খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

ড্রোন প্রতিযোগিতায় বিশ্বে চতুর্থ ইউআইইউ, বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ড্রোন প্রতিযোগিতায় বিশ্বে চতুর্থ ইউআইইউ, বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস

ছবিতে প্রতিযোগিতায় অংগ্রহনকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | যোগফল অনলাইন :

আন্তর্জাতিক ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় উড়োজাহাজ প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশের ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ)। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত স্টুডেন্ট আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমস (এসইউএএস) ২০২৬ প্রতিযোগিতায় বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে ইউআইইউ’র এরিয়াল রোবোটিক্স টিম (ইউএআরটি)।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মর্যাদাপূর্ণ এ প্রতিযোগিতায় প্রথমবার অংশ নিয়েই বাংলাদেশের কোনো দল হিসেবে পোডিয়ামে স্থান করে নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছে ইউআইইউ’র ইউএআরটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির এই সাফল্য দেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, রোবোটিক্স ও ড্রোন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৬ সালের এসইউএএস প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব গত ১৪ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের টালসায় অবস্থিত স্কাইওয়ে রেঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়। চার দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষস্থানীয় দলগুলো অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতায় প্রতিকূল আবহাওয়া, উচ্চ বাতাসের গতি এবং তাপমাত্রাজনিত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও কৌশলগত সিদ্ধান্ত, প্রযুক্তিগত সমন্বয় ও দক্ষ পরিচালনার মাধ্যমে সফলভাবে মিশন সম্পন্ন করে ইউআইইউ’র ইউএআরটি এবং অর্জন করে বিশ্বে চতুর্থ স্থান।
৮১ দলের প্রতিযোগিতায় চতুর্থ ইউআইইউ
২০০৩ সাল থেকে নিয়মিত আয়োজিত হয়ে আসা এসইউএএস প্রতিযোগিতা বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষার্থীভিত্তিক আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমস প্রতিযোগিতা হিসেবে পরিচিত।
এবারের প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্বে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৮১টি দল অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ৬৭টি দল চূড়ান্ত পর্বের ফ্লাইং প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়। পরবর্তী ধাপে ৬৪টি দল ফ্লাইট রেডিনেস অনুমোদন পায়। শেষ পর্যন্ত ৫৮টি দল প্রতিযোগিতার ফ্লাইট পরিচালনায় অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতার দিন প্রতিকূল আবহাওয়া অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। উচ্চ বাতাসের গতি ও তাপমাত্রাজনিত সমস্যার কারণে ফ্লাইট পরিচালনাকারী দলগুলোর মধ্যে ২১টি দল ক্র্যাশের শিকার হয়।
এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও ইউআইইউ’র ইউএআরটি দ্রুত কৌশল পরিবর্তন ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সমন্বয় করে তাদের নির্ধারিত মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করে। এর মাধ্যমে তারা প্রতিযোগিতায় বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জন করে।
বিশ্বখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
এসইউএএস ২০২৬-এ বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ের দল অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল কর্নেল ইউনিভার্সিটি, মোনাশ ইউনিভার্সিটি, দ্য ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড এবং ওয়ারশ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি-এর মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়।
এসব প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী ইউআইইউ’র ইউএআরটির চতুর্থ স্থান অর্জন দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে।
নিরাপত্তা ও স্বয়ংক্রিয় মিশনে বিশেষ সাফল্য
প্রতিযোগিতায় ইউআইইউ’র এরিয়াল রোবোটিক্স টিম সেফটি ইন্সপেকশন ও র‌্যাপিড রেসপন্সে পূর্ণ নম্বর অর্জন করেছে।
এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় ইউএআরটি একমাত্র দল হিসেবে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিশন সম্পন্ন করার কৃতিত্ব অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
দলটির তৈরি স্বয়ংক্রিয় আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকেলে রয়েছে একাধিক আধুনিক প্রযুক্তি। এর মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন, আকাশপথের মানচিত্র তৈরি, বস্তুর শনাক্তকরণ, পে-লোড সরবরাহ, বাধা শনাক্ত ও তা এড়িয়ে চলার সক্ষমতা এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এই প্রযুক্তিগুলোর সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিকূল পরিবেশেও নির্ধারিত মিশন পরিচালনা ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয় ইউআইইউ’র দলটি।
দীর্ঘ গবেষণা ও প্রকৌশল উন্নয়নের ফল
ইউএআরটির এই আন্তর্জাতিক সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের গবেষণা, নকশা প্রণয়ন, প্রকৌশল উন্নয়ন, নির্মাণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ধারাবাহিক পরিমার্জনের সমন্বিত প্রচেষ্টা।
দলটির সদস্যরা স্বয়ংক্রিয় আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকেল তৈরি ও এর বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করেছেন। নেভিগেশন থেকে শুরু করে অবজেক্ট ডিটেকশন, ম্যাপিং, পে-লোড ডেলিভারি এবং বাধা এড়িয়ে চলার মতো জটিল প্রযুক্তি একই প্ল্যাটফর্মে সমন্বয় করা হয়েছে।
প্রতিযোগিতার বাস্তব পরিবেশে এসব প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করার পাশাপাশি আবহাওয়ার পরিবর্তন ও উচ্চ বাতাসের মতো পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের সক্ষমতাও কাজে লাগিয়েছে দলটি।
বাংলাদেশের তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনা
ইউআইইউ’র ইউএআরটির এই অর্জন বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণার আগ্রহ আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দূরদর্শী নেতৃত্ব, দক্ষ ফ্যাকাল্টি নির্দেশনা, শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার সমন্বিত প্রয়াসে বাংলাদেশও বিশ্বমঞ্চে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখতে পারে—ইউএআরটির অর্জন তার একটি উদাহরণ।
বিশ্ববিদ্যালয়টির এ সাফল্য দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেমসের মতো দ্রুত বিকাশমান ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
প্রথমবার অংশ নিয়েই বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জনের মাধ্যমে ইউআইইউ’র ইউএআরটি শুধু একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করেনি, বরং বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

যোগফল ডেস্ক 

সাভারে ইউপি প্রশাসকের বিরুদ্ধে ঘুষসহ নানা অভিযোগ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:২৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাভারে ইউপি প্রশাসকের বিরুদ্ধে ঘুষসহ নানা অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকার সাভার উপজেলার ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক সেলিম রেজাকে ঘিরে ঘুষ গ্রহণ, নাগরিক সেবায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং একই সময়ে অন্য একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি। ছবিতে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে বসে সেলিম রেজাকে টাকা গুনতে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ছবিতে থাকা অর্থ ঘুষের টাকা কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

স্থানীয় সূত্র ও একটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সেলিম রেজা উপজেলা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি তার মূল কর্মস্থলে নিয়মিত সময় দিচ্ছেন না। এতে ইউনিয়ন পরিষদের সেবাগ্রহীতার পাশাপাশি ব্যাংকের গ্রাহকরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এদিকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক ও ওয়ারিশ সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন সেবাগ্রহীতার দাবি, অতিরিক্ত টাকা দিতে না চাইলে তাদের দিনের পর দিন ঘোরানো হয়।

জামগড় এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী স্থানীয় একটি প্রতিবেদনে অভিযোগ করেন, আগে কয়েকশ টাকায় ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করা গেলেও বর্তমানে কয়েক হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে রশিদে দেখানো হচ্ছে তুলনামূলক কম টাকা। এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট নথি, রশিদ ও আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনকারী এক অ্যাসেট নির্ধারককে ঘিরেও বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে। শিল্পকারখানার আয়তন কম দেখিয়ে সরকারি কর কম নির্ধারণ, বিভিন্ন সেবায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং কথিত দালালদের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের আয়-ব্যয়, সরকারি বরাদ্দ, প্রকল্পের অর্থ, ব্যাংক হিসাব ও ভাউচার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এসব নথি স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা বা অসত্যতা স্পষ্ট হতে পারে।

অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—একজন সরকারি কর্মচারী একই সময়ে কীভাবে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব এবং পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চাকরি করছেন। তার নিয়োগ বা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের অনুমোদন, দায়িত্ব পালনের সময়সূচি এবং মূল কর্মস্থলে উপস্থিতির রেকর্ড যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
তবে অভিযোগ উঠলেই কাউকে দুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্ত।

এ বিষয়ে তদন্তের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের আয়-ব্যয়ের হিসাব, সেবা প্রদানের রেজিস্টার, ট্রেড লাইসেন্সের রেকর্ড, কর নির্ধারণের নথি, ব্যাংকে উপস্থিতির রেকর্ড এবং অভিযোগ সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সেলিম রেজার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। অন্যদিকে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখন অভিযোগগুলো আনুষ্ঠানিক তদন্তের আওতায় আসে কি না এবং তদন্তে কী তথ্য বেরিয়ে আসে—সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।

যোগফল অনলাইন 

গোপালগঞ্জে জামিনে বেরিয়ে ‘ধর্ষণ মামলা’ তুলে নিতে বাদীকে হুমকি

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গোপালগঞ্জে জামিনে বেরিয়ে ‘ধর্ষণ মামলা’ তুলে নিতে বাদীকে হুমকি
সাইফুল ইসলাম | গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ধর্ষণ মামলায় কারাগারে থাকা আসামি জামিনে বেরিয়ে মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

এতে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তহীনতায় ভূগছে। কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আসামি একই গ্রামের হারান বিশ্বাসের ছেলে বাবলু বিশ্বাস ।  

এ ঘটনায় মামলার আসামি ও তার সহযোগি সোহেল শেখ, অংশু বিশ্বাস এবং সুধাংশ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী।

মামলা ও অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট উপজেলার হাতিয়াড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষে ধর্ষণ করে একই প্রতিষ্ঠানের দপ্তরী বাবলু  বিশ্বাস । এতে ওই ছাত্রী অন্তসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি জানতে পারেন ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। 

কাশিয়ানী থানা মামলাটি নথিভুক্ত করে এবং পুলিশ ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর আদালত অভিযুক্ত বাবলু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। 

পরবর্তীতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, আসামী বাবলু বিশ্বাস কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে নিজে এবং লোকজন দিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। 

মামলা প্রত্যাহার না করলে বাদী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকি তার ৫ বছর বয়সি শিশু সন্তানকে অপহরণেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাদী ও তার পরিবার। 

একই সঙ্গে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া যাতে কোনোভাবে প্রভাবিত না হয়, সে জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

মামলার বাদী বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার পাওয়ার আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। কিন্তু আসামি জামিনে বেরিয়ে এসে এখন মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। আমার ছেলেকে অপহরণের হুমকি দিচ্ছে। আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাই।’

এ বিষয় অভিযুক্ত বাবলু বিশ্বাসের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার সহযোগি সোহেল শেখ হুমকি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।’ 

কাশিয়ানী থানার ওসি মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শুরু পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনলাইন ডেস্ক 

স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর ফ্যানের সঙ্গে ঝুললেন স্বামী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ

প্রতীকী ছবি

যোগফল প্রতিবেদক | মানিকগঞ্জ :

এক ঘরে নিথর পড়ে আছে স্ত্রী ও দেড় বছরের শিশুসন্তানের মরদেহ। আর একই ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল স্বামী ইকরাম হোসেনের মরদেহ।

মুহূর্তেই একটি পরিবারের সব আলো নিভে গেল। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জান্নাকান্দি গ্রামে শনিবার দুপুরে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোক ছায়া। 

মৃতদের মধ্যে গৃহকর্তা আকরাম নিজে। অন্য হলেন আকরামের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার (২৪) ও তাদের মেয়ে আলিজা আক্তার। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার পর ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ইকরাম।

তবে কী কারণে এমন ভয়াবহ পথ বেছে নিলো এই পরিবার, তার কোনো উত্তর এখনো মেলেনি। পারিবারিক কলহ, আর্থিক সংকট কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জান্নাকান্দি গ্রামের ইকরাম হোসেন কিছুদিন আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন। শনিবার দুপুরে তার বাড়ির ঘরের ভেতর স্ত্রী ও দেড় বছরের সন্তানকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পাশেই ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায় ইকরামের মরদেহ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদেশ থেকে ফেরার পর ইকরাম পরিবারের সঙ্গেই ছিলেন। তার সঙ্গে স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যদের কোনো বিরোধ কিংবা পারিবারিক কলহ চলছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

ফলে হঠাৎ একই পরিবারের তিনজনের এমন মৃত্যুতে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকায়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই জান্নাকান্দি গ্রামের ওই বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয়রা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। একসঙ্গে তিনজনের মৃত্যুতে হতবাক এলাকাবাসী।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনাটি কীভাবে এবং কেন ঘটেছে, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

অনলাইন ডেস্ক