খুঁজুন
advertisement
advertisement
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১ কার্তিক, ১৪৩৩

ভোলায় ভুয়া ট্যাক্স কালেক্টর চক্রের দুই সদস্য আটক, বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ভোলায় ভুয়া ট্যাক্স কালেক্টর চক্রের দুই সদস্য আটক, বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ

ছবিতে অভিযুক্ত দুই প্রতারক

বি এম শামিম  হাওলাদার ।। ভোলা প্রতিনিধি:

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায়  হাসান নগর ইউনিয়নের  নিজেদের ট্যাক্স কালেক্টর পরিচয় দিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বসতভিটার কর আদায়ের অভিযোগে একটি চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। উপজেলার সাচড়া, কাচিয়া, পক্ষিয়া ও হাসাননগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় টিনের ঘর থেকে ৩০০ টাকা এবং পাকা ঘর থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি থানার মো. মজিদুল ইসলাম (৩৮) এবং নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানার মাহবুব ইসলাম সাগর (২৪)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ছয় থেকে সাতজন জড়িত থাকতে পারেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নিজেদের ট্যাক্স কালেক্টর পরিচয় দিয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বসতভিটার কর দেওয়ার কথা বলে টাকা সংগ্রহ করতেন। টিনের ঘরের জন্য ৩০০ টাকা এবং পাকা ঘরের জন্য ৫০০ টাকা করে আদায় করা হতো বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এসব টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য আদায় করা হচ্ছিল কি না, কিংবা তাদের কাছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বৈধ অনুমোদন ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি তৈরি হয় গতকাল উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নের বিভিন্ন বাড়িতে টাকা সংগ্রহ করতে গেলে। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিক তাদের পরিচয় ও টাকা আদায়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা কোন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ট্যাক্স আদায় করছেন এবং আদায় করা টাকা কোথায় জমা দেওয়া হবে, তা জানতে চান। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। এতে তাদের কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের আটকে রাখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে গত রাতে তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় আরও অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্তরা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রশাসক ও সচিবের সঙ্গে যোগসাজশ করে কার্যক্রম চালাতেন। ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদারদের সহযোগিতা নিয়ে তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে টাকা আদায় করা হতো বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, কর্মকর্তা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ফলে এ ঘটনায় সরকারি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে ট্যাক্স আদায়ের এ অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, সরকারি কর্মকর্তা বা ইউনিয়ন পরিষদের লোক পরিচয় দিয়ে কেউ টাকা চাইলে সাধারণ মানুষ সহজেই প্রতারণার শিকার হতে পারেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সরকারি কর আদায়ের নিয়ম সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় অনেকেই পরিচয় যাচাই না করেই টাকা দিয়ে দিতে পারেন। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, সরকারি কর আদায়ের নামে এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে কারা টাকা আদায়ের অনুমতি দিয়েছিল, আদায় করা অর্থ কোথায় গেছে এবং এর পেছনে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।

স্থানীয়দের মতে, শুধু আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেই হবে না; এ ঘটনার সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র কিংবা অন্য কারও সম্পৃক্ততা থাকলে তাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি যেসব ব্যক্তি টাকা দিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে আদায় করা অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। সরকারি কর বা ফি আদায়ের ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিচয়, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং অর্থ জমা দেওয়ার নিয়ম স্পষ্ট করা হলে এ ধরনের প্রতারণা প্রতিরোধ করা সম্ভব বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং কথিত চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করার বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে আটক ব্যক্তিদের দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

শরীয়তপুরে সমিতির বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, চেয়ারম্যান থানায়

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শরীয়তপুরে সমিতির বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, চেয়ারম্যান থানায়

ছবি সংগৃহীত


নিজস্ব প্রতিবেদক:

শরীয়তপুরে আংগারিয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আমানতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও টাকা ও লভ্যাংশ ফেরত না পেয়ে সমিতির কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন কয়েকশ গ্রাহক। এ ঘটনায় সমিতির চেয়ারম্যান স্বপন হাওলাদার, নির্বাহী পরিচালক কাকলী আক্তার ও তাদের সহযোগী দিপু মোল্লাকে থানায় নেওয়া হয়। পরে টাকা ফেরতের শর্তে চেয়ারম্যানকে পুলিশের জিম্মায় রেখে বাকি দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়ার বাগচি বাজার এলাকায় সমিতির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন গ্রাহকরা। একপর্যায়ে তারা সমিতির কর্মকর্তাদের কার্যালয়ের ভেতরে আটকে রাখেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সমিতির প্রায় ১০ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে আনুমানিক ২০ কোটি টাকা আমানত হিসেবে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। অনেক গ্রাহকের আমানতের মেয়াদ শেষ হলেও টাকা ও লভ্যাংশ পরিশোধ না করে সমিতির কর্মকর্তারা নানা টালবাহানা করছেন। এমনকি গ্রাহকদের টাকা নিয়ে কর্মকর্তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে গ্রাহকদের তোপের মুখে পড়লে সমিতির চেয়ারম্যান স্বপন হাওলাদার, নির্বাহী পরিচালক কাকলী আক্তার ও সহযোগী দিপু মোল্লাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পালং মডেল থানা পুলিশ।

তাদের থানায় নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েকশ গ্রাহক থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টা ধরে তারা টাকা ফেরতের দাবিতে থানার সামনে অবস্থান নেন।

পরে গ্রাহকদের প্রতিনিধি ও অভিযুক্তদের সঙ্গে আলোচনা করে কয়েক দফায় টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়। টাকা ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত সমিতির চেয়ারম্যান স্বপন হাওলাদারকে পুলিশের জিম্মায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে নির্বাহী পরিচালক কাকলী আক্তার ও সহযোগী দিপু মোল্লাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী গ্রাহক সেলিনা বেগম বলেন, “আমার স্বামী ভিক্ষা করে টাকা জমাইছে। সেই টাকা এখানে রাখছি। এখন আমার স্বামীর অপারেশন হবে, কিন্তু তারা টাকা দিতাছে না। আমি আমার টাকা ফেরত চাই।”

আরেক ভুক্তভোগী গ্রাহক আলেয়া বেগম বলেন, “আমার ছেলেদের ভবিষ্যতের জন্য চারটি ডিপোজিট করেছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত একটা টাকাও পাইনি। তারা টাকা নেওয়ার সময় অনেক মিষ্টি কথা বলে, কিন্তু টাকা দেওয়ার সময় দেয় না, উল্টো খারাপ ব্যবহার করে।”

অভিযোগের বিষয়ে সমিতির চেয়ারম্যান স্বপন হাওলাদার বলেন, সমিতির কয়েকজন কর্মচারী আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ কারণে তাদের কয়েকজনকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এরপর তারা ষড়যন্ত্র করে গ্রাহকদের মধ্যে সমিতির কর্মকর্তারা টাকা নিয়ে পালিয়ে যাবেন বলে প্রচার করেছেন। এ কারণে গ্রাহকরা একসঙ্গে টাকা ফেরত নিতে এসেছেন।

তিনি আরও বলেন, কোনো গ্রাহকের টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে নেই। তারা আগেও টাকা দিয়েছেন, এখনো দিচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও দেবেন।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, সমিতির চেয়ারম্যান স্বপন হাওলাদার গ্রাহকদের টাকা নিয়ে পালিয়ে যাবেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতে গ্রাহকরা তাকে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর গ্রাহকদের প্রতিনিধি ও অভিযুক্তদের সঙ্গে আলোচনা করে কয়েক দফায় টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ওসি আরও বলেন, টাকা ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত চেয়ারম্যান স্বপন হাওলাদারকে পুলিশের জিম্মায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্য দুজনকে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি টাকা ফেরত না দিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, রাজশাহীতে কলেজছাত্র গ্রেপ্তার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, রাজশাহীতে কলেজছাত্র গ্রেপ্তার

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘স্নাইপার’ সংক্রান্ত মন্তব্য করার অভিযোগে মো. আবু বকর সিদ্দিক (২২) নামে এক কলেজছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। রাজশাহী নগরের রামচন্দ্রপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আবু বকর রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার কিচৌত এলাকার বাসিন্দা। তিনি রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, গত ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহী সফরে যান। হযরত শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি কোস্টার বাসে করে তিনি ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত যানবাহন নিয়ে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট দেওয়া হয়।

ওই পোস্টে লেখা হয়, ‘সবই বুঝলাম, রাজশাহীতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর লাল-সবুজ বুলেটপ্রুফ বাসটা কই? রুয়েটের বাসে কেন? আপনারা কী জানেন, রাজশাহীবাসী?’ পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, ‘ইস, একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’

মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। রাজশাহী মহানগর বিএনপি ও যুবদলের নেতারা এ মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে মন্তব্যকারীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পরে এসআরবি-৫ অভিযান চালিয়ে আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে এলাকাবাসী ও বন্ধুদের দাবি, আবু বকর কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত নন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করেন। এ ছাড়া ভ্যানে করে বিভিন্ন হাটে কাঁচামাল বিক্রি করেন।

আবু বকরের বন্ধু মনিরুল জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে খেলাধুলা করেন এবং মেলামেশা করেন। তার জানা মতে, আবু বকর কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। ফেসবুকে দেওয়া মন্তব্যটি ভুলবশত অথবা না বুঝে করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

এসআরবি-৫ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়সাল ইশতিয়াক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আবু বকরকে আটকের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে তাকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অথবা সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার কাছে হস্তান্তরের তথ্যও জানা গেছে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে দেওয়া মন্তব্যটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক, অপরাধমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

বর্ণাঢ্য আয়োজনে কুড়িগ্রামে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বর্ণাঢ্য আয়োজনে কুড়িগ্রামে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

বর্ণাঢ্য র‍্যালী বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ

মোঃ হাসান মাহমুদ জয়।। কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি 

​বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে নানা আয়োজনে কুড়িগ্রামে বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে জেলা যুবদলের আয়োজনে জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে একটি বিশাল বর্ণাঢ্য র‍্যালী বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কলেজ মোড়স্থ দোয়েল চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

​জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাসিম পারভেজ তারার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাদিম আহমেদের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তফিজার রহমান।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তফিজার রহমান বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুবদলের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে বলেন, "আন্দোলন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই যুবদল বারবার দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নিজেদের প্রমাণ করেছে। আজকের এই তারুণ্যই আগামী দিনের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কোনো অন্যায় ও ষড়যন্ত্র এদেশের তরুণ সমাজ বরদাস্ত করবে না।"

​সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ। তিনি তা
র বক্তব্যে বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুবদলের নেতাকর্মীদের ইস্পাতকঠিন ঐক্যের বিকল্প নেই।

​এসময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব এবং কুড়িগ্রাম পৌরসভার সাবেক মেয়র আবু বকর সিদ্দিক।

এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু,  , জেলা যুব দলের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল আলম রজব  প্রমুখ স্থানীয় নেতৃত্ব বৃন্দ।   

এছাড়াও সমাবেশে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেন। এবং বক্তারা অবিলম্বে যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর চেতনায় একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।