খুঁজুন
সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩

ইটবোঝাই বাল্কহেডের ওপর ভেঙে পড়ল বেইলি ব্রিজ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২ আগস্ট ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ইটবোঝাই বাল্কহেডের ওপর ভেঙে পড়ল বেইলি ব্রিজ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার খামারপাড়ায় খিরাই নদীর ওপর নির্মিত একটি পুরোনো বেইলি ব্রিজ হঠাৎ ভেঙে ইটবোঝাই একটি বাল্কহেডের ওপর পড়ে গেছে। দুর্ঘটনার সময় বাল্কহেডে থাকা চালক, সুকানি, সহকারীসহ ১৭ শ্রমিক সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে রক্ষা পান। তবে ব্রিজ ধসে পড়ায় ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে কয়েকটি উপজেলার হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

বাল্কহেডের মালিক ও সুকানি জুয়েল পাটোয়ারী জানান, ঢাকার জিঞ্জিরা থেকে প্রায় ৪০ হাজার ইট নিয়ে তারা গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় খিরাই নদ দিয়ে খামারপাড়া বেইলি ব্রিজের নিচে পৌঁছানোর পর হঠাৎ বিকট শব্দে পুরো ব্রিজটি বাল্কহেডের ওপর ভেঙে পড়ে। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের বাল্কহেডটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শ্রমিক কাশেম মিয়া জানান, প্রাণে রক্ষা পেলেও তাদের মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, কাপড়সহ ব্যক্তিগত সব মালামাল নদীতে ভেসে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। বর্ষার পানিতে পাটাতনে মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেলেও স্থায়ী সংস্কার করা হয়নি। এর আগেও একাধিক ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ব্রিজটি ধসে পড়ায় দাউদকান্দির পাশাপাশি চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ, কচুয়া, হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ : প্রধানমন্ত্রী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩ আগস্ট ২০২৬, ৪:৫১ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, "তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তাদের গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ উদ্যোগে সরকার সবসময় পাশে থাকবে।"

রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ‘মেট আরওভি ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারওয়াটার রোবট কম্পিটিশন ২০২৬’-এ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া এমআইএসটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা জানান, বিশ্বের সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তাদের ভবিষ্যৎ গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রমে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে এমআইএসটির শিক্ষার্থীরা তাদের তৈরি বিশ্বজয়ী আন্ডারওয়াটার রোবটটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে প্রদর্শন করেন। রোবটটির নকশা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের উদ্ভাবন বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তিনি জানান, রোবটটির আরও উন্নয়ন, বাণিজ্যিকীকরণ এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।

এমআইএসটির শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে প্রযুক্তি খাতে কাজ করার এবং নিজস্ব স্টার্টআপ গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা হতে চাইলে সরকারের স্টার্টআপ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, ফার্মাসিউটিক্যালস, ফার্নিচার ও কসমেটিকসসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে বিকশিত করে বহুমুখী রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও জানান, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞদের দেশে ফিরে এ খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "দেশের প্রতিটি খাতে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।"

উল্লেখ্য, গত ২৩ থেকে ২৯ জুন কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডরে অনুষ্ঠিত ‘মেট আরওভি ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারওয়াটার রোবট কম্পিটিশন ২০২৬’-এ বিশ্বের ১৮টি দেশের ৮৮টি দল অংশ নেয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে এমআইএসটির ‘মিস্ট ম্যাভিরভ’ দল বিশ্বচ্যাম্পিয়নের শিরোপা অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র রানার্স-আপ এবং আয়োজক দেশ কানাডা তৃতীয় স্থান লাভ করে।

সাক্ষাৎকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম, এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিজয়ী দলের ১০ জন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে থানায় অভিনেত্রী অদিতি শর্মা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩ আগস্ট ২০২৬, ৩:৪৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে থানায় অভিনেত্রী অদিতি শর্মা

বিয়ের পর থেকেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন ভারতের জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী অদিতি শর্মা। মুম্বাইয়ের গোরেগাঁও থানায় দায়ের করা এ মামলার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

গত ৩১ জুলাই দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে অদিতির স্বামী অভিনীত বিদ্যানন্দ কৌশিক, শাশুড়ি উর্মিলা কৌশিক এবং ননদ কীর্তি কৌশিককে

অভিযোগে অদিতি দাবি করেছেন, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। তাকে মারধর, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, চরিত্র নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ এবং বিয়ের গয়না আত্মসাতের মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

পুলিশকে দেওয়া বক্তব্যে অভিনেত্রী জানান, ২০২১ সালের জুনে একটি অনলাইন অভিনয় কর্মশালায় অভিনীতের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেখান থেকে বন্ধুত্ব, পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তারা একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন এবং একই বছরের ১২ নভেম্বর দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে করেন।

অদিতির ভাষ্য, বিয়ের পর স্বামীর আচরণ দ্রুত বদলে যায়। ছোটখাটো বিষয় নিয়েও নিয়মিত অশান্তি হতো। তিনি অভিযোগ করেন, সংসারের খরচে সহযোগিতা না করে উল্টো স্বামী প্রায়ই তার কাছ থেকে টাকা নিতেন।

অভিনেত্রীর দাবি, ২০২৫ সালের শুরুতে এক তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিরোধের পর থেকে স্বামী তার চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করতে থাকেন। নিয়মিত মোবাইল ফোন তল্লাশি করা হতো, এমনকি পরকীয়ার অভিযোগও তোলা হয়। পরে স্বামী আলাদা ঘরে থাকতে শুরু করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এছাড়া অদিতির অভিযোগ, তাকে বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও বাধা দেওয়া হতো। বিয়ের সময় পাওয়া সোনার চেইন, আংটি, হীরার আংটি ও বালাসহ মূল্যবান গয়নাগুলো শাশুড়ি নিজের কাছে রেখে দেন এবং বারবার চাইলেও ফেরত দেননি।

অভিনেত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে গোরেগাঁও থানার পুলিশ মামলাটি তদন্ত করছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

প্রেমের সম্পর্কের পরিণতি হত্যা, ৬ বছর পর মৃত্যুদণ্ড শরিফুলের

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩ আগস্ট ২০২৬, ১:৪৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
প্রেমের সম্পর্কের পরিণতি হত্যা, ৬ বছর পর মৃত্যুদণ্ড শরিফুলের

ঢাকার আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিক শাহিনা খাতুন হত্যা মামলায় অভিযুক্ত মো. শরিফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রোববার (২ আগস্ট) ঢাকার ৮ম অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতের বিচারক মো. মুনির হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার পর শরিফুলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

মামলার নথি অনুযায়ী, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর শাহিনা খাতুন আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। একই এলাকায় অন্য একটি গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন শরিফুল ইসলাম। কর্মস্থলের সূত্রে পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তারা কিছুদিন একসঙ্গে বসবাসও করেন।

তদন্তে উঠে আসে, শরিফুল আগে থেকেই বিবাহিত এবং তার দুই সন্তান রয়েছে। পরে শাহিনা বিয়ের জন্য চাপ দিলে দুজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ২০২০ সালের ১৯ মার্চ সেই বিরোধের একপর্যায়ে শরিফুল ওড়না দিয়ে শাহিনার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

হত্যার পর মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ঘরের ভেতর রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান তিনি। কয়েক দিন পর ঘরের সামনে রক্তের দাগ ও তালাবদ্ধ অবস্থায় সন্দেহ হলে প্রতিবেশীরা বাড়ির মালিক ও পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের সময় প্রযুক্তির সহায়তায় শরিফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৩০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম