খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

যমুনায় সরকারি ওষুধ ফেলার ঘটনায় ঘাটাইল হাসপাতালে দুদকের তদন্ত

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:৫৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যমুনায় সরকারি ওষুধ ফেলার ঘটনায় ঘাটাইল হাসপাতালে দুদকের তদন্ত

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ট্রাকভর্তি সরকারি ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলার সময় আটক ও জব্দের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঘটনার প্রায় এক মাস পর সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও জব্দ করা ওষুধ পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে সংস্থাটি।

সোমবার সকাল থেকে দুদক টাঙ্গাইলের উপপরিচালক ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন কার্যালয়, ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঘাটাইল থানায় পর্যায়ক্রমে অভিযান চালায়।

অভিযানকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ভবন, আবাসিক কক্ষ ও টয়লেটের মেঝেতে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ অগোছালো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তদন্ত দল। এসব ওষুধের মধ্যে কতগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ এবং কতগুলো ব্যবহারযোগ্য, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট তথ্য বা পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেখাতে পারেনি বলে জানিয়েছে দুদক।

দুদক টাঙ্গাইলের উপপরিচালক ফখরুল ইসলাম বলেন, কমিশনের নির্দেশে অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে গাফিলতি, অনিয়ম, আলামত নষ্ট এবং ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে বলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত জব্দ করা ওষুধের বস্তার সঙ্গে ঘাটাইল থানায় জব্দ দেখানো ওষুধের বস্তার মধ্যে ব্যাপক গড়মিল পাওয়া গেছে। থানায় তুলনামূলক কম পরিমাণ ওষুধের বস্তা জব্দ দেখানো হয়েছে। হাসপাতালে থাকা ওষুধ এখনো শ্রেণিবিন্যাস করে সংরক্ষণ করা হয়নি। ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্তকারীদের কাছে ওষুধের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ডপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি।

হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তিনটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে। তবে ঘটনার প্রায় এক মাস পার হলেও এসব কমিটির কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন দুদক কর্মকর্তারা।

সরকারি সম্পদ আত্মসাতের বিষয়টি আড়াল করতে ঘটনাটিকে চুরির মামলা হিসেবে দেখিয়ে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ওষুধের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি না করা এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে থাকা ওষুধের মজুত, চাহিদা ও বিতরণের সুনির্দিষ্ট হিসাব না থাকার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি বাইরের ওষুধ কোম্পানির লোকজনের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগসাজশ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

দুদক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে কমিশনের কাছে সুপারিশ করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এতে দুদক টাঙ্গাইলের উপপরিচালক ফখরুল ইসলাম, উপসহকারী পরিচালক তারেক মিয়া ও উপসহকারী পরিচালক বাছেদ আলী অংশ নেন।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

এর আগে গত ২৬ আগস্ট রাতে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ট্রাকভর্তি অন্তত ৫০ বস্তা সরকারি ওষুধ পার্শ্ববর্তী ভূঞাপুর উপজেলার যমুনা নদীতে ফেলার সময় স্থানীয়রা তা আটক করেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পিকআপসহ ওষুধগুলো জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় একটি চুরির মামলা করা হয়।

মামলায় ট্রাকচালক আজমতকে আটক দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

ঘটনার পর গত ২৯ আগস্ট প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নয়িম মুহাম্মদ সোহেলকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর ফরহাদ হোসেনকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়।

তবে ঘাটাইল উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আলমগীর কবির সুমন বলেন, দুদকের তদন্তের বিষয়ে তারা এখনো কোনো কাগজপত্র পাননি। হাসপাতাল সম্পর্কে করা অভিযোগগুলো পুরোপুরি সত্য নয়।

 তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক/ যোগফল. কম 


গোপালগঞ্জ বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনে প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের অভিযোগ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গোপালগঞ্জ বিদ্যালয়ের কমিটি গঠনে প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের অভিযোগ

গোপালগঞ্জ বিদ্যালয়

সাইফুল ইসলাম | গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ৩০ নম্বর উত্তর বান্ধাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক পীযুষ কান্তি রায়ের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় গত ২৭ সেপ্টম্বর গাজী মো. জাকারিয়া খন্দকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২২ জুন বিদ্যালয়ে অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে গাজী মো. জাকারিয়াকে বিদ্যুৎসাহী সদস্য নির্বাচিত করা হয়।

পরে প্রধান শিক্ষক পীযুষ কান্তি রায় নাম পরিবর্তন করে
মো. বাচ্চু খন্দকারের নাম অনুমোদনের জন্য পাঠান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে।

আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে বিদ্যালয় এলাকায় গেলে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি খন্দকার মো. আবু হানিফ, সহসভাপতি শাহআলম খন্দকার ও ইউপি সদস্য মাসুম শেখ বলেন, সভায় সবার সম্মতিতে জাকারিয়ার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরে তাঁর নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান তাঁরা।

তবে মো. বাচ্চু খন্দকার বলেন, তিনি কমিটিতে থাকতে চান না। স্থানীয়রা জাকারিয়াকে নির্বাচিত করার পরও তাঁকে না জানিয়ে তাঁর নাম দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

অভিযোগে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতে সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের বিষয়টিও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষক পীযুষ কান্তি রায় বলেন, ‘আমি ছুটিতে রয়েছি। শুনেছি একটি অভিযোগ হয়েছে। এখন আমি কিছু বলতে পারব না।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখর রঞ্জন ভক্ত বলেন, প্রধান শিক্ষক তিনটি নাম প্রস্তাব করেছেন এবং প্রথম নামটি অনুমোদন হয়েছে। তালিকায় জাকারিয়ার নাম থাকলে অন্য নাম কেন পাঠানো হয়েছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইউএনও সাইফ-উল-আরেফিন বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

যোগফল |অনলাইন | নিউজ ডেস্ক 

টুঙ্গিপাড়ায় ইয়াবা-গাঁজাসহ দুইজন আটক, কারাদণ্ড

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৫১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
টুঙ্গিপাড়ায় ইয়াবা-গাঁজাসহ দুইজন আটক, কারাদণ্ড

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার খালেক বাজার ও টুঙ্গিপাড়া বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. দিদারুল আলমের নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় অভিযানটি চালানো হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—টুঙ্গিপাড়া উপজেলার চর কুশলী গ্রামের আব্দুল্লাহ শেখের ছেলে মো. শামীম শেখ (২০) এবং চর গোপালপুর গ্রামের কালাম শিকদারের ছেলে মো. সজীব শিকদার (৩৫)।

অভিযানকালে শামীম শেখের কাছ থেকে দুই পিস ইয়াবা এবং সজীব শিকদারের কাছ থেকে পাঁচ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত শামীম শেখকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা অর্থদণ্ড এবং সজীব শিকদারকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ টাকা অর্থদণ্ড দেন।

অভিযানে টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আয়ুব আলী, উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা এবং এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়।

 তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক/ যোগফল. কম 

অরুণাচলে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বিদ্রোহীদের হামলা, জওয়ান নিহত

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:৪২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অরুণাচলে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর বিদ্রোহীদের হামলা, জওয়ান নিহত

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: 

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের চাংলাং জেলায় টহলরত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলায় আসাম রাইফেলসের এক জওয়ান নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত জওয়ানের নাম হাবিলদার জানখোকাই কুকি (৪২)। আহত চার জওয়ানকে চিকিৎসার জন্য সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ২১ আসাম রাইফেলসের একটি দল ওই এলাকায় টহল দিচ্ছিল। একই সময়ে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজও চলছিল। এ সময় টহলরত দলের ওপর হামলা চালানো হয়।

প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ডের খাপলাং-ইয়ুং অং (এনএসসিএন-কে-ওয়াইএ) গোষ্ঠীর বিদ্রোহীরা এ হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। তবে হামলার দায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি।

হামলার পর ওই এলাকায় বিদ্রোহীদের ধরতে অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলাকারীদের শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

চাংলাং জেলার ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তার দিক থেকে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে বিবেচিত। এ অঞ্চলে বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্যদের চলাচল রয়েছে। এ কারণে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর টহল ও অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হয়।

 তুলি আক্তার/অনলাইন ডেস্ক / যোগফল. কম