তরুণীসহ তার পরিবার।

অভিযোগ দেওয়ার প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

অভিযোগে ওই তরুণী বলেন, দীর্ঘ ১ বছর ৫ মাস আগে ওসি ইফতেখার হোসেন কাশিমপুর থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় ওই তরুণী ব্যক্তিগত অভিযোগ নিয়ে কাশিমপুর থানায় যান।

সেই সুযোগে ওসি ইফতেখার হোসেন তার (ভিকটিমের) মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন এবং মোবাইলের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

অভিযোগে বলা হয়, সম্পর্ক চলাকালীন ওসি ইফতেখার হোসেন নিজেকে অবিবাহিত দাবি করেন এবং ওই তরুণীকে বিয়ে করার নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি দেন। দীর্ঘদিন ওসি ইফতেখার হোসেন তার বন্ধু সোহেলের বাসায় আমাকে (ভিকটিম) নিয়ে যেতেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক (ধর্ষণ) করতেন। ওসি ইফতেখারের এ অপরাধের সঙ্গে সোহেল সরাসরি জড়িত।

সে আমাকে নিয়মিত ওসির সঙ্গে দেখা করানোর জন্য নিয়ে যেত এবং ওসির জন্য তার নিজের বাসাকে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করতে দিত। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে ওসি ইফতেখার আমাকে ৫ বছর অপেক্ষা করতে বলেন। পরে সর্বশেষ বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।

অভিযোগে ওই তরুণী আরো বলেন, এ ঘটনা জানার পর ওসি ইফতেখার হোসেনের বাবা আমাকে ফোন করে পরিবারের চরম আর্থিক অসচ্ছলতা নিয়ে কটূক্তি ও অপমান করেন। ওসির বাবার এই দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় ওসি ইফতেখার নিজে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল, মানসিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।

তিনি আরো বলেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর ওসি ইফতেখার হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার বন্ধু সোহেল এবং তার কথিত এক আংকেলকে আমার বাসায় পাঠান। এ সময় তারা আমাকে চরম ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ওসির বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত কল রেকর্ড ও মেসেজ ডিলিট করে দেয়।

বর্তমানে ওসি ইফতেখার এবং তার সহযোগী সোহেল ক্ষমতার অপব্যবহার করে যেকোনো সময় আমার ও পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। এ ছাড়া মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিতে পারে। ওসি আমার মা-বাবাকে বার্তা পাঠায় যেন আমাকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় এবং সে বিয়ের কিছু টাকা দেবে।

দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পোশাক ব্যবহারকারী ওসি ইফতেখার হোসেন এবং সোহেলের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ওই তরুণী।

ওই তরুণী বলেন, কমিশনার সাহেবের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে ওসি ইফতেখার হোসেন আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক (ধর্ষণ) করেছে। বাসা থেকেও বের হতে পারছি না তাদের ভয়ে। আমি এর বিচার চাই।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, এগুলো সব কথা মিথ্যা।
গাজীপুর মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান জানান, একটি অভিযোগ পেয়েছি। এটা তদন্তে আছে। অভিযোগ পাওয়ার পর একজন অফিসার নিয়োগ করা আছে, সে তদন্ত করে রিপোর্ট দিলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

কোম্পানীগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপিড়নের অভিযোগ স্থানীয় মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কোম্পানীগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপিড়নের অভিযোগ স্থানীয় মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে

ছবি যোগফল

কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি:

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে এক ইমামের বিরুদ্ধে ১৬ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের (যৌন নিপিড়ন) অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত ইমাম গা ডাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দিনগত রাতে উপজেলার বটেরতল গ্রামে ইমামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ওই ইমামের নাম হাফেজ মুফতি নোমান বিন রব্বানী (৩৫)। তিনি উপজেলার বটেরতল গ্রামের গোলাম রব্বানীর ছেলে এবং শহীদ স্মৃতি টুকেরবাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ জামে মসজিদের ইমাম। এছাড়াও তিনি দারুল আরক্বাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসা কোম্পানীগঞ্জের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা শানে সাহাবা জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশনের সভাপতি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা সেক্রেটারি, হেফাজতে ইসলামের উপজেলার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভুক্তভোগী ওই মাদ্রাসাছাত্র যুগান্তরকে জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মসজিদে গেলে হুজুর আমাকে বলে মাথায় ব্যথা করতেছে, আমার মাথা টিপে দাও। আমি উনার মাথা টিপে দেই এবং উনি আমাকে এশার নামাজ পড়াতে বলেন। আমি এশার নামাজ পড়াই। এরপর হুজুর বলে তুমি বাড়িতে গিয়ে বলে আস আজ আমার সাথে তোমার দাওয়াত আছে এবং রাতে আমার বাড়িতে থাকবে। দাওয়াত খেয়ে হুজুরের বাড়িতে যাই। সেখানে এক রুমে আমি ও হুজুর এবং অন্য রুমে হুজুরের বউ ঘুমায়। রাতে এক পর্যায়ে হুজুর বললেন উনার পেটে ব্যথা করতেছে, আমি যেন উনার পেটে মালিশ করে দেই। সাথে সাথে আমি মালিশ করে দিলাম।

এরপর হুজুর আমাকে বলাৎকার করে। বিষয়টি কাউকে জানালে আমাকে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। ফজরের সময় হুজুর উনার বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল দিয়ে আমাকে নিয়ে মসজিদে আসেন এবং গোসল না করেই ফজরের নামাজ পড়ান। ফজরের নামাজের পরও তিনি আমাকে দিয়ে উনার পা টেপান। পরে আমি বাড়িতে এসে ঘটনার বিস্তারিত আমার মায়ের কাছে খুলে বলি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী ওই মাদ্রাসাছাত্রের মা যুগান্তরকে বলেন, আজ আমার ছেলের সাথে এমন নোংরা ঘটনা ঘটেছে। আর যেন কারো সাথে এমন ঘটনা না ঘটে এজন্য আমি হুজুরের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

শহীদ স্মৃতি টুকেরবাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল হাশেম বলেন, ভুক্তভোগী আমাকে এবিষয়ে জানিয়েছে। আমি সভাপতি সাহেবকে অবগত করেছি। তিনি ওই ভুক্তভোগীকে দরখাস্ত দিতে বলেছেন। নিয়মানুযায়ী আমাদের যে যে ব্যবস্থা নেওয়া লাগে, তা আমরা নিব।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ উছমান গনি বলেন, খোঁজ খবর নিচ্ছি। এবিষয়ে অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।