খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯ ভাদ্র, ১৪৩৩

তনু হত্যা মামলায় ২ জনের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তনু হত্যা মামলায় ২ জনের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ

 যোগফল প্রতিবেদক:

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার দুই সন্দেহভাজন মো. জাহিদুজ্জামান ও মো. শাহীন আলমের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে ইন্টারপোল।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) তাদের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, তনু হত্যা মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমকে গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের আগেই তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে পলাতক দুই সন্দেহভাজনকে আন্তর্জাতিকভাবে শনাক্ত ও তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট দেশের আইনে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নিতে রেড নোটিশ জারির আবেদন করে পিবিআই।

পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ঢাকা প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ইন্টারপোল মঙ্গলবার তাদের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, রেড নোটিশ জারির ফলে ইন্টারপোলের সদস্য দেশগুলোর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দুই সন্দেহভাজনের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্তে আন্তর্জাতিক পুলিশি সহযোগিতা দিতে পারবে। কোনো দেশে তাদের অবস্থান শনাক্ত হলে সে দেশের আইন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কাঠামো অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোথায় রয়েছেন দুই সন্দেহভাজন

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেনাসদস্য জাহিদুজ্জামান জাহিদ ও শাহীন আলম দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। পুলিশ তাদের সর্বশেষ অবস্থান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পেয়েছিল। এরপর থেকে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তারা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো একটি দেশে আত্মগোপনে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যেভাবে শুরু হয়েছিল তনু হত্যা মামলা

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছে একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

প্রথমে থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করে। পরে তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ এবং এরপর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) যায়।

মামলার তদন্তের শুরুতেই ময়নাতদন্ত নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। প্রথম ময়নাতদন্তে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ পাওয়া যায়নি। পরে আদালতের নির্দেশে মরদেহ কবর থেকে তুলে দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্ত করা হয়। তনুর পোশাকসহ বিভিন্ন আলামতও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

২০১৭ সালে সিআইডি জানায়, তনুর পোশাক থেকে তিন ব্যক্তির ডিএনএ পাওয়া গেছে। তবে ওই ডিএনএ কার, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। একই বছর কয়েকজন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত সংস্থাটি।

দীর্ঘ সময় তদন্ত চললেও কোনো আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি। প্রায় সাড়ে চার বছর সিআইডির তদন্তের পর ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইয়ে হস্তান্তর করা হয়।

পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে মামলার তদন্ত চলে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পিবিআই পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর পুরোনো আলামত, ডিএনএ প্রোফাইল ও সন্দেহভাজনদের বিষয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়।

২০২৬ সালে আদালতের নির্দেশে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তনুর পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পাবনায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অভিযান, জরিমানা ৭ হাজার টাকা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:১৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাবনায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অভিযান, জরিমানা ৭ হাজার টাকা

 যোগফল প্রতিবেদক:

পাবনায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালিয়ে একটি বাস ও চারটি ট্রাকের চালককে মোট ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই অভিযানে অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টিকারী ৯টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পাবনা সদর উপজেলার মেরিল বাইপাস এলাকায় জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুজ্জামান। প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, পাবনা জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. আব্দুল মমিন। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের নমুনা সংগ্রহকারী মো. আব্দুল মোমিন উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে জেলা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত মানমাত্রার অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টিকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে যানবাহনে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ ও অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টিকারী হাইড্রোলিক হর্ন অপসারণে নিয়মিতভাবে নজরদারি করা হবে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

সিলেটে আওয়ামী লীগের মিছিলের প্রস্তুতি, আটক ৫

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:১০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিলেটে আওয়ামী লীগের মিছিলের প্রস্তুতি, আটক ৫

 যোগফল প্রতিবেদক:

সিলেটের গোলাপগঞ্জে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের ক্লাব পয়েন্ট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, ভোরে ক্লাব পয়েন্ট বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়ো হয়ে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—গোলাপগঞ্জ উপজেলার রনকেলী নুরুপাড়া গ্রামের চেরাগ আলীর ছেলে রাশেদ আহমদ (২৪), করগাঁও (লক্ষণাবন্দ) গ্রামের আব্দুল আহাদের ছেলে রায়হান আহমদ (১৯), রনকেলী নুরুপাড়া গ্রামের খলিল আহমদের ছেলে আবুল কালাম (৩০), একই গ্রামের মৃত জুনাব আলীর ছেলে জাকির আহমদ (২৯) এবং দক্ষিণ সুরমা থানার দক্ষিণ সিরামপুর গ্রামের খালেদ হোসেনের ছেলে ইফাতুর রহমান (২৩)।

গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছবেদ আলী জানান, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের মিছিলের প্রস্তুতিকালে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

ট্রাম্পের পারমাণবিক হুমকি কতটা ভয়ংকর?

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ট্রাম্পের পারমাণবিক হুমকি কতটা ভয়ংকর?

 যোগফল প্রতিবেদক:

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাঁর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন মার্কিন সাংবাদিক ও উপস্থাপক টাকার কার্লসন।

কার্লসনের মতে, কোনো রাজনৈতিক নেতা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুললে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে দেখা উচিত। তাঁর দাবি, এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং একজন রাষ্ট্রপ্রধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প একাধিকবার কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। এক পর্যায়ে তেহরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে বড় ধরনের ধ্বংসের আশঙ্কার কথাও বলেন তিনি। তবে পরবর্তী সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নেই বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি বাস্তবে প্রয়োগ না হলেও এর রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব রয়েছে। কোনো দেশ যদি এ ধরনের বক্তব্যকে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করে, তাহলে তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে পারে।

ইরানের ক্ষেত্রেও বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তেহরান সামরিক চাপের মুখে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করে আসছে। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তাগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

টাকার কার্লসনের বক্তব্যকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে সামরিক শক্তির ব্যবহার এবং পারমাণবিক অস্ত্রের ভূমিকা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক বক্তব্যে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গ বারবার উঠে এলে হুমকি এবং বাস্তব সামরিক প্রস্তুতির মধ্যকার সীমারেখা আরও অস্পষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা শুধু দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম