৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে
যোগফল প্রতিবেদক:
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি এবং টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় নামজারি আবেদন বাতিলের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ারের বিরুদ্ধে। একই বণ্টননামা ও মালিকানা সংক্রান্ত কাগজের ভিত্তিতে ভাইয়ের নামজারি মঞ্জুর হলেও নিজের আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন চামরদানি ইউনিয়নের সুলেমানপুর গ্রামের কৃষক বিশ্বজিৎ সরকার।
অভিযোগকারী বিশ্বজিৎ সরকারের ভাষ্য, গত ১ আগস্ট নিজের নামে তিনটি ক্রয় দলিল এবং সহোদর ভাইদের সঙ্গে বণ্টননামা দলিলের মাধ্যমে পাওয়া মোট ২৭৫ শতাংশ জমির নামজারির জন্য আবেদন করেন তিনি। আবেদনটি তদন্তের জন্য ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ারের কাছে পাঠানো হয়। পরে সারোয়ার তাকে একাধিকবার ফোন করে অফিসে এবং অফিসের সামনের সড়কে দেখা করতে বলেন। দেখা করার পর তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন বিশ্বজিৎ। তিনি ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও কর্মকর্তা তাতে রাজি হননি বলে দাবি তার।
বিশ্বজিৎ আরও জানান, গত ১৭ আগস্ট ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য হোল্ডিং অনুমোদনের আবেদন করেন তিনি। কিন্তু পরদিনই ওই আবেদন বাতিল করা হয়।
অভিযোগে বিশ্বজিৎ বলেন, একই দলিল ও মালিকানা সংক্রান্ত কাগজের ভিত্তিতে তার এক ভাইয়ের নামে নামজারি মঞ্জুর করা হয়েছে। পরবর্তীতে ওই ভাই জমিটি অন্যত্র হস্তান্তরও করেছেন। অথচ তার নামজারি আবেদন খাজনা পরিশোধ না করার কারণ দেখিয়ে নামঞ্জুর করা হয়েছে। তার ভাইয়ের নামজারি ভুলবশত মঞ্জুর করা হয়েছে দাবি করে প্রয়োজনে সেই খতিয়ান, বণ্টননামা ও হস্তান্তর দলিল বাতিল করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার বলেন, তিনি ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছেন—এমন অভিযোগের কোনো প্রমাণ অভিযোগকারী দিতে পারবেন না। তার দাবি, বিশ্বজিতের ভাইয়ের বণ্টননামা দলিলটি সম্প্রতি সম্পাদিত হওয়ায় তিনি সরলভাবে ধরে নিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট জমির ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা হয়েছে। সে কারণেই নামজারি মঞ্জুর করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে সেটি বাতিল করা হবে বলেও জানান তিনি। নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন সারোয়ার।
এ বিষয়ে বাদশাগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার পলাশ তালুকদার জানান, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ অনুযায়ী বণ্টননামা হস্তান্তর দলিল নয়। তাই বণ্টননামা দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে ভূমি উন্নয়ন করের রশিদ বাধ্যতামূলক নয়। এ সময় তিনি ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩-এর ৬(২) ও ৬(৩) ধারার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন