সকালে কিশমিশ ভেজানো পানি পান করলে ত্বক ও চুলে কী উপকার হতে পারে?
যোগফল প্রতিবেদক:
সকালে ঘুম থেকে উঠে কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। অনেকে আবার রাতে পানিতে কিশমিশ ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি পান করেন। পুষ্টিগুণের কারণে কিশমিশ স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। ত্বক ও চুলের সুস্থতা বজায় রাখতেও এর কিছু পরোক্ষ উপকার রয়েছে।
কিশমিশে রয়েছে বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তবে শুধু কিশমিশ ভেজানো পানি পান করলেই ত্বক বা চুলের নির্দিষ্ট সমস্যা দূর হবে—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সহায়ক
কিশমিশে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতির বিরুদ্ধে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি এতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে, যা ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতেও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখতে পারে।
চুলের স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে
কিশমিশে আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এগুলো শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে সহায়তা করে। পর্যাপ্ত পুষ্টি চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে অতিরিক্ত চুল পড়া বা খুশকির চিকিৎসা হিসেবে কিশমিশ ভেজানো পানির কার্যকারিতা নিশ্চিত নয়।
ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক
বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বকে বলিরেখা ও মলিনতার মতো পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই দেখা দিতে পারে। কিশমিশের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে এটি সামগ্রিকভাবে সুস্থতা ও ত্বকের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
ব্রণ কমানোর নিশ্চয়তা নেই
কিশমিশ ভেজানো পানি পান করলে ব্রণ বা ত্বকের লালচে ভাব কমবে—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। হরমোন, খাদ্যাভ্যাস, ত্বকের ধরনসহ বিভিন্ন কারণে ব্রণ হতে পারে। তাই ব্রণের চিকিৎসায় শুধু ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কীভাবে খাবেন?
পরিমিত পরিমাণে কিশমিশ সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। রাতে কিশমিশ পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে কিশমিশসহ পানি খাওয়ার অভ্যাস ক্ষতিকর নয়, তবে এটিকে কোনো বিশেষ চিকিৎসা বা ‘ডিটক্স’ পদ্ধতি হিসেবে দেখার কারণ নেই।
মনে রাখবেন: ত্বক ও চুল ভালো রাখতে শুধু একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি, ভালো ঘুম ও নিয়মিত পরিচর্যার দিকে নজর দেওয়া জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে চুল পড়া, ব্রণ, খুশকি, র্যাশ বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে চিকিৎসক বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন