যোগফল প্রতিবেদক:
কুমিল্লার সদর দক্ষিণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে সোয়াগাজী উত্তর বাজারে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন।
বুধবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে পাকা, আধাপাকা ও টিনশেডসহ বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। এসব স্থাপনার মধ্যে মুদি দোকান, ফার্নিচারের দোকান, ওয়ার্কশপ, মনিহারি দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সড়কের জায়গা ও ফুটপাত দখল করে এসব স্থাপনা গড়ে ওঠায় দীর্ঘদিন ধরে সোয়াগাজী উত্তর বাজার এলাকায় যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছিল। ব্যস্ত সময়ে সড়কের দুই পাশে দোকানপাট বসায় যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হতো। এতে ভোগান্তিতে পড়তেন পরিবহন চালক, পথচারী, ক্রেতা-বিক্রেতা ও শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয়রা জানান, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ অভিযান চালিয়ে এলাকাটি দখলমুক্ত করেছিল। তবে কিছুদিন পর আবারও একই জায়গায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। এবার একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক স্থাপনা উচ্ছেদ করায় সড়ক ও ফুটপাত অনেকটাই দখলমুক্ত হয়েছে।
তবে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, দোকানের মালামাল ও ব্যবসায়িক সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাননি তারা। এতে অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ব্যবসায়ী মুখলেছুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এসব স্থাপনায় ব্যবসা করে আসছিলেন। উচ্ছেদের কথা জানলেও মালামাল নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়নি। ফলে দোকান ভাঙার সময় অনেক মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত থাকলে বাজার এলাকায় যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দীর্ঘদিনের যানজট ও জনদুর্ভোগ কমবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের কুমিল্লার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আদনান ইবনে হাসান বলেন, মহাসড়কের জায়গা দখল করে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। জনস্বার্থে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, একাধিকবার মাইকিং ও নোটিশের মাধ্যমে দখলদারদের স্থাপনা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্দেশনা অনুযায়ী স্থাপনা না সরানোয় শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুজন চন্দ্র রায় বলেন, দখলদারদের আগে থেকেই মাইকিং ও নোটিশের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছিল। স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা না মানায় আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তানজিলা / অনলাইন
ডেস্ক / যোগফল.কম
আপনার মতামত লিখুন