অটোরিকশাচালক থেকে কোটিপতি, আ.লীগ পুনর্বাসনের কারিগর কে এই ফিরোজ?
যোগফল প্রতিবেদক:
রাজশাহী প্রতিনিধি: একসময় অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন রাজশাহীর বাগমারার ফিরোজুল ইসলাম ফিরোজ। কয়েক বছরের ব্যবধানে বদলে গেছে তার জীবনযাত্রা। গড়ে তুলেছেন ডুপ্লেক্স বাড়ি, ব্যবহার করছেন বিলাসবহুল গাড়ি। পাশাপাশি কোটি কোটি টাকার ব্যবসা ও এনজিও গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাগমারায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনে ফিরোজ সক্রিয় হয়ে উঠেছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। পলাতক নেতাকর্মীদের আশ্রয় দেওয়া, গোপন বৈঠকের আয়োজন এবং সাংগঠনিক তৎপরতা চালানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগের কারণে প্রশ্ন উঠেছে, অটোরিকশাচালক থেকে অঢেল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠা ফিরোজই কি বাগমারায় আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের নেপথ্যের অন্যতম কারিগর?
অভিযোগ রয়েছে, রাজশাহী জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের দিকনির্দেশনায় ফিরোজ এলাকায় সাংগঠনিক তৎপরতা চালাচ্ছেন। শুধু বাগমারাতেই নয়, ঢাকার সাভারেও একটি বড় বাড়ি ভাড়া নিয়ে বাগমারা থেকে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সেখানে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া ফিরোজের কাছে আওয়ামী লীগের বিপুল অঙ্কের তহবিল আসছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ফিরোজুল ইসলাম ফিরোজের বক্তব্য জানা যায়নি।
সূত্র জানায়, গত ১২ আগস্ট ফিরোজের নিজস্ব এনজিও কার্যালয়ে একটি গোপন বৈঠক চলছিল। এ সময় পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ফিরোজের কয়েকজন সহযোগী পালিয়ে গেলেও ফিরোজুল ইসলাম ফিরোজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে ফিরোজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তার আর্থিক সক্ষমতা ও বিভিন্ন পর্যায়ের যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে পলাতক নেতাকর্মীদের আশ্রয় এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, অটোরিকশাচালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা ফিরোজ অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে বিপুল সম্পদের মালিক হলেন, তার অর্থের উৎস এবং ব্যবসা ও এনজিও কার্যক্রম নিয়েও এলাকায় নানা প্রশ্ন রয়েছে।
তবে ফিরোজুল ইসলাম ফিরোজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন