খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১ ভাদ্র, ১৪৩৩

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। শক্তি, সামর্থ্য, অভিজ্ঞতা ও টেস্ট ঐতিহ্যে অনেক এগিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই ঘরের মাঠে ৯ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা।

ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে চতুর্থ দিনের শুরু থেকেই জয়ের পথে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস ২৮৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। মাত্র ১৪.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়েই সেই রান তুলে নেয় বাংলাদেশ।

সহজ লক্ষ্যে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি করা তানজিদ হাসান তামিম কোনো রান না করেই জশ হ্যাজলউডের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন। তবে এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক।

দ্বিতীয় উইকেটে ৭৫ বলে ৫৩ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন দুজন। সাদমান ৪২ বলে ২৫ এবং মুমিনুল ৩৯ বলে ৩০ রানে অপরাজিত থাকেন।

মিরাজ-হাসানের বোলিং তাণ্ডব

চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করার সময় ৬ উইকেট হাতে নিয়ে ১৬১ রানে ছিল অস্ট্রেলিয়া। আগের দিন ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি মিলে গড়েছিলেন প্রতিরোধ। কিন্তু দিনের শুরুতেই সেই জুটি ভেঙে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

দিনের সপ্তম ওভারে ক্যারিকে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন মিরাজ। ৭২ বলে ৩০ রান করে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ান এই ব্যাটার। এরপর বেউ ওয়েবস্টারকেও বেশি সময় উইকেটে থাকতে দেননি মিরাজ। ২১ বলে ৫ রান করা ওয়েবস্টারের স্টাম্প ভেঙে দেন তিনি।

এরপর অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকেও ফিরিয়ে দেন মিরাজ। ৩২ বলে ৮ রান করা কামিন্স সাদমান ইসলামের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।

কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন মিচেল স্টার্ক ও ক্যামেরন গ্রিন। তবে বিরতির পর স্টার্ককে ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। ৩৪ বলে ১৮ রান করে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন স্টার্ক।

অন্যপ্রান্তে একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে একমাত্র ব্যাটার হিসেবে সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০১ বলে ১০৪ রান করে হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন গ্রিন।

এর দুই ওভার পর নাথান লায়নকে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের সমাপ্তি টানেন মিরাজ। ২৭ বলে ১৫ রান করেন লায়ন।

লায়নকে ফেরানোর সঙ্গে সঙ্গে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন মিরাজ। এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ফাইফার নেওয়া দ্বিতীয় বাংলাদেশি বোলার হলেন তিনি। এর আগে এই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ফাইফারের কীর্তি গড়েছিলেন হাসান মাহমুদ।

ব্যাটে তানজিদের সেঞ্চুরি, শান্তর ৮৪

এর আগে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। জবাবে তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসে ভর করে ৪২৬ রান করে টাইগাররা।

তানজিদের ব্যাট থেকে আসে ১০১ রান। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ করেন ৬৫ রান। ফলে প্রথম ইনিংসেই অস্ট্রেলিয়ার ওপর ২২৮ রানের বিশাল লিড নেয় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিনের ১০৪ রানের লড়াকু ইনিংসের ওপর ভর করে অস্ট্রেলিয়া ২৮৪ রান করতে সক্ষম হয়। তবে মিরাজের পাঁচ উইকেট ও হাসান মাহমুদের তিন উইকেটের সামনে শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের ইনিংস থেমে যায়।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নতুন ইতিহাস

এই জয়ের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা।

ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ, যিনি দুই ইনিংসে মোট ৯ উইকেট শিকার করে ঐতিহাসিক জয়ে বড় অবদান রাখেন।

ম্যাচ: বাংলাদেশ ৯ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা: হাসান মাহমুদ
সিরিজ: বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে
দ্বিতীয় টেস্ট: ২২ আগস্ট, ম্যাকাই

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পুরুষ প্রমাণিত হওয়ায় আজীবন নিষিদ্ধ দুই অ্যাথলেট, বাতিল সব পদক

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১:৫১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পুরুষ প্রমাণিত হওয়ায় আজীবন নিষিদ্ধ দুই অ্যাথলেট, বাতিল সব পদক

জাতীয় পর্যায়ের দুই নারী অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে বিতর্ক চলছিল। মেডিক্যাল পরীক্ষার পর বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি তাদের নারী বিভাগে অংশগ্রহণের যোগ্য নন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে দুজনের জাতীয় প্রতিযোগিতার সব পদক বাতিল এবং আজীবন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জান্নাত বেগম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট এবং কবিতা রায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অ্যাথলেট। ২৮ বছর বয়সী জান্নাত থ্রো ইভেন্টে এবং ১৯ বছর বয়সী কবিতা স্প্রিন্টে অংশ নিতেন।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর লিঙ্গ নির্ধারণে মেডিক্যাল পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নেয় অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের আগের কমিটি। এ জন্য বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে পরীক্ষা-নিরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে। বোর্ডের কার্যক্রম গত ১১ মে শেষ হয় এবং ১৬ মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ফেডারেশনের কাছে জমা দেওয়া হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুজনের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা নারী অ্যাথলেটদের জন্য নির্ধারিত সীমার তুলনায় অনেক বেশি পাওয়া গেছে। জান্নাত বেগমের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পাওয়া যায় ১৯ দশমিক ৬৬ ন্যানোমোল/লিটার। আর কবিতা রায়ের ক্ষেত্রে এই মাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৫০ ন্যানোমোল/লিটার।

ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের নিয়ম অনুযায়ী নারী বিভাগে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অ্যাথলেটের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকা বাধ্যতামূলক।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন জানান, মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই দুজনের পদক বাতিল ও নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, জান্নাতের কয়েকটি সোনাসহ মোট ৯টি পদক রয়েছে। অন্যদিকে কবিতার পদক রয়েছে প্রায় চারটি। এসব পদক এখন পরবর্তী যোগ্য প্রতিযোগীদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করা হবে।

ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে নারী বিভাগে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন না তারা।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পেনাল্টি মিসের হ্যাটট্রিক মেসির

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পেনাল্টি মিসের হ্যাটট্রিক মেসির

সময়টা ভালো যাচ্ছে না লিওনেল মেসির। এবার টানা তৃতীয় ম্যাচে পেনাল্টি মিস করলেন আর্জেন্টাইন তারকা। তার সেই ব্যর্থতার সঙ্গে দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্স মিলিয়ে ন্যাশভিল এসসির কাছে ৪-১ গোলে হেরেছে ইন্টার মিয়ামি। এর ফলে টানা তিন ম্যাচে হারের তিক্ত স্বাদ পেল দলটি।

ম্যাচের ২৩ মিনিটে সমতায় ফেরার বড় সুযোগ পেয়েছিল মিয়ামি। পেনাল্টি থেকে মেসির নেওয়া শট ডান দিকে নিচে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন ন্যাশভিলের গোলরক্ষক ব্রায়ান শোয়েক। ফিরতি বলে সের্হিও রেগিলন গোল করলেও ভিডিও পর্যালোচনায় দেখা যায়, পেনাল্টি নেওয়ার সময় তিনি বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

এই নিয়ে টানা তিনটি পেনাল্টি মিস করলেন মেসি। এর আগে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে দুটি পেনাল্টি মিস করেছিলেন তিনি—গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এবং শেষ ষোলোয় মিশরের বিপক্ষে।

এমএলএসে প্রায় এক বছর পর পেনাল্টি মিস করলেন মেসি। এর আগে সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর স্পট কিক থেকে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি।

জিওডিস পার্কে ম্যাচের ১৭ মিনিটে অ্যান্ডি নাহারের গোলে এগিয়ে যায় ন্যাশভিল। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে মেসির পাস থেকে তেলাস্কো সেগোভিয়া গোল করে মিয়ামিকে সমতায় ফেরান।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ন্যাশভিল। এমএলএসের সাবেক সেরা খেলোয়াড় হানি মুখতার দুটি গোল করেন। আর স্ট্রাইকার স্যাম সারিজ দুর্দান্ত ব্যাকহিল শটে আরেকটি গোল করেন।

ম্যাচের একপর্যায়ে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন মেসি। সারিজের তৃতীয় গোলের আগে ফাউলের শিকার হয়েছেন দাবি করে রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়ান তিনি। এ ঘটনায় তাকে হলুদ কার্ডও দেখানো হয়।

দ্বিতীয়ার্ধের শেষদিকে আরও হতাশা অপেক্ষা করছিল মেসির জন্য। তার একটি শট দুই পোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরে বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

ন্যাশভিলের চতুর্থ গোলটিও আসে মিয়ামির বড় ভুল থেকে। মিয়ামির গোলরক্ষক রোকো রিওস নোভো পেনাল্টি বক্সের অনেক বাইরে এসে পিছলে পড়ে যান। সেই সুযোগে ন্যাশভিলের গোলরক্ষক শোয়েকের লম্বা কিক ধরে খালি জালে বল পাঠান মুখতার।

এই ম্যাচের আগে এমএলএসে টানা ছয় ম্যাচ অপরাজিত ছিল মিয়ামি। ন্যাশভিলকে হারাতে পারলে ইস্টার্ন কনফারেন্স ও সাপোর্টার্স শিল্ডের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে উঠতে পারত তারা। কিন্তু হারের ফলে ন্যাশভিল এখন মিয়ামির চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট এগিয়ে।

এর আগে লিগস কাপে টানা দুই ম্যাচ হেরে নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি মিয়ামি। সেই দুই ম্যাচে অবশ্য মেসি ও লুইস সুয়ারেজ কেউই শুরুর একাদশে ছিলেন না।

বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর শনিবার প্রথমবারের মতো মিয়ামির শুরুর একাদশে ফেরেন মেসি। এর আগে মন্টেরির বিপক্ষে ম্যাচে ছিলেন না তিনি। বুধবার লিওনের বিপক্ষে হারের ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা।

এদিকে আগামী বুধবার ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের মাঠে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে ইন্টার মিয়ামি।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর মন্ত্র জানালেন মিরাজ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর মন্ত্র জানালেন মিরাজ

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে নেমে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো তাদের ঘরের মাঠে টেস্ট জয়ের কীর্তি গড়েছে টাইগাররা। এমন সাফল্যের পেছনে দলের আত্মবিশ্বাসই বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি জানিয়ে মিরাজ বলেন, ‘আমরা চমৎকার ক্রিকেট খেলেছি। অনেক দিন পর আমরা এখানে এলাম। দলের অসাধারণ পারফরম্যান্স ছিল, যা আমাদের চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মূল সিরিজ শুরুর আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে দলের বিপর্যয়ের মধ্যে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেছিলেন মিরাজ। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচটি হেরে যায় বাংলাদেশ।

তবে প্রস্তুতি ম্যাচের সেই ব্যর্থতা দলের আত্মবিশ্বাসে কোনো প্রভাব ফেলেনি বলে জানান মিরাজ। তার মতে, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে জিততে হলে নিজেদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখাটাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মিরাজ বলেন, ‘আমাদের সেই বিশ্বাসটা ছিল। আমরা জানতাম অস্ট্রেলিয়া বিশ্বমানের দল এবং তাদের দলে অনেক নামী খেলোয়াড় রয়েছে। তবে এটাও জানতাম, তাদের বিপক্ষে জয় পেলে সেটা দেশের ক্রিকেটের জন্য বিশাল এক অর্জন হবে। ড্রেসিংরুমের পরিষ্কার বার্তা ছিল—নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। তা না হলে অসম্ভবকে সম্ভব করা যাবে না।’

বাংলাদেশের এই জয়ে কোনো একজন ক্রিকেটারকে এককভাবে কৃতিত্ব দিতে চান না মিরাজ। তার মতে, পুরো দলের সম্মিলিত পারফরম্যান্সেই এসেছে ঐতিহাসিক সাফল্য।

ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন ক্রিকেটার দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। প্রথম দিন বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন হাসান মাহমুদ। দ্বিতীয় দিন ব্যাট হাতে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেছেন তানজিদ হাসান তামিম। আর চতুর্থ দিনে বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দিয়ে জয়ের পথ তৈরি করেছেন মিরাজ।

দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে মিরাজ বলেন, ‘আমরা সঠিক সময়ে ভালো ব্যাটিং ও বোলিং করেছি। প্রথম ইনিংসে তানজিদ তামিম যেভাবে ব্যাট করেছে, শান্ত ও মুমিনুল খুব ভালো করেছে। এরপর নিচের সারির ব্যাটারদের সঙ্গে চমৎকার জুটি আমাকে সাহায্য করেছে।’

নিজের ৬৫ রানের ইনিংস নিয়েও মিরাজ সতীর্থদের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সতীর্থরা ক্রিজে টিকে ছিলেন বলেই তার পক্ষে রান করা সম্ভব হয়েছে। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, ‘তোমার সামনে কে বল করছে, তা নিয়ে ভাববে না।’

মিরাজের মতে, আত্মবিশ্বাস, সঠিক সময়ে পারফরম্যান্স এবং দলের সবাই মিলে লড়াই করার মানসিকতাই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের মূল মন্ত্র।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম