আয়ুর্বেদিক ওষুধে অ্যালকোহল থাকলে খাওয়া যাবে কি?
সংগৃহীত ছবি
যোগফল প্রতিবেদন:
পাকস্থলীর সমস্যায় আক্রান্ত এক ব্যক্তি জানতে চেয়েছেন, অ্যালোপ্যাথিক ওষুধে কাজ না
হওয়ায় তিনি আয়ুর্বেদিক ওষুধ সেবন করছেন। ওই ওষুধ প্রাকৃতিক উপাদান গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয় এবং এতে অ্যালকোহল থাকে। তবে ওষুধটি সেবনে নেশা হয় না। রোগের চিকিৎসার জন্য এমন ওষুধ সেবন করা ইসলামে জায়েজ কি না—এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উত্তর দিয়েছেন ঢাকার আজিমপুরের ইদারাতুত্ তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়ার মুফতি আবু সাঈদ।
মুফতি আবু সাঈদ বলেন, আঙুর, খেজুর বা কিসমিস থেকে তৈরি মদ বা অ্যালকোহল সামান্য পরিমাণ পান করাও সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। তা নেশা সৃষ্টি করুক বা না করুক, এ ধরনের অ্যালকোহল পান করা বৈধ নয়।
তবে আঙুর, খেজুর ও কিসমিস ছাড়া অন্যান্য উপাদান—যেমন চাল, শস্য, ভেষজ গাছপালা, গুড় ইত্যাদি—থেকে উৎপন্ন অ্যালকোহল বা রাসায়নিক অ্যালকোহলের বিধান ভিন্ন। চিকিৎসা বা সুস্বাস্থ্যের উদ্দেশ্যে নেশা সৃষ্টি না করে এমন পরিমাণে তা সেবন করা জায়েজ। তবে নেশা সৃষ্টি করে এমন পরিমাণে সেবন করা বৈধ নয়।
এ বিষয়ে হাদিসে এসেছে, ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যা নেশা সৃষ্টি করে তাই মদ, আর যা নেশা সৃষ্টি করে তাই হারাম।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ২০০৩)
মুফতি আবু সাঈদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশ্নে উল্লেখ করা আয়ুর্বেদিক ওষুধটি যদি আঙুর, খেজুর বা কিসমিস ছাড়া অন্য কোনো উপাদান থেকে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তা সেবনে সমস্যা নেই।
তবে যদি ওষুধটি আঙুর, খেজুর বা কিসমিস থেকে তৈরি অ্যালকোহল ব্যবহার করে প্রস্তুত করা হয়, তাহলে সাধারণ অবস্থায় তা সেবন করা বৈধ হবে না।
ওষুধের উপাদান নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ
এ বিষয়ে করণীয় হিসেবে মুফতি আবু সাঈদ বলেন, ব্যবহৃত ওষুধটি কোন উপাদান থেকে তৈরি এবং এতে থাকা অ্যালকোহল কোন উৎস থেকে সংগৃহীত—তা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া উচিত।
যদি অ্যালকোহল আঙুর, খেজুর বা কিসমিস থেকে তৈরি না হয় এবং তা নেশা সৃষ্টিকারী মাত্রায় না থাকে, তাহলে চিকিৎসার প্রয়োজনে ওষুধটি সেবন করা যেতে পারে।
অন্যদিকে অ্যালকোহলের উৎস আঙুর, খেজুর বা কিসমিস হওয়া নিশ্চিত হলে, অথবা এর উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া না গেলে, সাধারণ অবস্থায় তা পরিহার করা উচিত।
ফিকহের বিভিন্ন গ্রন্থেও উল্লেখ করা হয়েছে, আঙুর ও খেজুর ছাড়া অন্যান্য উৎস থেকে উৎপন্ন অ্যালকোহল চিকিৎসা বা বৈধ প্রয়োজনে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে হানাফি মাজহাবে শর্তসাপেক্ষে অবকাশ রয়েছে। বিশেষ করে তা নেশা সৃষ্টির পর্যায়ে না পৌঁছালে চিকিৎসার প্রয়োজনে ব্যবহারের সুযোগের কথা ফিকহের গ্রন্থগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২০০৩; বুহুস ফি কাজায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরাহ, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা ৩৩৯-৩৪১; তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা ৬০৮।
তুলি আক্তার/যোগফল ডেস্ক

আপনার মতামত লিখুন