ফিচার: ক্ষুধার্ত দরিদ্রের কথা কেউ শোনে না
বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ৯:০৪ অপরাহ্ণ
প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সমাজের সবচেয়ে দরিদ্র, নিপীড়িত, নির্যাতিত অসহায় মানুষগুলির কথা কেউ শোনে না। কেউ শুনতে চায়ও না।
সমাজের অতি চালাক ধনী লোকগুলো বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ক্ষুধার্ত দরিদ্র লোকদের কষ্ট এবং যন্ত্রণা আরও বাড়িয়ে দেয়। কিভাবে দরিদ্র লোকদের পেশা থেকে তাদেরকে ছিটকে ফেলে দেওয়া যাবে, কিভাবে তাদের চাকরিহারা করা যাবে, কিভাবে তাদের ব্যবসা এবং কৃষিকাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে আরো দরিদ্র বানিয়ে দেয়া যাবে — সেটাই ধনী লোকদের কৌশলের একটা অংশ।
দরিদ্র, নিপীড়িত, ক্ষুধার্ত লোক ঠিকমত তিন বেলা খেতে পায় না। সন্তানদেরকে খাওয়াতে পারে না, বৃদ্ধ বাবা-মাকেও খাওয়াতে পারে না। তারা ঠিকমত সময়মত বাসা ভাড়া দিতে পারে না। অসুখ-বিসুখ হলে চিকিৎসার টাকা তাদের থাকে না, শরীরের টেস্ট বা পরীক্ষা-নিরীক্ষারও কোন টাকা থাকে না।
উপায়ান্তর না পেয়ে তারা বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে লম্বা লাইনে গিয়ে দাঁড়ায়। সেখানেও টাকা লাগে। তারপরে তারা বিভিন্ন কবিরাজ, ঝার-ফুঁকের পানি খেয়ে অবশেষে ধুকে ধুকে মরে যায়। আসলে দরিদ্র লোকদের কষ্টের কোন শেষ থাকে না।
একটি সরকার অনেকদিন ক্ষমতায় থাকার পরে নতুন সরকারের দিকে তারা অধীর অপেক্ষায় বসে থাকে। ভাবে নতুন সরকার হয়তো তাদের দরিদ্রদের কথা শুনবে, তাদের দারিদ্র্য দূর করার জন্য অনেক চেষ্টা করবে। কিন্তু নতুন পরিকল্পনা, নতুন সরকারগুলো শুধু ধনী কিভাবে ধনী বানানো যায়, গরীবকে কিভাবে আরো গরিব বানানো যায় সেই পরিকল্পনাতেই সবসময় মত্ত থাকে।
কোন সমাজপতি, কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মাথায় দরিদ্রের স্বপ্ন-ইচ্ছা তত বেশি কাজ করে না। দরিদ্র লোকগুলো যেন গাছের মরা পাতা, দরিদ্র লোকগুলো যেন ধনী লোকের পায়ের ধুলো।
ধনীরা ভাবে আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীতে শুধু আমরাই থাকব, আমরাই বাঁচব। দরিদ্র লোকগুলো কেন আমাদের সুখ এবং আরামের বিলাসিতার প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দাঁড়ায়?
দরিদ্র লোকগুলো তাদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা ঠিকমতো করাতে পারে না। গ্রামে থাকা বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ঠিকমতো খাবার-দাবার দিতে পারে না। দরিদ্র আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ-খবর নিতে পারে না।
অথচ দরিদ্র মানুষেরও একটি স্বপ্ন ছিল, একটা ভবিষ্যৎ ছিল, কি সুন্দর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু যে সমাজে তার বসবাস সেই সমাজের নেতৃস্থানীয় লোকগুলো তাকে সহযোগিতা করল না, বিধায় দরিদ্র লোকটি আরো দরিদ্র রয়ে গেল।
সমাজপতিদের পরিকল্পনার মধ্যে ধনী-দরিদ্র সকলকে নিয়ে পরিকল্পনা থাকা উচিত ছিল। তাদের পরিকল্পনায় থাকা উচিত ছিল সবার জন্য খাবার, সবার জন্য বাসস্থান, সবার জন্য শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনোদন।
কিন্তু দরিদ্র লোকগুলো শুধু কেঁদে গেল, আফসোস করে গেল। তাদের সুন্দর স্বপ্নটা শুধু অপূর্ণতায় রয়ে গেল।
- মোঃ মাহাবুবুর রহমান
ফিচার সম্পাদক, বিপিসি বাংলা

আপনার মতামত লিখুন