নেপালের সেই টানেলে আর জীবিত কেউ নেই, মিলল আরও এক মরদেহ
যোগফল প্রতিবেদক:
নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েও নতুন করে কোনো জীবিত ব্যক্তির সন্ধান পায়নি উদ্ধারকারী দল। তবে টানেলের ভেতর থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফলে সেখানে আটকে থাকা আর কাউকে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানেলের ভেতর থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধারের পর উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়। সাত সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল টানেলের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত তল্লাশি চালায়। তবে জীবিত উদ্ধার হওয়া দুজন ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায়নি।
দেশটির আর্মড পুলিশ ফোর্সের (এপিএফ) সদস্য অম্বর মাহাত জানান, উদ্ধারকারী দল টানেলের প্রতিটি অংশে পৌঁছে তল্লাশি চালিয়েছে। কিন্তু সেখানে কেবল কাদা, মাটি ও পলিমাটি পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও বড় বড় পাথরও পড়ে রয়েছে।
সম্প্রতি ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর এপিএফের ধসে পড়া স্থাপনা অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিটের প্রধান কনস্টেবল পবন বাহাদুর তামাংয়ের নেতৃত্বে সাত সদস্যের দলটি টানেলে প্রবেশ করে। পরে নেপালি সেনাবাহিনীর একটি দলও তাদের সঙ্গে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়।
উদ্ধারকারীরা টানেলের ভেতরে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে প্রতিটি অংশ তল্লাশি করেন। প্রবল পানির চাপের কারণে টানেলের ওপরের কিছু স্ল্যাবও ধসে পড়েছে বলে জানান অম্বর মাহাত।
তিনি বলেন, পাওয়ারহাউস ভবনের পাশ থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে টানেলের ভেতরে তল্লাশির সময় আর কোনো মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যায়নি।
জীবিত উদ্ধার হওয়া সঞ্জয় সাহ জানান, তিনি পাওয়ারহাউসের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। অন্যরা বের হয়ে গেলেও তিনি বের হতে পারেননি। বর্তমানে কাঠমান্ডুর আর্মি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে।
এপিএফের মুখপাত্র নেত্র বাহাদুর কার্কিও জানান, উদ্ধারকারী দল টানেলের সবচেয়ে দূরের অংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। সেখানে একজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। এটিই ছিল টানেলের বাকি থাকা শেষ অংশ। সেখানে আর কাউকে পাওয়া যায়নি।
নেপালি সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তাও টানেলের ভেতরে আর কোনো ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ত্রিশূলী হাইড্রোপাওয়ার স্টেশনের প্রধান আভাস ওঝা জানান, সেনাবাহিনী ও এপিএফের দল আর কাউকে খুঁজে না পাওয়ায় উদ্ধার অভিযান বন্ধের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পের নিজস্ব কর্মীদের নিয়ে সম্ভাব্য স্থানগুলো আবারও পরিদর্শনের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গত ২৬ আগস্ট ভোতেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যায় নেপালের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার পানির সঙ্গে আসা কাদা ও ধ্বংসাবশেষে প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন টানেলও ঢেকে যায়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৪২ জন কর্মরত ছিলেন। এছাড়া ত্রিশূলী-১ প্রকল্পে ৫৫৭ জন, ত্রিশূলী-৩বি প্রকল্পে ১৯১ জন এবং রাসুওয়াগাধী প্রকল্পে ৯৩ জন কর্মী ছিলেন। বিভিন্ন নেপালি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্পের টানেলগুলোতে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন