নদীভাঙনে হুমকিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মহাশ্মশান
যোগফল প্রতিবেদক:
নড়াইলে চিত্রা নদীর তীব্র ভাঙনে ঝুঁকির মুখে পড়েছে হবখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পাজারখালি মহাশ্মশানসহ নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি। ইতোমধ্যে ভাঙনে মহাশ্মশানের প্রায় ২৫-৩০ হাত জায়গাসহ বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানাপ্রাচীরে ফাটল দেখা দেওয়ায় ভবনটি নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন ঠেকানো না গেলে একদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হতে পারে, অন্যদিকে মহাশ্মশানের জায়গা সংকুচিত হওয়ায় মরদেহ সৎকারেও দেখা দিতে পারে জটিলতা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চিত্রা নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকায় প্রতিদিনই নদীতীরের চিত্র বদলে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে পাজারখালি মহাশ্মশানের বসার জায়গা ও চিতার বড় একটি অংশ নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে।
তিন গ্রামের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা জানান, মহাশ্মশানের জায়গা নদীতে বিলীন হওয়ায় মরদেহ দাহ করা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে সৎকারের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
এদিকে নদীতীরবর্তী বসতবাড়িগুলোতেও দেখা দিয়েছে ফাটল। ফলে ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, এলাকায় পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা না থাকায় হবখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি স্থানীয়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেটিও ভাঙনের কবলে পড়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মহাশ্মশান ও বসতবাড়িগুলো রক্ষায় দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন, বর্ষা মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষায় দ্রুত জরুরি প্রতিরক্ষামূলক কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নড়াইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থায়ীভাবে নদীতীর সংরক্ষণের জন্য একটি ডিপিপি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্ট পাওয়ার পর স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মহাশ্মশান ও নদীতীরবর্তী বসতবাড়িগুলো রক্ষা করা হবে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন