ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে নতুন আইনি জটিলতা
যোগফল প্রতিবেদক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিকে ঘিরে একসঙ্গে দুটি আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের মেয়াদ সীমিত করার উদ্যোগে আদালতের বাধা এসেছে। পাশাপাশি সরকারি সুবিধা নেওয়া অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে কঠোর বিধি ফেরানোর উদ্যোগের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতের বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের এমন একটি উদ্যোগ আটকে দেন, যাতে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এফ ভিসা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের জে ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর করার কথা ছিল। অন্যদিকে সাংবাদিকদের আই ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৪০ দিনে সীমিত করার প্রস্তাব করা হয়।
বোস্টনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক এফ. ডেনিস সেলার এই উদ্যোগের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। উচ্চশিক্ষা ও শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর একটি জোটের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়।
বিচারক সেলার বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও জালিয়াতি প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) যে যুক্তি দিয়েছে, তা যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। নতুন নীতির কারণে উচ্চশিক্ষা ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে প্রায় ১৬ লাখ এফ ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং প্রায় ৫ লাখ জে ভিসাধারী বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এর আওতায় পড়তে পারেন।
এদিকে সরকারি সুবিধা গ্রহণকারী অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে কঠোরতা বাড়ানোর আরেকটি উদ্যোগের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। সোমবার ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে এ বিষয়ে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। প্রস্তাবিত বিধিমালাটি আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন বিধিমালায় ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে কাউকে বিবেচনার ক্ষেত্রে অভিবাসন কর্মকর্তাদের ক্ষমতা আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য অযোগ্য কি না, তা নির্ধারণে সরকারি সহায়তা গ্রহণের বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেতে পারে।
২২টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া এবং কয়েকটি শহর ও কাউন্টি এই বিধিমালার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন তার আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। তাদের দাবি, স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণের ক্ষমতা কংগ্রেসের।
মামলাকারীরা আরও বলেছে, খাদ্য কুপন ও মেডিকেইডের মতো বৈধ সরকারি সহায়তা গ্রহণের কারণে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তবে ডিএইচএসের এক মুখপাত্র প্রশাসনের প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিয়ে মামলাকারীদের সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, নতুন বিধিমালার লক্ষ্য অভিবাসী পরিবারগুলোকে খাবার ও স্বাস্থ্যসেবার মতো সরকারি সহায়তা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন