গোপালগঞ্জ ভ্রাম্যমান আদালতে দোকান মালিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা
অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য
অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য
ছবি সংগৃহীত
শরীয়তপুরের জাজিরায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে বিক্ষোভ মিছিল করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আল-আমিন ঢালী নামে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়নের মাদ্রাসা গেট এলাকায় ঢাকা-শরীয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে এ মিছিল হয়। এরই মধ্যে মিছিলের ৪৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে জাজিরা বিকেনগর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন মাদবরকে মিছিলের নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মিছিলে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতেও শোনা যায়।
মিছিলের ব্যানারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এবং শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেনের ছবি দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ছাত্রলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হলেও জাজিরার বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনটির নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে মিছিল করতে দেখা গেছে। এসব কর্মসূচির ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত এক সপ্তাহে জাজিরা উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, বিকেনগর এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল চলাকালে আল-আমিন ঢালী নামে ছাত্রলীগের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ছবি সংগৃহীত
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় আপস করেছেন নিহত মরিয়ম খাতুনের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। আপসনামায় তিনি জানিয়েছেন, তাৎক্ষণিক সন্দেহের বশে জামাই জি এম নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তবে আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখতে এখন তিনি আপস করেছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে হাজির হয়ে আসামিপক্ষের সঙ্গে আপসনামায় স্বাক্ষর করেন মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে নারী বিবেচনায় মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আপসনামায় এস এম মাসুম বিল্লাহ ও মো. আব্দুল হামিদ মোড়লকে যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় পক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হওয়ার পর তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের সঙ্গেও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে তারা সংসারজীবন পরিচালনা করছিলেন।
আপসনামায় মাসুম বিল্লাহ বলেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর ৩টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে ঢাকার নিজ বাসভবনে তার মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেন। জামাই জি এম নজরুল ইসলামের ফোন পেয়ে তিনি বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে ওই বাসায় গিয়ে মেয়ের আত্মহত্যার বিষয়টি জানতে পারেন।
এরপর জামাইয়ের বাসায় আত্মহত্যার ঘটনা ঘটায় তাৎক্ষণিক সন্দেহের বশে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে শেরেবাংলানগর থানায় দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় মামলা করেন বলে আপসনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে দুই পক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসা হয়। আপসনামায় বলা হয়েছে, আসামিরা জামিনে মুক্তি পেলে বাদী বা তার পরিবারের কারও কোনো আপত্তি নেই। একই সঙ্গে উভয়পক্ষ ভবিষ্যতে হৃদ্যতাপূর্ণ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিচারাধীন মামলায় উভয়পক্ষ নির্লিপ্ত থেকে বিচারিক কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে আপসনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে আপসনামাটি নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সত্যায়িত করা হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বলেন, বাদী আপস করে স্বাক্ষর করেছেন। কারাগারে থাকা গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের জামিন চাওয়া হয়েছিল। শুনানিতে বাদী উপস্থিত থেকে দুই আসামির জামিনে তার আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন। আদালত মাকছুদার জামিন দিলেও গাজী নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। এ বিষয়ে তারা আবার জামিন চাইবেন অথবা উচ্চ আদালতে যাবেন।
তবে মামলাটি আইন অনুযায়ী আপসযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি বলেন, দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারা আপসযোগ্য নয়। বাদী আপস করলেই মামলা শেষ হয়ে যাবে না। তারা আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করেছেন। নারী বিবেচনায় মাকছুদার জামিন দেওয়া হলেও গাজী নজরুলের জামিন নামঞ্জুর হয়েছে।
পিপি আরও বলেন, বাদীকে চাপ প্রয়োগ করে আপস করানো হয়েছে কি না, তদন্ত কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন।
এর আগে গত সোমবার দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে ওইদিন তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে গাজী নজরুল প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে নিয়ে শয়নকক্ষে থাকতেন। আর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে শয়নকক্ষের পাশের বারান্দায় মাঝে মাঝে রাত কাটাতে হতো।
পুলিশ আদালতকে আরও জানিয়েছিল, তদন্তে মরিয়ম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে এমপি জি এম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে সিআইডির সহায়তায় দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার কক্ষে কয়েকটি চিরকুটও পাওয়া যায়।
ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই রাতেই নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মাকছুদাও এক দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে ছিলেন।
গোপালগঞ্জ জেলা খাদ্য গুদাম
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ নিউজ প্রকাশ হলে তাৎক্ষণিক সতর্কতা পাবেন।
আপনার মতামত লিখুন