খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক, ১৪৩৩

তিতাস হত্যার পর টেকনাফের পাহাড়ে ফের যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান, মিলল তিন মরদেহের সন্ধান

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তিতাস হত্যার পর টেকনাফের পাহাড়ে ফের যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান, মিলল তিন মরদেহের সন্ধান

ছবি যোগফল

শাকুর মাহমুদ চৌধুরী ।। যোগফল প্রতিবেদক

কক্সবাজারের টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ে মানবপাচারকারী চক্রের গোপন আস্তানা ও বন্দিশালা নির্মূলে আবারও বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী। আগের অভিযানে ৫৭ জনকে জীবিত উদ্ধারের পর এবার পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর ঘিরে নতুন করে রহস্য ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা-রঙ্গিখালীর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এ অভিযান শুরু হয়। সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের দেড় শতাধিক সদস্য অংশ নিয়েছেন। কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) একই এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে মানবপাচারকারীদের একটি গোপন বন্দিশালা থেকে ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছিল।

অভিযান চলাকালে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে সেনাবাহিনীর সৈনিক মোহাম্মদ তিতাস শেখ (২৭) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তাঁর মৃত্যুতে সেনাবাহিনীসহ স্থানীয় জনমনে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) পাহাড়ে অভিযান অব্যাহত থাকাকালে হ্নীলা ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে দুর্গম অবস্থান ও নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মরদেহগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

উদ্ধার হওয়া এক ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন। বন্দিশালার কাছাকাছি তিনটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন বলেও জানান তিনি। তবে মরদেহগুলো মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য, নাকি বন্দিদশা থেকে পালানোর চেষ্টা করা কোনো ভুক্তভোগীর- তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানান, রঙ্গিখালীর পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত মরদেহের অবস্থান ও পরিচয় নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি অনুসন্ধানে কাজ করছে পুলিশ।

তিনি আরও জানান, মানবপাচারকারী চক্রের তৎপরতা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে। উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের বর্ণনায় মানবপাচারকারীদের ভয়াবহ নির্যাতন, প্রতারণা ও জিম্মি করে রাখার চিত্র উঠে এসেছে।

আসাদুজ্জামান নামে এক ভুক্তভোগী জানান, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে কক্সবাজারে ডেকে আনা হয়। পরে পাহাড়ের একটি গোপন আস্তানায় আটকে রাখা হয়। সেখানে টানা আট দিন বন্দি ছিলেন তিনি। এ সময় দুইবার পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বন্দিশালায় ৫০ জনের বেশি মানুষ ছিলেন। তাঁদের সাগরপথে পাচারের প্রস্তুতি চলছিল। সশস্ত্র ব্যক্তিরা পাহাড়ি আস্তানাটি পাহারা দিতেন। বন্দিদের মুঠোফোনসহ ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

মানবপাচারকারীদের গুলিতে নিহত সেনাসদস্য মোহাম্মদ তিতাস শেখের মরদেহ শুক্রবার সকালে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে রামু সেনানিবাসে নেওয়া হয়। সেখানে আসরের নামাজের পর তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

পরে হেলিকপ্টারে মরদেহ ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নে তাঁর গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। শুক্রবার সন্ধ্যার আগেই মরদেহ সেখানে পৌঁছায়। সামরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়। নিহত তিতাস ওই ইউনিয়নের আফজাল হোসেনের ছেলে।

সেনাসদস্য তিতাস শেখকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদ এবং জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে টেকনাফ ও উখিয়ায় মিছিল-সমাবেশ করেছে বিএনপি। একই দাবিতে মানববন্ধন করেছেন টেকনাফের সাধারণ ছাত্র-জনতা।

বিক্ষোভকারীরা পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রাখা, মানবপাচারকারী চক্রের সব আস্তানা ধ্বংস এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকাকে অপরাধমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম শুক্রবার জানান, পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

সব মিলিয়ে, সেনাসদস্য তিতাস শেখের আত্মত্যাগের পর টেকনাফের পাহাড়ে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে নতুন করে শুরু হওয়া অভিযান এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনটি মরদেহ উদ্ধারের পরই জানা যেতে পারে, এই রহস্যের পেছনে কারা রয়েছে এবং পাহাড়ের অপরাধজগতের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা কতটুকু।

পাইকগাছা হাসপাতালে রোগীদের উন্নত খাবার পরিবেশন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৯:২৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছা হাসপাতালে রোগীদের উন্নত খাবার পরিবেশন

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে খুলনার পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবসটি উপলক্ষে এদিন দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত থেকে রোগীদের মাঝে খাবার পরিবেশন করেন জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার (ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার) ডা. মো. আবু জাফর।

অনুষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ।

দিবসটি উপলক্ষে রোগীদের মাঝে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের এ উদ্যোগে সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ হাসপাতালের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

গাজীপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গাজীপুরে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে

ছবি যোগফল

যোগফল প্রতিবেদন | অনলাইন

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেনের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় চলতি বছরের গত ২৪ সেপ্টেম্বর গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই তরুণী।

ভিকটিম গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর এলাকার বাসিন্দা। তরুণী'র অভিযোগ, ওসি ও তার লোকজনের হুমকির কারণে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে তরুণীসহ তার পরিবার।

অভিযোগ দেওয়ার প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

অভিযোগে ওই তরুণী বলেন, দীর্ঘ ১ বছর ৫ মাস আগে ওসি ইফতেখার হোসেন কাশিমপুর থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় ওই তরুণী ব্যক্তিগত অভিযোগ নিয়ে কাশিমপুর থানায় যান।

সেই সুযোগে ওসি ইফতেখার হোসেন তার (ভিকটিমের) মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন এবং মোবাইলের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

অভিযোগে বলা হয়, সম্পর্ক চলাকালীন ওসি ইফতেখার হোসেন নিজেকে অবিবাহিত দাবি করেন এবং ওই তরুণীকে বিয়ে করার নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি দেন। দীর্ঘদিন ওসি ইফতেখার হোসেন তার বন্ধু সোহেলের বাসায় আমাকে (ভিকটিম) নিয়ে যেতেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক (ধর্ষণ) করতেন। ওসি ইফতেখারের এ অপরাধের সঙ্গে সোহেল সরাসরি জড়িত।

সে আমাকে নিয়মিত ওসির সঙ্গে দেখা করানোর জন্য নিয়ে যেত এবং ওসির জন্য তার নিজের বাসাকে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করতে দিত। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে ওসি ইফতেখার আমাকে ৫ বছর অপেক্ষা করতে বলেন। পরে সর্বশেষ বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।

অভিযোগে ওই তরুণী আরো বলেন, এ ঘটনা জানার পর ওসি ইফতেখার হোসেনের বাবা আমাকে ফোন করে পরিবারের চরম আর্থিক অসচ্ছলতা নিয়ে কটূক্তি ও অপমান করেন। ওসির বাবার এই দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় ওসি ইফতেখার নিজে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল, মানসিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।

তিনি আরো বলেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর ওসি ইফতেখার হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার বন্ধু সোহেল এবং তার কথিত এক আংকেলকে আমার বাসায় পাঠান। এ সময় তারা আমাকে চরম ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ওসির বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত কল রেকর্ড ও মেসেজ ডিলিট করে দেয়।

বর্তমানে ওসি ইফতেখার এবং তার সহযোগী সোহেল ক্ষমতার অপব্যবহার করে যেকোনো সময় আমার ও পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। এ ছাড়া মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিতে পারে। ওসি আমার মা-বাবাকে বার্তা পাঠায় যেন আমাকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় এবং সে বিয়ের কিছু টাকা দেবে।

দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পোশাক ব্যবহারকারী ওসি ইফতেখার হোসেন এবং সোহেলের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ওই তরুণী।

ওই তরুণী বলেন, কমিশনার সাহেবের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে ওসি ইফতেখার হোসেন আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক (ধর্ষণ) করেছে। বাসা থেকেও বের হতে পারছি না তাদের ভয়ে। আমি এর বিচার চাই।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, এগুলো সব কথা মিথ্যা।
গাজীপুর মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান জানান, একটি অভিযোগ পেয়েছি। এটা তদন্তে আছে। অভিযোগ পাওয়ার পর একজন অফিসার নিয়োগ করা আছে, সে তদন্ত করে রিপোর্ট দিলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

কোম্পানীগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপিড়নের অভিযোগ স্থানীয় মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কোম্পানীগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপিড়নের অভিযোগ স্থানীয় মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে

ছবি যোগফল

কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি:

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে এক ইমামের বিরুদ্ধে ১৬ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের (যৌন নিপিড়ন) অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত ইমাম গা ডাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দিনগত রাতে উপজেলার বটেরতল গ্রামে ইমামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ওই ইমামের নাম হাফেজ মুফতি নোমান বিন রব্বানী (৩৫)। তিনি উপজেলার বটেরতল গ্রামের গোলাম রব্বানীর ছেলে এবং শহীদ স্মৃতি টুকেরবাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ জামে মসজিদের ইমাম। এছাড়াও তিনি দারুল আরক্বাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসা কোম্পানীগঞ্জের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা শানে সাহাবা জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশনের সভাপতি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা সেক্রেটারি, হেফাজতে ইসলামের উপজেলার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভুক্তভোগী ওই মাদ্রাসাছাত্র যুগান্তরকে জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মসজিদে গেলে হুজুর আমাকে বলে মাথায় ব্যথা করতেছে, আমার মাথা টিপে দাও। আমি উনার মাথা টিপে দেই এবং উনি আমাকে এশার নামাজ পড়াতে বলেন। আমি এশার নামাজ পড়াই। এরপর হুজুর বলে তুমি বাড়িতে গিয়ে বলে আস আজ আমার সাথে তোমার দাওয়াত আছে এবং রাতে আমার বাড়িতে থাকবে। দাওয়াত খেয়ে হুজুরের বাড়িতে যাই। সেখানে এক রুমে আমি ও হুজুর এবং অন্য রুমে হুজুরের বউ ঘুমায়। রাতে এক পর্যায়ে হুজুর বললেন উনার পেটে ব্যথা করতেছে, আমি যেন উনার পেটে মালিশ করে দেই। সাথে সাথে আমি মালিশ করে দিলাম।

এরপর হুজুর আমাকে বলাৎকার করে। বিষয়টি কাউকে জানালে আমাকে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। ফজরের সময় হুজুর উনার বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল দিয়ে আমাকে নিয়ে মসজিদে আসেন এবং গোসল না করেই ফজরের নামাজ পড়ান। ফজরের নামাজের পরও তিনি আমাকে দিয়ে উনার পা টেপান। পরে আমি বাড়িতে এসে ঘটনার বিস্তারিত আমার মায়ের কাছে খুলে বলি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী ওই মাদ্রাসাছাত্রের মা যুগান্তরকে বলেন, আজ আমার ছেলের সাথে এমন নোংরা ঘটনা ঘটেছে। আর যেন কারো সাথে এমন ঘটনা না ঘটে এজন্য আমি হুজুরের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

শহীদ স্মৃতি টুকেরবাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল হাশেম বলেন, ভুক্তভোগী আমাকে এবিষয়ে জানিয়েছে। আমি সভাপতি সাহেবকে অবগত করেছি। তিনি ওই ভুক্তভোগীকে দরখাস্ত দিতে বলেছেন। নিয়মানুযায়ী আমাদের যে যে ব্যবস্থা নেওয়া লাগে, তা আমরা নিব।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ উছমান গনি বলেন, খোঁজ খবর নিচ্ছি। এবিষয়ে অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।