কক্সবাজারে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় বিশেষ সচেতনতামূলক প্রচারণা
যোগফল প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকার স্কুলগামী কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, অধিকার ও আইনি সেবা সম্পর্কে সচেতন করতে তিন দিনব্যাপী বিশেষ প্রচারণা শুরু হয়েছে।
ইউনিসেফের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় ‘স্বপ্ন সারথি–সি-শোর গার্লস প্রজেক্ট’-এর আওতায় কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট। রোববার (৩১ আগস্ট) শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
আবুল কাশেম হাই স্কুলে শুরু হওয়া প্রচারণাটি পর্যায়ক্রমে কুরুলিয়া হাই স্কুল ও খুরুশকুল হাই স্কুলে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আয়োজিত সেশনে তিনটি বিদ্যালয়ের মোট ৭৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
আয়োজকরা জানান, উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক কিশোর-কিশোরী প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে সময়মতো বিভিন্ন সেবা নিতে পারে না। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আইনি সহায়তাসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা সম্পর্কে তাদের মধ্যে তথ্যের ঘাটতি রয়েছে।
এই ঘাটতি দূর করতে প্রচারণার বিভিন্ন সেশনে শিশু সুরক্ষা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, সেফগার্ডিং এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যুববান্ধব সেবা গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে ‘সার্ভিস ডিরেক্টরি’।
প্রকল্প ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন বলেন, সেবা ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য ও সুপারিশের প্রকৃত সুফল তখনই পাওয়া যাবে, যখন কিশোর-কিশোরীরা বাস্তবে এসব সেবা গ্রহণ করতে পারবে।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ হেল্পলাইন ১০৯ এবং শিশু সুরক্ষা হেল্পলাইন ১০৯৮ সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে এসব নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার জন্য কোথায় রেফার করা হবে, সে বিষয়েও ধারণা দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে শিশু সুরক্ষা বিষয়ক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কুইজ ও উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়েছে।
আবুল কাশেম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু কোথায় কী সেবা পাওয়া যায় তা জানলেই হবে না; প্রয়োজনে কীভাবে সেই সেবায় পৌঁছাতে হবে এবং নিজেদের অধিকার কী, সেটিও জানা জরুরি। এ ধরনের উদ্যোগ তাদের আরও সচেতন, নিরাপদ, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আসফিকা ইসলাম জানায়, কোনো সমস্যায় পড়লে কোথায় সাহায্য চাইতে হবে, তা অনেক সময় জানা থাকে না। এই সেশন থেকে হেল্পলাইন নম্বর, বিভিন্ন সেবা পাওয়ার স্থান এবং নিজের ও অন্যের অধিকার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছে সে। প্রয়োজনে এখন সঠিক জায়গায় সাহায্য চাইতে পারবে বলেও জানায় ওই শিক্ষার্থী।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের অধিকার ও প্রয়োজনীয় সেবা সম্পর্কে জানতে পারবে। পাশাপাশি যেকোনো সমস্যায় ভয় না পেয়ে সঠিক জায়গায় সহায়তা চাওয়ার আত্মবিশ্বাসও তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে স্থানীয় সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর যোগাযোগ গড়ে উঠবে।
‘স্বপ্ন সারথি–সি-শোর গার্লস প্রজেক্ট’ শিক্ষা, জীবনদক্ষতা ও নিরাপত্তাসেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে উপকূলীয় কিশোরীদের ক্ষমতায়নে কাজ করছে। প্রকল্পের আওতায় তৈরি ‘সার্ভিস ডিরেক্টরি’ শিক্ষার্থীদের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রয়োজনীয় সেবা সম্পর্কে সঠিক তথ্য ও দিকনির্দেশনা পেতে সহায়তা করছে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন