খুঁজুন
advertisement
advertisement
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩

বিয়ের ১৯ বছর পর এইচএসসি পাস, জিপিএ-৪.১৯ পেলেন দুই সন্তানের মা মেরী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বিয়ের ১৯ বছর পর এইচএসসি পাস, জিপিএ-৪.১৯ পেলেন দুই সন্তানের মা মেরী

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিয়ের পর কেটে গেছে ১৯ বছর। সংসার, সন্তান লালন-পালন ও পারিবারিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে থেমে গিয়েছিল পড়াশোনা। সামাজিক বাধা ও মানুষের কটূক্তিতেও দমে যাননি তিনি। অবশেষে দীর্ঘ বিরতি পেরিয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছেন দুই সন্তানের জননী আফরোজা আক্তার মেরী। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.১৯ (এ গ্রেড) অর্জন করে প্রমাণ করেছেন, শেখার কোনো বয়স নেই।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এ সাফল্য অর্জন করেন তিনি। মেরী নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের কুমারটেক গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দৌলতকান্দি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের মানবসম্পদ উন্নয়ন শাখা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন। তার স্বামী ইমরুল হাসান বেলাবো উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

মেরীর শিক্ষাজীবনের গল্পটা অন্যদের চেয়ে কিছুটা আলাদা। ২০০৭ সালে বিয়ের সময় তিনি দৌলতকান্দি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। সামনে ছিল এসএসসি পরীক্ষা। কিন্তু বিয়ের কারণে থেমে যায় তার পড়াশোনা। সংসারজীবন শুরু হলেও মনের মধ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন বেঁচে ছিল।

২০১২ সালে বড় ছেলের জন্মের তিন বছর পর আবারও পড়াশোনা শুরু করার চেষ্টা করেন মেরী। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হলেও বয়স ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে নানা কটূক্তির মুখে পড়তে হয় তাকে। পারিপার্শ্বিক প্রতিবন্ধকতায় শেষ পর্যন্ত সেবারও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি।

এরপর সংসার ও দুই সন্তানের লালন-পালনেই ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। তবে দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৩ সালে আবারও পড়াশোনা করার ইচ্ছার কথা স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের জানান। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরামর্শ পেলেও নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করার সিদ্ধান্ত নেন। স্বামীর উৎসাহ ও সহযোগিতায় যোগাযোগ করেন নিজের পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দৌলতকান্দি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে। পরে নবম শ্রেণিতে পুনরায় ভর্তি হন।

এরপর শুরু হয় নতুন সংগ্রাম। একদিকে সংসারের কাজ, অন্যদিকে দুই সন্তানের দেখাশোনা—সব দায়িত্ব সামলে পড়াশোনার জন্য সময় বের করা ছিল বেশ কঠিন। দিনের ব্যস্ততা শেষে রাত ১২টার পর শুরু হতো তার পড়ার প্রস্তুতি। গভীর রাত পর্যন্ত বই-খাতা নিয়ে চলত পড়াশোনা। এ যাত্রায় সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন স্বামী ইমরুল হাসান। শুধু উৎসাহ দিয়েই নয়, নিজেই স্ত্রীর ব্যক্তিগত শিক্ষক হিসেবে পাশে দাঁড়ান তিনি।

নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হলেও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ও পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত ক্লাস করা সম্ভব হয়নি মেরীর। তবে শিক্ষকদের সহযোগিতা ও নিজের অধ্যবসায়ের মাধ্যমে পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যান। অবশেষে ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৪.৫৫ (এ গ্রেড) অর্জন করেন। দীর্ঘ বিরতির পর এ সাফল্য তার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। এরপর একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি হন।

এইচএসসি পর্যায়েও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। বড় ছেলের এসএসসি পরীক্ষা, ছোট ছেলের বিদ্যালয়ের পড়াশোনা, সংসারের দায়িত্ব এবং নিজের শারীরিক অসুস্থতা—সবকিছু সামলে এগিয়ে যেতে হয়েছে। তবুও লক্ষ্য থেকে সরে দাঁড়াননি। সব বাধা পেরিয়ে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৪.১৯ অর্জন করেন।

দীর্ঘ ১৯ বছর পর শিক্ষাজীবনের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে উচ্ছ্বসিত আফরোজা আক্তার মেরী ও তার পরিবার। তার এ সাফল্যে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত স্বামী ইমরুল হাসান। স্ত্রীর দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতিটি ধাপে পাশে থেকে সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন তিনি।

ইমরুল হাসান বলেন, ‘তুমি প্রমাণ করে দিলে মানুষের ইচ্ছাশক্তি, ধৈর্য আর পরিশ্রমের বিকল্প কিছু নেই। আজ আমি এবং আমার পরিবার খুবই আনন্দিত। ১৯ বছর পর এসেও তুমি সফল হয়েছ। তুমি তোমার সর্বোচ্চটা দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাও। আমি সবসময় তোমার পাশে আছি, তোমার প্রাইভেট টিচার হয়ে।’

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম


মাদ্রাসায় ১০ ইভেন্টসহ আরচারি, শুটিং ও হকি আয়োজনের নির্দেশন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মাদ্রাসায় ১০ ইভেন্টসহ আরচারি, শুটিং ও হকি আয়োজনের নির্দেশন

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ১০টি ইভেন্টসহ আরচারি, শুটিং ও হকি খেলার নিয়মিত অনুশীলন এবং প্রতিযোগিতা আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। এ জন্য অধিদপ্তরের আওতাধীন সব মাদ্রাসার প্রধানদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. চাঁদ মিয়া স্বাক্ষরিত চিঠিটি অধিদপ্তরের আওতাধীন সব মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, সুপার ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, দেশের ক্রীড়ার উন্নয়নে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রাথমিক পর্যায় থেকে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব শিক্ষার্থীকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দক্ষ খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

এ লক্ষ্যে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও পেশাদার নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতেও ক্রীড়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

এ অবস্থায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ১০টি ইভেন্টের পাশাপাশি আরচারি, শুটিং ও হকি খেলার নিয়মিত অনুশীলন এবং প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য মাদ্রাসাপ্রধানদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ; ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ১:৩০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ; ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও একটি পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঁচ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে জড়ো হয়ে অবরোধ শুরু করেন শ্রমিকেরা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আটকা পড়ে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন। দীর্ঘ যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিলেও পরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে একে একে কারখানা থেকে বের হয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একটি পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে বিজিবির সদস্যসংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের শিল্প পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন।

এদিকে শ্রমিকদের অবরোধে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে সড়কটি প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়ে। এ সময় আন্দোলনরত শ্রমিকদের কাউকে ফুটবল খেলতে, আবার কাউকে ক্রিকেট খেলায় মেতে উঠতে দেখা যায়।

শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ায় সফিপুর ও আশপাশের এলাকার ১৮টি পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ বন্ধ ঘোষণা করেছে। এতে শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এর আগে শনিবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত একই দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। পরে রাতে তারা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে রোববার সকাল থেকে আবারও সড়কে অবস্থান নেওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। কয়েক সপ্তাহ ধরে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, মৌচাক ও সফিপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ ও অসন্তোষ চলছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিলেও শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, রোববার সকাল থেকেই শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের অবরোধের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে গাজীপুরে ফের মহাসড়ক অবরোধ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ২:০৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে গাজীপুরে ফের মহাসড়ক অবরোধ

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন গাজীপুরের পোশাকশ্রমিকরা। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে জেলার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ১০ প্লাটুন বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

সকাল ৮টা ২৬ মিনিটে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল গ্রুপে পাঠানো এক খুদেবার্তায় অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জেলা প্রশাসন ও শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্প পুলিশ, জেলা পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের পাশাপাশি ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) আমজাদ হোসেন বলেন, জেলার চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, কোনাবাড়ী ও মৌচাক এলাকায় বিজিবি, শিল্প পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা কাজ করছেন।

এর আগে রোববার (১ নভেম্বর) একই দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন পোশাকশ্রমিকরা। প্রথমে কালিয়াকৈরের মৌচাক, সফিপুর ও চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় অবরোধ শুরু হয়। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

একপর্যায়ে কালিয়াকৈরের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় কয়েকটি কারখানার ফটক, মৌচাক এলাকায় একটি পুলিশ বক্স এবং কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে থাকা পুলিশ বক্স ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া আনসার একাডেমির সামনে একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

পরে রতনপুর, কোনাবাড়ী ও কাশিমপুরসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে এসব এলাকার প্রায় ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম