খুঁজুন
advertisement
advertisement
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০ ভাদ্র, ১৪৩৩

দুই কিডনি বিকল, এক চোখ নষ্ট: সন্তানের জন্য বাঁচতে চান লাজু

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দুই কিডনি বিকল, এক চোখ নষ্ট: সন্তানের জন্য বাঁচতে চান লাজু

 

যোগফল প্রতিবেদক:

যে বয়সে পরিবারের হাল ধরার কথা, সেই বয়সেই দুই কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের শাহ শহিদ লাজু (৩৭)। এরই মধ্যে এক চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন তিনি, অন্য চোখেও ঝাপসা দেখছেন। দীর্ঘদিনের চিকিৎসার খরচ জোগাতে নিজের সম্পত্তির বড় অংশ বিক্রি করে এখন প্রায় নিঃস্ব এই ব্যক্তি।

শাহ শহিদ লাজু গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সাতগিরি গ্রামের কলিম উদ্দিনের ছেলে। পরিবারে তার স্ত্রী, দুই বছরের একমাত্র সন্তান এবং বৃদ্ধ বাবা-মা রয়েছেন।

লাজু জানান, প্রায় এক বছর ধরে তার চিকিৎসা চলছে। রংপুরের একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন তিনি। হঠাৎ চোখে দেখতে না পেয়ে চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসার একপর্যায়ে এক চোখের দৃষ্টি হারান তিনি। পরে জানতে পারেন, তার দুই কিডনিও বিকল হয়ে গেছে।

চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে এরই মধ্যে নিজের সম্পত্তির বড় অংশ বিক্রি করেছেন লাজু। এখন বসতভিটাটুকু ছাড়া আর কোনো সম্পদ নেই। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় এতদিন চিকিৎসা চালালেও দিন যত যাচ্ছে, চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা তত কঠিন হয়ে পড়ছে।

লাজু বলেন, ‘আমার ছোট ছেলেটার বয়স মাত্র দুই বছর। আমি শুধু ছেলেটার মুখের দিকে তাকিয়ে বাঁচতে চাই। সমাজের বিত্তবান মানুষ যদি এগিয়ে আসেন, তাহলে উন্নত চিকিৎসা নিয়ে আবার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারব।’

প্রায় ১০ বছর সংসার করার পর লাজু ও তার স্ত্রী নুরনাহার বেগমের ঘরে আসে একমাত্র সন্তান। কিন্তু সন্তানের বয়স দুই বছর হতে না হতেই বাবার গুরুতর অসুস্থতা পুরো পরিবারকে চরম সংকটে ফেলেছে।

নুরনাহার বেগম বলেন, ‘সংসার জীবনের প্রায় ১০ বছর পর আমাদের একটি ছেলে হয়েছে। তার বয়স এখন মাত্র দুই বছর। স্বামী অসুস্থ হওয়ার পর তার চিকিৎসার জন্য আমাদের যা কিছু ছিল, সব শেষ হয়ে গেছে। এখন চিকিৎসা করানোর মতো কোনো অর্থ নেই। মানুষের কাছে সাহায্য চাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘আমার সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সবাই যদি সহযোগিতা করতেন, তাহলে হয়তো আমার স্বামীকে বাঁচানো যেত। তিনি সুস্থ হয়ে পরিবারের দায়িত্ব পালন করুক, এটাই আমার চাওয়া।’

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রানু মিয়া বলেন, শাহ শহিদ লাজুর পরিবার অত্যন্ত অসহায়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা করাতে গিয়ে তাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন চিকিৎসার খরচ চালানোর মতো সামর্থ্য নেই। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে তার চিকিৎসা চালানো সম্ভব হতে পারে।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার বলেন, লাজুর বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক ও দুঃখজনক। দীর্ঘদিন চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারটি আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবেও লাজুর পাশে থাকার চেষ্টা করবেন বলে জানান।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাজীব কুমার বাগচী বলেন, সমাজসেবার পক্ষ থেকে লাজুকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

দুই কিডনি বিকল ও দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো গুরুতর সমস্যায় আক্রান্ত লাজুর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে এখন প্রয়োজন আর্থিক সহায়তা। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বাঁচার আকুতি জানিয়ে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্য

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম


মানবতার মুক্তির দিশারি মহানবী (সা.): তার আদর্শ ও শিক্ষা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৪:০৪ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মানবতার মুক্তির দিশারি মহানবী (সা.): তার আদর্শ ও শিক্ষা

যোগফল প্রতিবেদক:

রবিউল আউয়াল হিজরি সনের তৃতীয় মাস। প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন ও কর্মের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত হওয়ায় মুসলিম উম্মাহর কাছে মাসটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। প্রচলিত ঐতিহাসিক বর্ণনায় এ মাসে মহানবী (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের কথা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে তার হিজরতের সফরও এ মাসে মদিনায় পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক পরিণতি লাভ করে। ফলে রবিউল আউয়াল এলে মুসলমানদের মধ্যে নবীপ্রেম, তার আদর্শ অনুসরণের আকাঙ্ক্ষা এবং মহান জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণের প্রেরণা জাগ্রত হয়।

আল্লাহ তাআলা মহানবী (সা.)-কে শুধু কোনো জাতি বা ভূখণ্ডের জন্য নয়, সমগ্র বিশ্বমানবতার জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি আপনাকে সমগ্র জগতের জন্য রহমতস্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আল-আম্বিয়া: ১০৭)

তার জীবন ছিল শান্তি, সাম্য, ন্যায়, মানবিকতা, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও উত্তম চরিত্রের অনন্য দৃষ্টান্ত। তাই মহানবী (সা.)-এর আদর্শ শুধু ইতিহাসের কোনো অধ্যায় নয়; বরং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবন সুন্দর করার চিরন্তন পথনির্দেশ।

জাহেলিয়াতের অন্ধকারে আলোর আবির্ভাব

মহানবী (সা.)-এর আবির্ভাবের আগে আরব সমাজে নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। পাপাচার, ব্যভিচার, মিথ্যাচার, হত্যা, লুণ্ঠন, মদ্যপান, জুয়া, গোত্রীয় সংঘাত ও প্রতিহিংসা সমাজজীবনকে বিপর্যস্ত করেছিল। ধর্মীয় জীবনে শিরক ও কুফরও ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল।

নারীসমাজ ছিল চরম অবহেলা ও অধিকারবঞ্চনার শিকার। কন্যাসন্তান জন্মকে অনেকে লজ্জার বিষয় মনে করত এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জীবন্ত কন্যাশিশুকে মাটিতে পুঁতে ফেলার মতো নিষ্ঠুর প্রথাও চালু ছিল।

এমন অন্ধকারাচ্ছন্ন সময়ে মানবতার মুক্তির দিশারি ও সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আবির্ভূত হন। তার দাওয়াত মানুষের হৃদয়কে তাওহিদ, নৈতিকতা, ন্যায় ও মানবিকতার আলোয় আলোকিত করে।

জন্ম ও জীবনধারার তাৎপর্য

প্রচলিত সীরাতের বর্ণনা অনুযায়ী, ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে পবিত্র মক্কায় রবিউল আউয়াল মাসে সোমবার মহানবী (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার জন্মতারিখ হিসেবে ১২ রবিউল আউয়াল বহুল প্রচলিত হলেও সুনির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিক মতভেদ রয়েছে। তাই জন্মতারিখের পাশাপাশি তার জীবন, চরিত্র ও শিক্ষা অনুসরণ করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ—তার জন্য, যে আল্লাহ ও শেষ দিনের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।’ (সুরা আল-আহযাব: ২১)

শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর ভূমিকা

মহানবী (সা.) ছিলেন শান্তি ও সহমর্মিতার মূর্ত প্রতীক। তৎকালীন আরবের বিভিন্ন গোত্রে দীর্ঘদিন ধরে হিংসা-বিদ্বেষ, সংঘাত ও যুদ্ধবিগ্রহ চলছিল। তিনি সংঘাতের পরিবর্তে শান্তি, প্রতিহিংসার পরিবর্তে ক্ষমা এবং বিভেদের পরিবর্তে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দেন।

বিভিন্ন গোত্র ও জনগোষ্ঠীর সঙ্গে চুক্তি ও সন্ধির মাধ্যমে তিনি একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করেন। তার শিক্ষা ছিল—মানুষের অধিকার রক্ষা, অন্যায় ও জুলুম থেকে বিরত থাকা এবং পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ন্যায় ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা।

নারীসমাজের মর্যাদা ও অধিকার

মহানবী (সা.) নারীজাতির মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি নারীর প্রতি উত্তম আচরণের শিক্ষা দিয়েছেন এবং কন্যাসন্তানের লালন-পালনকে সম্মানের বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনদের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ঈমানের অধিকারী সে-ই, যার চরিত্র সর্বোত্তম; আর তোমাদের মধ্যে উত্তম তারাই, যারা তাদের নারীদের প্রতি উত্তম আচরণ করে।’ (তিরমিজি: ১১৬২)

আরেক হাদিসে নারীদের সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘তোমরা নারীদের প্রতি উত্তম আচরণের ব্যাপারে বিশেষভাবে যত্নশীল হও।’ (মুসলিম: ১৪৬৮)

ইসলাম নারীদের বিবাহে সম্মতি, মোহর, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকারসহ বিভিন্ন অধিকার প্রদান করে। একইভাবে বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত নারী ও এতিমদের অধিকার সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এতিমের পরিচর্যার মর্যাদা বোঝাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি এবং এতিমের অভিভাবক জান্নাতে এভাবে থাকব’—এ কথা বলে তিনি তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল পাশাপাশি দেখিয়েছেন। (বুখারি: ৬০০৫)

সাম্য, মানবমর্যাদা ও ভ্রাতৃত্ব

মহানবী (সা.) মানুষের মধ্যে বংশ, গোত্র, জাতি, ভাষা বা বর্ণের ভিত্তিতে অহংকার ও শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা দূর করেন। মানুষের মর্যাদার প্রকৃত মাপকাঠি হিসেবে তিনি তাকওয়া ও সৎকর্মকে গুরুত্ব দেন।

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘হে মানবজাতি! আমি তোমাদের একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিত হতে পার। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সে-ই অধিক মর্যাদাবান, যে অধিক তাকওয়াবান।’ (সুরা আল-হুজুরাত: ১৩)

বিদায় হজের ভাষণেও মহানবী (সা.) মানুষের পারস্পরিক মর্যাদা ও সাম্যের শিক্ষা দেন। জাতি, বর্ণ, ভাষা বা বংশ নয়—নৈতিকতা ও আল্লাহভীতিই মানুষের প্রকৃত মর্যাদার ভিত্তি।

আজকের সমাজে মহানবী (সা.)-এর আদর্শের প্রাসঙ্গিকতা

মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ মানে শুধু তাকে ভালোবাসার কথা বলা নয়; বরং তার চরিত্র ও শিক্ষাকে জীবনে বাস্তবায়ন করা। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়পরায়ণতা, দয়া, ক্ষমাশীলতা, প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা, নারী ও শিশুর প্রতি সম্মান এবং এতিম-দরিদ্রের পাশে দাঁড়ানো তার শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আজকের পৃথিবীতে হিংসা, বিদ্বেষ, বৈষম্য, পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক বিভাজন নানা রূপে দেখা যাচ্ছে। এমন বাস্তবতায় মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, মানবিকতা ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।

তার আদর্শ ব্যক্তি থেকে পরিবার, পরিবার থেকে সমাজ এবং সমাজ থেকে রাষ্ট্রে বাস্তবায়িত হলে একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ মানবসমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

নবীপ্রেমের প্রকৃত প্রকাশ

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহান রহমত। তিনি জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করে মানুষকে তাওহিদ, ন্যায়, সাম্য, শান্তি ও মানবিকতার পথে আহ্বান করেছেন। নারীকে মর্যাদা দিয়েছেন, এতিমের অধিকার রক্ষা করেছেন এবং দুর্বল ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়েছেন।

তাই রবিউল আউয়ালে নবীপ্রেম প্রকাশের সর্বোত্তম উপায় শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং তার সুন্নাহ ও আদর্শকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করা। আমাদের কথা, কাজ, পরিবার, ব্যবসা, সামাজিক আচরণ ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছুতে যদি মহানবী (সা.)-এর উত্তম চরিত্রের প্রতিফলন ঘটে, তাহলেই তার প্রতি ভালোবাসা সত্যিকার অর্থে সার্থক হবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করার, তার সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার এবং তার দেখানো শান্তি, সাম্য ও মানবিকতার পথে জীবন পরিচালনা করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

গাজীপুরে অরক্ষিত সেফটি ট্যাংকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গাজীপুরে অরক্ষিত সেফটি ট্যাংকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

যোগফল প্রতিবেদক:

গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার পূর্বচান্দরা মুন্সিরটেক এলাকায় অরক্ষিত সেফটি ট্যাংকে পড়ে ঐশি রায় (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় মাহমুদা বেগমের বহুতল ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ঐশি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার সমশ্যামনগর এলাকার সাগর চন্দ্র রায়ের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি স্কুলের প্লে-নার্সারির শিক্ষার্থী ছিল।

ঐশি বাবা-মায়ের সঙ্গে কালিয়াকৈরের মুন্সিরটেক এলাকায় মোজাফফর আলীর বাড়িতে ভাড়া থাকত। তার বাবা পেশায় চা দোকানি।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় পাশের বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিল ঐশি। পথে মাহমুদা বেগমের বহুতল ভবনের অরক্ষিত সেফটি ট্যাংকে পড়ে গুরুতর আহত হয় সে।

পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে সফিপুরের তানহা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেফটি ট্যাংকটির ঢাকনা না থাকায় এটি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল। এ কারণেই শিশুটি সেখানে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। ভবন মালিকের এমন উদাসীনতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ শিশুটির লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

সেবার পরিধি বাড়িয়ে মেট্রোরেলে আয় বাড়াতে নানা উদ্যোগ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯:১২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সেবার পরিধি বাড়িয়ে মেট্রোরেলে আয় বাড়াতে নানা উদ্যোগ

যোগফল প্রতিবেদক: 

মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিজস্ব রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। এর অংশ হিসেবে উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বিভিন্ন স্টেশনে ফুড ভেন্ডিং মেশিন ও রিটেইল শপ স্থাপনের পাশাপাশি ট্রেনের ভেতরে ও বাইরে বিজ্ঞাপনের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ডিএমটিসিএলের একাধিক দরপত্র বিশ্লেষণে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব উদ্যোগে ভাড়ার হার, প্রতিবছর ভাড়া বাড়ানোর শর্ত, নির্দিষ্ট স্টেশন বাদ দেওয়া, যাত্রী চলাচল ও নিরাপত্তা এবং বিজ্ঞাপন নীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

১৬ স্টেশনে ভেন্ডিং মেশিন

মেট্রোরেল স্টেশনের কনকোর্স এলাকার নন-পেইড জোনে ফুড ভেন্ডিং মেশিন স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে ডিএমটিসিএল। উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১৬টি স্টেশন থাকলেও কোন স্টেশনের কোথায় এবং সর্বোচ্চ কতটি মেশিন বসানো হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এ নিয়ে ডিএমটিসিএলের একাধিক বোর্ড সভায় আপত্তিও উঠেছে। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, আগের বছরের ভাড়ার ওপর প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে ভাড়া বাড়বে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে এ ধরনের বাড়তি আর্থিক চাপ ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

এ ছাড়া ভেন্ডিং মেশিনে বিক্রি হওয়া খাদ্যপণ্যের মান, ধরন ও দাম, বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিল এবং মেশিনের নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব কার—এসব বিষয়েও স্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৪ স্টেশনে ৩১ রিটেইল শপ

আগারগাঁও ও কারওয়ান বাজার স্টেশন বাদ দিয়ে বাকি ১৪টি স্টেশনে ৩১টি রিটেইল শপ ভাড়া দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ডিএমটিসিএল। তবে গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এ দুটি স্টেশন বাদ দেওয়ার কারণ জানা যায়নি।

কোন স্টেশনে কতটি দোকান থাকবে, দোকানের আয়তন ও ধরন কী হবে, ভিত্তিমূল্য কত এবং বরাদ্দপ্রাপ্তদের কী শর্ত মানতে হবে—এসব বিষয় নিয়েও ব্যবসায়ীদের আগ্রহ রয়েছে।

বিজ্ঞাপনের পরিধিও বাড়ছে

মেট্রোরেলের রাজস্ব বাড়াতে বিজ্ঞাপন খাতেও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৪ সেট ট্রেনের প্রতিটিতে ৬০টি আলোকিত মনিটর ও প্রায় ২৮০টি আলোহীন বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিটি ট্রেনের ভেতরে ১০৫ দশমিক ৪৩ বর্গমিটার আলোহীন স্থানে বিজ্ঞাপন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে যাত্রী চলাচলে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

দরপত্রে অংশ নিতে প্রতিষ্ঠানের আগের বছরের টার্নওভার কমপক্ষে ১ কোটি টাকা এবং বিজ্ঞাপন খাতে অন্তত দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এক বছরের ভাড়া এককালীন অগ্রিম পরিশোধের শর্তও রয়েছে।

জবাব দেয়নি ডিএমটিসিএল

এসব বিষয়ে ডিএমটিসিএলকে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হলেও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম ও পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. আফতাবুজ্জামান কোনো জবাব দেননি। ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফীও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার কথা জানিয়ে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

মেট্রোরেলের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন আয়ের পথ তৈরি হতে পারে। তবে ভাড়া, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, যাত্রী চলাচল ও বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট সমাধানও প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম