খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২ ভাদ্র, ১৪৩৩

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের বাজারে কচু-লতি

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের বাজারে কচু-লতি

 যোগফল প্রতিবেদক:

একসময় গ্রামের নিম্নবিত্ত মানুষের খাবার হিসেবে পরিচিত ছিল কচু-লতি। সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা বদলে গেছে। এখন কুমিল্লার বরুড়ায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত কচু-লতি দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে।

ধানের তুলনায় কচু-লতি চাষে লাভ বেশি হওয়ায় বরুড়ার অনেক কৃষক ধান চাষের পরিবর্তে এ সবজি চাষে ঝুঁকেছেন। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে কচু-লতি চাষ হচ্ছে। এ চাষকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানও।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরুড়ায় বর্তমানে প্রায় ৪৫৯ হেক্টর জমিতে আড়াই হাজারের বেশি কৃষক বাণিজ্যিকভাবে কচু-লতি চাষ করছেন। বছরে প্রায় ১৭০ থেকে ১৮০ মেট্রিক টন কচু-লতি রপ্তানি হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৭ থেকে ১৮ কোটি টাকা।

উপজেলার আগানগর, ভবানীপুর, শিলমুড়ী উত্তর ও খোশবাস দক্ষিণ ইউনিয়নে কচু-লতির চাষ বেশি হচ্ছে। ২০১৫ সালের দিকে এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে কচু-লতি চাষ শুরু হয়। কম উৎপাদন খরচ, দ্রুত ফলন এবং তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ায় ধীরে ধীরে কৃষকদের মধ্যে এ চাষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বরুড়া থেকে বিপুল পরিমাণ কচু-লতি দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পাঠানো হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্ষেত থেকে লতি সংগ্রহ করেন। পরে সেগুলো ট্রাকে করে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। সেখান থেকে বাছাই করা উন্নতমানের কচু-লতি বিভিন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশের বাজারে পৌঁছে যায়।

ক্ষেত থেকে লতি সংগ্রহের পর তা পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করে আঁটি বাঁধা হয়। এরপর পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয়। ভালো মানের মোটা ও লম্বা লতিই মূলত রপ্তানির জন্য বাছাই করা হয়।

বরুড়ার আগানগর ইউনিয়নের বিজয়পুর গ্রামে শনি ও মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিন কচু-লতির হাট বসে। দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা লতি নিয়ে হাটে আসতে শুরু করেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররাও সেখানে জড়ো হন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাট জমজমাট হয়ে ওঠে।

বারাইপুর গ্রামের কৃষক হারুন উর রশীদ জানান, বর্তমানে প্রতি কেজি লতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। সপ্তাহে এক থেকে দুইবার লতি সংগ্রহ করে বিক্রি করা যায়। তিনি ৪৫ শতাংশ জমিতে কচু-লতি চাষ করে এ পর্যন্ত ৮০ হাজার টাকার বেশি বিক্রি করেছেন। তাঁর মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা।

আরেক কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, এখন তাঁদের বাজারে নিয়ে যেতে হয় না। ব্যবসায়ীরাই অনেক সময় বাড়ি থেকে লতি সংগ্রহ করে নিয়ে যান। ভালো মানের মোটা লতি কেজিপ্রতি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং চিকন লতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারদের ভাষ্য, ভালো মানের কচু-লতি স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বিদেশেও পাঠানো হয়। ঢাকার বিভিন্ন আড়তে পাঠানোর পর রপ্তানিকারকদের মাধ্যমে এসব পণ্য বিদেশের বাজারে পৌঁছে যায়।

একজন পাইকার জানান, গত কয়েক বছর ধরে তিনি বরুড়া থেকে কচু-লতি কিনে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর আড়তে পাঠাচ্ছেন। ভালো মানের লতি কয়েক ধাপ হাতবদল হয়ে রপ্তানিকারকদের মাধ্যমে বিদেশে যায়।

বরুড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলার প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ সরাসরি কচু-লতি চাষের সঙ্গে জড়িত। কৃষকদের উৎপাদন বাড়ানো এবং বিদেশে রপ্তানির উপযোগী মান বজায় রাখতে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে কচু-লতি চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ। সঠিক চাষাবাদ ও মান নিশ্চিত করা গেলে এ সবজি রপ্তানির মাধ্যমে কৃষকদের আয় আরও বাড়ানো সম্ভব।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

কুড়িগ্রামে জিপিএ-৫ পাওয়া ৫০০ শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কুড়িগ্রামে জিপিএ-৫ পাওয়া ৫০০ শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

 যোগফল প্রতিবেদক:

কুড়িগ্রামে এসএসসি ও দাখিল সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৫০০ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা শাখা। একই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠন নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রাম পৌর অডিটোরিয়াম হলরুমে ‘মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি ইনসাফের বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া ৫০০ শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত ও ইসলামী সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বক্তব্য এবং ক্যারিয়ারবিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও ডাকসু ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল।

জেলা শিবিরের সেক্রেটারি মোবাশ্বের রাশেদীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক আজিজুর রহমান স্বপন, চিকিৎসক ডা. মো. আমিনুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হামিদসহ অনেকে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসিফ আব্দুল্লাহ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ভালো ফলাফল জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলেও এটিই চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, নেতৃত্বগুণ ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশ গঠনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। ভবিষ্যতে যে পেশাতেই যাওয়া হোক, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তারা বলেন, পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের পাশাপাশি বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জ্ঞান, দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ অর্জন জরুরি। তরুণ প্রজন্মকে মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে এবং অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।

অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও সংবর্ধিত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা শেষে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান, দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে: দুলু

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান, দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে: দুলু

 যোগফল প্রতিবেদক:

দেশে কৃষকদের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর অপচেষ্টা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে লালমনিরহাট সার্কিট হাউসে সার বিক্রি, বিতরণ ও মজুদ পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে সার মজুদ রয়েছে। ফলে কৃষকদের চাহিদা পূরণে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কেউ যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সার মৌসুমকে কেন্দ্র করে মজুদদারি, কালোবাজারি কিংবা সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার মতো কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। এ ধরনের অপতৎপরতার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, সার উত্তোলন, বিতরণ ও বিক্রির পাশাপাশি ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রম পর্যালোচনা করে কৃষি মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দিতে সরকার তিন সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে। গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওই কমিটির সদস্য করা হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুকে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহা. রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম মমিনুল হকসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

সভায় জেলার সার ব্যবসায়ী ও ডিলাররাও উপস্থিত ছিলেন।

jসাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

প্রাণিসম্পদ পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র হবে: মন্ত্রী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
প্রাণিসম্পদ পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র হবে: মন্ত্রী

 যোগফল প্রতিবেদক:

খামারিদের উৎপাদিত প্রাণিসম্পদ পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্যাকেজিং, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে স্থানীয় পর্যায়ে ছোট আকারের প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। এতে উৎপাদকরা পণ্যের সঠিক মূল্য পাওয়ার পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) মুন্সীগঞ্জের উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী সুফলভোগী প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার পরও কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তা বরদাশত করা হবে না। কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

কৃষি উৎপাদনের সঠিক তথ্য সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কোন এলাকায় কত জমিতে কী ধরনের ফসল উৎপাদিত হচ্ছে, কী পরিমাণ সার ও বীজ প্রয়োজন এবং উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা কত—এসব তথ্য আগে থেকেই সরকারের হাতে থাকা প্রয়োজন। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে এসব তথ্য সংরক্ষণ করা গেলে কৃষি উপকরণ সরবরাহ আরও সুশৃঙ্খল করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। মাছ চাষ, গবাদিপশু পালন, দুধ উৎপাদন ও বিক্রি কিংবা পান চাষ—এসব কর্মকাণ্ডও কৃষির অংশ। কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।

মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জলাশয়ে অভয়াশ্রম স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলার খাস জলাশয়ে পরিকল্পিতভাবে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হবে। শুষ্ক মৌসুমে এসব অভয়াশ্রম মাছের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করবে এবং বর্ষাকালে মাছের প্রজনন ও বিস্তারে ভূমিকা রাখবে। তবে এ উদ্যোগ সফল করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।

বাংলাদেশকে কৃষিপণ্য আমদানিনির্ভর দেশ থেকে রপ্তানিমুখী দেশে পরিণত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এ জন্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্যের মান নিশ্চিত, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।

এ সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং প্রকল্পের সুফলভোগী খামারিরা উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আবদুর রহিম।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ২৫ জন সুফলভোগী প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ২৫টি বকনা গরু ও প্রয়োজনীয় প্রাণিখাদ্য বিতরণ করা হয়। এছাড়া ১০০ জন কৃষক-কৃষাণীর মাঝে ৫০০টি উন্নত জাতের বৃক্ষের চারা দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রী ফুলদী নদীর খালে রুই জাতীয় ২৮৬ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম