ভুয়া সনদে আসামির জামিন: গাইবান্ধায় আইনজীবী, মহুরী ও পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা
যোগফল প্রতিবেদক:
গাইবান্ধায় প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের শিশু সাজিয়ে জাল জন্মসনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে জামিন করানো, আদালতের অর্ডার শিটে কাটাকাটি এবং নথি গায়েবের অভিযোগে এক আইনজীবী, তার মহুরী ও পুলিশের এক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার গাইবান্ধা শিশু আদালত-২-এর বিচারক ও সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ এ নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের আদেশ গোবিন্দগঞ্জ থানায় পৌঁছালে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ বিভিন্ন মামলায় পলাশ রানা, সুমন মিয়া, শামীম চৌধুরী ও এনামুল হক নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে এনামুল হক প্রাপ্তবয়স্ক ও বিবাহিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, আসামিদের স্বজনরা কারামুক্তির বিষয়ে জেলা বারের আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের পরামর্শ নেন। পরে অর্থের বিনিময়ে এনামুল হকসহ প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের শিশু হিসেবে প্রমাণ করতে জাল জন্মসনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র তৈরি করা হয়।
তদন্তে বলা হয়েছে, তিনটি মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের শিশু দেখিয়ে জামিন নেওয়া হয়। একই সঙ্গে আদালতের নথি গায়েব এবং অর্ডার শিটে কাটাকাটি করার অভিযোগও ওঠে আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কাজে তার মহুরী হাসান আলী এবং গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের তৎকালীন জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুর সহযোগিতা করেন।
বিষয়টি জানাজানি হলে আইনজীবী সারোয়ার হোসেন, মোত্তালিব হোসেনসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিনপ্রাপ্ত আসামিদের জামিন বাতিলের জন্য আদালতে আবেদন করেন। পরে আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব পান গোবিন্দগঞ্জ আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম গালিব হাসান। তিনি গত ১৯ আগস্ট গাইবান্ধা শিশু আদালত-২-এ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের সনদ বাতিল, তার মহুরী হাসান আলীর নিবন্ধনপত্র বাতিল এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তৎকালীন জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
প্রতিবেদনে এমন ঘটনাকে দেশের সামগ্রিক বিচার বিভাগের জন্য একটি ‘কালো অধ্যায়’ বলেও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর গাইবান্ধা শিশু আদালত-২-এর বিচারক মোহাম্মদ ইফতেখার বিন আজিজ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারীকে বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করতে বলা হয়।
বৃহস্পতিবার আদালতের আদেশ পাওয়ার পর অভিযুক্ত আইনজীবী, মহুরী ও পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে গোবিন্দগঞ্জ থানা।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, আদালতের আদেশ পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন