খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২ ভাদ্র, ১৪৩৩

ফাইভ-জির পূর্ণ সক্ষমতায় শক্তিশালী ফাইবার নেটওয়ার্ক জরুরি: বিশেষজ্ঞরা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ফাইভ-জির পূর্ণ সক্ষমতায় শক্তিশালী ফাইবার নেটওয়ার্ক জরুরি: বিশেষজ্ঞরা

যোগফল প্রতিবেদক:

বাংলাদেশে ফাইভ-জি প্রযুক্তির পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে শক্তিশালী অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি ঘরে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে সমন্বিত ও শেয়ারড ফাইবার অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন তারা।

সম্প্রতি গাজীপুরের ছুটি রিসোর্টে টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মশালা ‘ফিক্সড ব্রডব্যান্ড: ফিউচার অব বাংলাদেশ’-এ এসব কথা উঠে আসে।

কর্মশালায় টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতের সাংবাদিক, বিশেষজ্ঞ এবং ব্রডব্যান্ড শিল্পের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় দেশের ব্রডব্যান্ড শিল্পের ভবিষ্যৎ, পুরোনো নীতিমালা সংস্কার, ফাইবার অবকাঠামোর নিরাপত্তা, স্থানীয় বিনিয়োগের সুরক্ষা, ইন্টারনেটের গতি ও মূল্য এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

ফাইভ-জির জন্য ফাইবার নেটওয়ার্ক জরুরি

তথ্যপ্রযুক্তি ও নেটওয়ার্ক বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, ফাইভ-জি টাওয়ারের পূর্ণ সক্ষমতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি টাওয়ারে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ প্রয়োজন। শক্তিশালী ফাইবার নেটওয়ার্ক ছাড়া ফাইভ-জির শতভাগ সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, শুধু বাসাবাড়িতে নয়, মোবাইল নেটওয়ার্কের অবকাঠামোতেও শক্তিশালী ফাইবার সংযোগ পৌঁছে দিতে হবে। কারণ ভবিষ্যতের যোগাযোগব্যবস্থা ক্রমেই বেশি ডেটানির্ভর হয়ে উঠছে।

সুমন সাবিরের মতে, শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত প্রতিটি বাসাবাড়িতে আন্ডারগ্রাউন্ড ফাইবার পৌঁছে দেওয়া কোনো একক ছোট আইএসপির পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সর্বজনীন ব্রডব্যান্ড নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ও সমন্বিত অবকাঠামো গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

ডিজিটাল সেবায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা

কর্মশালায় ফাইবারনির্ভর ডিজিটাল সেবার সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে ইন্টারনেটভিত্তিক সেবার মাধ্যমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মত দেন সুমন সাবির।

তার মতে, শুধু ফাইবার অবকাঠামো তৈরি করলেই ডিজিটাল বিপ্লব সম্পূর্ণ হবে না। এর পাশাপাশি প্রয়োজন দেশীয় সফটওয়্যার, অ্যাপ্লিকেশন ও ব্যবহারবান্ধব ডিজিটাল সেবা। দেশীয় মেধা ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যবসা ও সরকারি সেবায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা সম্ভব।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল ও আইটিসির মাধ্যমে পর্যাপ্ত ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করলে দেশের ইন্টারনেট ধীর হয়ে যায়—এমন ধারণার বাস্তব ভিত্তি নেই। বিদ্যমান সক্ষমতার সঠিক ব্যবহার ও কার্যকর নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

দুই দশক পর নীতিমালা সংস্কারের প্রয়োজন

ফাইবার অ্যাট হোমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মইনুল সিদ্দিকী বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের নীতিমালায় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সময়োপযোগী।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালের আইএলডিটিএস নীতিমালার প্রায় দুই দশক পর নতুন টেলিযোগাযোগ নীতিমালা চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নীতিমালা প্রণয়নে শিল্পের বাস্তবতা, অংশীজনদের মতামত ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

আইটি ও টেলিকম খাতকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে কার্যকর নীতিমালা তৈরি করা গেলে দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের গতি আরও বাড়বে বলেও মত দেন তিনি।

বিনিয়োগের সুরক্ষায় প্রয়োজন সুস্পষ্ট নীতি

মইনুল সিদ্দিকী বলেন, ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর কার্যকর থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে অবকাঠামো সুরক্ষায় এখনো প্রয়োজনীয় নীতি ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে।

তার মতে, একই এলাকায় পরিকল্পনাহীনভাবে বারবার নতুন নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হলে ছোট-বড় সব বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়ে। কোন প্রতিষ্ঠান কী ধরনের নেটওয়ার্ক তৈরি করবে, কোথায় অবকাঠামো ভাগাভাগি করা হবে এবং বিনিয়োগ কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে—এসব বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন।

স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সমান সুযোগের দাবি

বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগকে স্বাগত জানালেও টেলিযোগাযোগ খাতের লাভজনক অংশে স্থানীয় ও দেশীয় কোম্পানিগুলোকেও সমান সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দেন মইনুল সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগ করে অবকাঠামো ও দক্ষতা তৈরি করেছেন। তাই টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

কম দামে দ্রুতগতির ইন্টারনেট বড় চ্যালেঞ্জ

কর্মশালায় দেশের ব্রডব্যান্ড শিল্পের অর্থনৈতিক বাস্তবতাও উঠে আসে। মইনুল সিদ্দিকী বলেন, উন্নত দেশগুলোতে একজন ব্রডব্যান্ড গ্রাহক থেকে মাসে ৩০ থেকে ৫০ ডলার পর্যন্ত রাজস্ব পাওয়া গেলেও বাংলাদেশে তা ৫ থেকে ১০ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

এই সীমিত আয়ের মধ্যেই নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এবং গ্রাহকদের উচ্চগতির ইন্টারনেট দিতে হচ্ছে। ফলে প্রতিটি ঘরে ১০০ এমবিপিএস বা তার বেশি গতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া শুধু প্রযুক্তিগত নয়, অর্থনৈতিকভাবেও বড় চ্যালেঞ্জ।

ফাইবারভিত্তিক অবকাঠামোয় ডিজিটাল ভবিষ্যৎ

কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা বলেন, শক্তিশালী ফাইবার নেটওয়ার্ক, পরিকল্পিত অবকাঠামো, কার্যকর নীতিমালা এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত সাশ্রয়ী ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

তাদের মতে, শক্তিশালী ফাইবারভিত্তিক অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়েই বাংলাদেশের আগামী দিনের ফাইভ-জি, স্মার্ট স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল শিক্ষা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির ভিত আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

কুড়িগ্রামে জিপিএ-৫ পাওয়া ৫০০ শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কুড়িগ্রামে জিপিএ-৫ পাওয়া ৫০০ শিক্ষার্থীকে ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

 যোগফল প্রতিবেদক:

কুড়িগ্রামে এসএসসি ও দাখিল সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৫০০ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেলা শাখা। একই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠন নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রাম পৌর অডিটোরিয়াম হলরুমে ‘মেধা, সততা ও দেশপ্রেমে গড়ি ইনসাফের বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া ৫০০ শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত ও ইসলামী সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বক্তব্য এবং ক্যারিয়ারবিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও ডাকসু ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল।

জেলা শিবিরের সেক্রেটারি মোবাশ্বের রাশেদীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক আজিজুর রহমান স্বপন, চিকিৎসক ডা. মো. আমিনুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হামিদসহ অনেকে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসিফ আব্দুল্লাহ জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ভালো ফলাফল জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলেও এটিই চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, নেতৃত্বগুণ ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশ গঠনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। ভবিষ্যতে যে পেশাতেই যাওয়া হোক, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তারা বলেন, পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের পাশাপাশি বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জ্ঞান, দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ অর্জন জরুরি। তরুণ প্রজন্মকে মেধা ও নৈতিকতার সমন্বয়ে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে এবং অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।

অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও সংবর্ধিত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা শেষে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান, দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে: দুলু

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কৃষকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান, দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে: দুলু

 যোগফল প্রতিবেদক:

দেশে কৃষকদের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর অপচেষ্টা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে লালমনিরহাট সার্কিট হাউসে সার বিক্রি, বিতরণ ও মজুদ পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে সার মজুদ রয়েছে। ফলে কৃষকদের চাহিদা পূরণে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কেউ যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সার মৌসুমকে কেন্দ্র করে মজুদদারি, কালোবাজারি কিংবা সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার মতো কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। এ ধরনের অপতৎপরতার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, সার উত্তোলন, বিতরণ ও বিক্রির পাশাপাশি ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রম পর্যালোচনা করে কৃষি মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দিতে সরকার তিন সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে। গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওই কমিটির সদস্য করা হয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুকে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহা. রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম মমিনুল হকসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

সভায় জেলার সার ব্যবসায়ী ও ডিলাররাও উপস্থিত ছিলেন।

jসাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

প্রাণিসম্পদ পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র হবে: মন্ত্রী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
প্রাণিসম্পদ পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র হবে: মন্ত্রী

 যোগফল প্রতিবেদক:

খামারিদের উৎপাদিত প্রাণিসম্পদ পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্যাকেজিং, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে স্থানীয় পর্যায়ে ছোট আকারের প্যাকেজিং ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। এতে উৎপাদকরা পণ্যের সঠিক মূল্য পাওয়ার পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর হবে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) মুন্সীগঞ্জের উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী সুফলভোগী প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার পরও কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তা বরদাশত করা হবে না। কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

কৃষি উৎপাদনের সঠিক তথ্য সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কোন এলাকায় কত জমিতে কী ধরনের ফসল উৎপাদিত হচ্ছে, কী পরিমাণ সার ও বীজ প্রয়োজন এবং উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা কত—এসব তথ্য আগে থেকেই সরকারের হাতে থাকা প্রয়োজন। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে এসব তথ্য সংরক্ষণ করা গেলে কৃষি উপকরণ সরবরাহ আরও সুশৃঙ্খল করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। মাছ চাষ, গবাদিপশু পালন, দুধ উৎপাদন ও বিক্রি কিংবা পান চাষ—এসব কর্মকাণ্ডও কৃষির অংশ। কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।

মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জলাশয়ে অভয়াশ্রম স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলার খাস জলাশয়ে পরিকল্পিতভাবে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হবে। শুষ্ক মৌসুমে এসব অভয়াশ্রম মাছের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করবে এবং বর্ষাকালে মাছের প্রজনন ও বিস্তারে ভূমিকা রাখবে। তবে এ উদ্যোগ সফল করতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।

বাংলাদেশকে কৃষিপণ্য আমদানিনির্ভর দেশ থেকে রপ্তানিমুখী দেশে পরিণত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এ জন্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্যের মান নিশ্চিত, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা।

এ সময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং প্রকল্পের সুফলভোগী খামারিরা উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আবদুর রহিম।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ২৫ জন সুফলভোগী প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ২৫টি বকনা গরু ও প্রয়োজনীয় প্রাণিখাদ্য বিতরণ করা হয়। এছাড়া ১০০ জন কৃষক-কৃষাণীর মাঝে ৫০০টি উন্নত জাতের বৃক্ষের চারা দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রী ফুলদী নদীর খালে রুই জাতীয় ২৮৬ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম