হাতের ইশারায় চলছে যানবাহন, বাড়ছে যানজট ও জনভোগান্তি
যোগফল প্রতিবেদক:
প্রায় তিন দশক ধরে অচল রাজশাহী নগরীর আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোয় স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালের পরিবর্তে এখনো ট্রাফিক পুলিশের হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে যানবাহন। ফলে ব্যস্ত সময়ে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ নগরবাসীর ভোগান্তি বাড়ছে।
নগরীর সাহেববাজার, কাদিরগঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মোড়ে দিনের ব্যস্ত সময়ে যানবাহনের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক পুলিশকে। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে একজন পুলিশ সদস্যকে একদিকে যানবাহন থামাতে এবং অন্যদিকে চলাচলের সংকেত দিতে হচ্ছে। পুলিশের সংকেতেই কখনো থামছে গাড়ির সারি, আবার হাত নামাতেই শুরু হচ্ছে যান চলাচল।
ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি স্কুল-কলেজ ও কোচিং সেন্টারকেন্দ্রিক অতিরিক্ত চাপও সড়কে যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ছুটির সময়ে শিক্ষার্থী বহনকারী যানবাহন ও অভিভাবকদের রাস্তার পাশে অবস্থানের কারণে বিভিন্ন মোড়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যানজট স্বাভাবিক হতে আধা ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে।
এক পথচারী বলেন, আগে কাদিরগঞ্জ থেকে সাহেববাজার যেতে কয়েক মিনিট সময় লাগত। এখন যানজটের কারণে একই পথ পাড়ি দিতে অনেক বেশি সময় লাগে। কোচিং সেন্টার ছুটির সময় অভিভাবকদের রাস্তার দুই পাশে অবস্থানের কারণে যানজট আরও তীব্র হয়।
নগরীর যানবাহন ও জনসংখ্যা কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও সেই তুলনায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন হয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে এখনো পুরোনো পদ্ধতিতেই যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১৯৯৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ২১টি পয়েন্টে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হয়। কিন্তু স্থাপনের দুই বছরের মধ্যেই অধিকাংশ সিগন্যাল অকেজো হয়ে পড়ে। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেগুলো আর সচল করা হয়নি।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. নূর আলম সিদ্দিকী বলেন, নগরীতে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু হলে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং যানজট নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক সদস্যদের হাতের ইশারায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে। এতে পুলিশ সদস্যদের অতিরিক্ত পরিশ্রমের পাশাপাশি ব্যস্ত সময়ে যানজটও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
তিনি বলেন, নগরীর ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত আধুনিক ও কার্যকর ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনকে অবহিত করা হয়েছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, যানজট নিরসনে আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অচল সিগন্যাল পুনরায় চালু, প্রয়োজনীয় স্থানে নতুন সিগন্যাল স্থাপন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নগরবাসীর চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তানজিলা / অনলাইন
ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন