সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগে কথিত সাংবাদিক গ্রেপ্তার
যোগফল প্রতিবেদক:
ফেসবুকে একের পর এক আপত্তিকর পোস্ট ও ভিডিও ছড়িয়ে এক নারী বিউটিশিয়ানকে মানসিকভাবে হয়রানি ও আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে মোংলায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম রেজা মাসুদ ওরফে মাসুদ রানা (৪০)। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। নিজেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে সাইবার হুমকি ও ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মোংলা পৌর শহরের সিঙ্গাপুর মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে মোংলা থানা পুলিশ। পরে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
আদালতের নির্দেশে মামলা
পুলিশ জানায়, সাইবার হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার এক নারীর ভাই গত ৩০ আগস্ট বাগেরহাট আদালতে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ডের জন্য মোংলা থানাকে নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর বুধবার বিকেলে পুলিশ সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রেকর্ড করে।
মামলার অন্য দুই আসামি হলেন বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার শেখ নাছিরুল হক সোহেল (৪০) ও মোংলা পৌর শহরের জিনিয়া আক্তার (২৯)।
ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্টের অভিযোগ
মামলার বাদী মো. আল-আমিন অভিযোগ করেন, তার বোন কাজী কেয়া মোংলা পৌরসভার কবরস্থান রোড এলাকায় ‘কেয়া ব্রাইডাল লুকস বিউটি পার্লার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন।
অভিযোগে বলা হয়, প্রধান আসামি মাসুদ রানা নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দুটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে কাজী কেয়াসহ মোংলার বিভিন্ন ব্যক্তি ও নারীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যসহ পোস্ট করে আসছিলেন।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, এসব পোস্টের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার পাশাপাশি ভয়ভীতি দেখানো ও ব্ল্যাকমেইল করা হতো। বিশেষ করে কাজী কেয়াকে অনৈতিক দাবি ও অর্থের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই মাসুদ রানা তার ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি থেকে কাজী কেয়ার বিরুদ্ধে একাধিক আপত্তিকর, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত স্ট্যাটাস ও ভিডিও প্রকাশ করেন। পরে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে অভিযোগ করা হয়।
একপর্যায়ে কাজী কেয়া তার শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ফেসবুক লাইভে এসে ঘটনার বর্ণনা দেন এবং আত্মহত্যার প্রস্তুতির কথা জানান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। খবর পেয়ে মোংলা থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
আরও ভুক্তভোগীর অভিযোগ
বাদীপক্ষের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নারীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে তাদের সামাজিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করা হয়েছে। মোংলা পৌর শহর ও উপজেলার আরও অনেক নারী-পুরুষ একই ধরনের সাইবার হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে রেজা মাসুদ গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন এলাকায় কথিত ভুক্তভোগীদের মিষ্টি বিতরণ ও স্বস্তি প্রকাশের খবর পাওয়া গেছে।
রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রেজা মাসুদ নিজেকে সাবেক ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। পরে মোংলা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিকের সঙ্গে পারিবারিক আত্মীয়তার সম্পর্ককে প্রভাব বিস্তারের কাজে ব্যবহার করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুককে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও নারীর বিরুদ্ধে পোস্ট করা, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং পরে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রেজা মাসুদ বা তার পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পুলিশের বক্তব্য
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার রেজা মাসুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নানা ব্যক্তিকে সাইবার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ রয়েছে।
তানজিলা / অনলাইন
ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন