খুঁজুন
advertisement
advertisement
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২৪ আশ্বিন, ১৪৩৩

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনে নতুন সুযোগ, কমবে বিদেশমুখিতা ও চিকিৎসা ব্যয়

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনে নতুন সুযোগ, কমবে বিদেশমুখিতা ও চিকিৎসা ব্যয়

যোগফল প্রতিবেদক: 

মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন-২০২৬’ পাসের ফলে দেশে কিডনি ও লিভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রতিস্থাপনে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নিকটাত্মীয়ের বাইরে ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা নিঃস্বার্থবাদী দাতার অঙ্গদানের আইনি সুযোগ তৈরি হওয়ায় রোগীদের বিদেশমুখিতা কমার পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয়ও সাশ্রয় হবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আইনজীবীরা।

আইন অনুযায়ী, সরকারের অনুমতি নিয়ে অনুমোদিত নির্দিষ্ট হাসপাতালেই মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করা যাবে। সুস্থ ও স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন কোনো জীবিত ব্যক্তি অঙ্গ বিযুক্তির ফলে নিজের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি না হলে নিকটাত্মীয়ের জন্য অঙ্গ দান করতে পারবেন। একই শর্তে নিঃস্বার্থবাদী দাতাও নিকটাত্মীয় নন এমন কোনো ব্যক্তিকে অঙ্গ দান করতে পারবেন।

তবে চক্ষু, চর্ম, টিস্যু ও অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নিকটাত্মীয় বা নিঃস্বার্থবাদী দাতা হওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

নিঃস্বার্থবাদী দাতা নির্ধারণ ও অনুমতি প্রদান কমিটির সভাপতি এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, নতুন আইন দেশে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে। ইমোশনাল ডোনারের সুযোগ তৈরি হওয়ায় নিকটাত্মীয়ের বাইরে থেকেও অঙ্গদানের আইনি ব্যবস্থা হয়েছে।

তিনি জানান, গত ১০ আগস্ট বিএমইউতে প্রথমবারের মতো ইমোশনাল ডোনারের কাছ থেকে পাওয়া কিডনি সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। দেশে কিডনি ও লিভার প্রতিস্থাপনের সুযোগ বাড়লে এসব চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কমবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান হাওলাদার জানান, সরকারি অনুদানে বিএমইউতে ইতোমধ্যে ছয়টি লিভার প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। একটি লিভার প্রতিস্থাপনে প্রায় ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। বিদেশে চিকিৎসা নিতে গেলে এর সঙ্গে বিমানভাড়া, হোটেলসহ অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়। দেশে উন্নত ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করা গেলে চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

ব্রেইন ডেথ ঘোষণায় নির্দিষ্ট শর্ত

নতুন আইনে ব্রেইন ডেথ ঘোষণার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে ব্রেইন ডেথ ঘোষণা করতে হলে কিছু শর্তসাপেক্ষে তাকে অন্তত ১২ ঘণ্টা সুস্পষ্ট কারণে অবিরাম কোমা অবস্থায় থাকতে হবে।

২ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুর ব্রেইন ডেথ ঘোষণার ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাম (ইইজি) পরীক্ষার মাধ্যমে অন্তত ১২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

মেডিসিন, ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন, নিউরোলজি ও অ্যানেসথেশিওলজি বিষয়ের অন্তত তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি ব্রেইন ডেথ ঘোষণা করতে পারবে। তবে এ কমিটির কোনো চিকিৎসক বা তার নিকটাত্মীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারবেন না।

দাতা ও গ্রহীতার বয়সসীমা

আইন অনুযায়ী, ব্রেইন ডেথ ঘোষিত ব্যক্তির ক্যাডাভেরিক অঙ্গ সংগ্রহের ক্ষেত্রে দাতার বয়স ২ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে হতে হবে। জীবিত দাতার ক্ষেত্রে বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৬৫ বছর। বিশেষ প্রয়োজনে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিল করা যাবে।

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গ্রহীতার বয়স ২ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে ১৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী ব্যক্তিরা অঙ্গ গ্রহীতার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। কর্নিয়া, চর্ম ও টিস্যু প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য নয়।

ইমোশনাল ডোনারের যোগ্যতা

আইনে নিঃস্বার্থবাদী বা ইমোশনাল ডোনারের জন্যও নির্দিষ্ট যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। দাতাকে ১৮ বছরের বেশি বয়সী, মানসিকভাবে সুস্থ এবং সজ্ঞানে সম্মতি প্রদানে সক্ষম হতে হবে। কোনো আর্থিক প্রলোভন বা চাপ ছাড়া স্বেচ্ছায় অঙ্গদানে আগ্রহী হতে হবে। তিনি গ্রহীতার নিকটাত্মীয় না হলেও দীর্ঘদিনের পরিচিত হতে পারেন।

তবে মাদকাসক্ত, আর্থিক প্রলোভনে অঙ্গদানে আগ্রহী ব্যক্তি কিংবা সাধারণ অঙ্গদাতা হিসেবে অনুপযুক্ত কোনো ব্যক্তি নিঃস্বার্থবাদী দাতা হতে পারবেন না। এ ধরনের দাতাকে নির্ধারণ ও অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশ প্রয়োজন হবে।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, আগে আইনে দাতার সংজ্ঞা সংকীর্ণ থাকায় মূলত নিকটাত্মীয়দের মধ্যেই অঙ্গদানের সুযোগ সীমিত ছিল। এ সীমাবদ্ধতা দূর করতে তিনি হাইকোর্টে রিট মামলা করেন।

তিনি বলেন, হাইকোর্টের রায়ের পর যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ইমোশনাল ডোনারের কাছ থেকে কিডনিসহ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গ্রহণের পথ তৈরি হয়। এর ধারাবাহিকতায় নতুন আইন পাস হয়েছে। আইনটির সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে দেশে অঙ্গদানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং রোগীদের বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা কমবে।

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেনাবেচা নিষিদ্ধ

আইনের ১৮ ধারায় মানবদেহের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্রয়-বিক্রয়, এর বিনিময়ে কোনো সুবিধা গ্রহণ এবং এ বিষয়ে বিজ্ঞাপন বা প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিকটাত্মীয়তার বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়া, কাউকে এমন তথ্য দিতে উৎসাহিত বা প্ররোচিত করা কিংবা ভয় দেখানো অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

এ ছাড়া আইনের অন্য কোনো বিধান লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

কোনো চিকিৎসক এ আইনের অধীনে অপরাধে দণ্ডিত হলে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক দেওয়া তার নিবন্ধন বাতিল হবে। কোনো হাসপাতালে এ আইনের অধীনে অপরাধ সংঘটিত হলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের অনুমতি বাতিলের পাশাপাশি অর্থদণ্ড আরোপ এবং হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিত করা যেতে পারে।

নতুন আইন কার্যকর হলে দেশে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কমবে এবং ব্যয়ও সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

নবীনদের পদচারণায় মুখর গোবিপ্রবি, বর্ণাঢ্য আয়োজনে বরণ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২:৫৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নবীনদের পদচারণায় মুখর গোবিপ্রবি, বর্ণাঢ্য আয়োজনে বরণ

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

সাইফুল ইসলাম | গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আজ  বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) একাডেমিক ভবনের মুক্তমঞ্চে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি হওয়া প্রায় ১ হাজার ৫০০ নবীন শিক্ষার্থীকে বরণ করে নেওয়া হয়।

এদিন সকাল ১১টায় শান্তির প্রতীক পায়রা অবমুক্ত ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা, বিশেষ অতিথি ছিলেন গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী, গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আতাউর রহমান, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম, গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ, জেলা পরিষদ প্রশাসক শরীফ রফিকুজ্জামান, গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. গোলাম মোর্শেদ মোল্যা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা নবীন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আজ নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুখের দিন। অনেক ত্যাগ স্বীকার করে তারা এই পর্যায়ে এসেছে। নবীন হলেও তাদের দায়িত্ব অনেক। সময়কে অবহেলা না করে ভালোভাবে পড়াশোনা করতে হবে এবং সচেতন থেকে ভালো মানুষ হওয়ার ব্রত নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ আগামী দিনে এই নবীন শিক্ষার্থীদেরই দেশের জন্য কাজ করতে হবে।”

তিনি বলেন, “আমরা তিন সংসদ সদস্য মিলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করবো। শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের অনুরোধ, তারা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না করে।”

শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষকরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে এ বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বলেন, “আমরা ঐক্যবদ্ধ থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করে যাবো। আবাসিক হল ও একাডেমিক ভবন নির্মাণ এবং শিক্ষক সংকট দূরীকরণে যা করণীয়, আমরা তা করবো।” তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ঠুনকো বিষয় নিয়ে আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অশান্ত করবেন না।”

গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর বলেন, আমরা সবাই জানি, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে কিছুটা সময় লাগবে। আমরা সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য আমরা তিনজন সংসদ সদস্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাবো। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিগত সময়ে সংঘটিত অনিয়ম-দুর্নীতির বিচার নিশ্চিত হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, আমরা প্রত্যাশা করি, শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করে সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা বিসিএস ক্যাডার হচ্ছে, জজ হচ্ছে—এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। সামনের দিনে এমন সাফল্যের হার আরও বাড়বে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। সেজন্য একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শুরু থেকেই নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হল, একাডেমিক ভবন ও অডিটোরিয়াম নির্মাণে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন ড. মো. কামরুজ্জামান এবং শিক্ষকদের পক্ষে বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপিত ও এনিমেল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ডিন ড. মাহবুব হাসান। এসময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষকগণ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

যোগফল | অনলাইন | নিউজ ডেস্ক 

উখিয়ায় বক শিকারের বিরুদ্ধে বন বিভাগের অভিযান, ১২ বক জীবিত উদ্ধার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২:০২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
উখিয়ায় বক শিকারের বিরুদ্ধে বন বিভাগের অভিযান, ১২ বক জীবিত উদ্ধার

ছবিতে উদ্ধারকৃত বক

শাকুর মাহমুদ চৌধুরী |  কক্সবাজার প্রতিনিধি :

কক্সবাজারের উখিয়ায় অবৈধভাবে বক শিকারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে বন বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের মাসকারিয়া বিল এলাকায় পরিচালিত অভিযানে শিকারিদের ব্যবহৃত ফাঁদ, জাল ও বিভিন্ন শিকার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধ্বংস করা হয়েছে শিকারিদের তৈরি আস্তানা। এ সময় ফাঁদে আটকে থাকা ১২টি বক জীবিত উদ্ধার করা হয়।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মাসকারিয়া বিল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রজাতির বক ও দেশীয় পাখি শিকারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উখিয়া রেঞ্জের বনকর্মী ও ইআরটি (ইকো-রেসপন্স টিম) সদস্যরা যৌথভাবে অংশ নেন।

অভিযানকালে শিকারিরা পাখি আকর্ষণের জন্য ককশিট দিয়ে তৈরি নকল বক ব্যবহার করে তৈরি করা ফাঁদ শনাক্ত করা হয়। পরে এসব ফাঁদ, জাল ও অন্যান্য শিকার সামগ্রী জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি শিকারিদের অবস্থানের জন্য তৈরি অস্থায়ী আস্তানাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। উদ্ধার করা ১২টি বককে পরবর্তীতে নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়েছে বলে বন বিভাগ জানিয়েছে।

উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, পাখি শিকার শুধু বন্যপ্রাণীর ক্ষতিই করে না, এটি আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলে। মাসকারিয়া বিলসহ উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ পাখি শিকার বন্ধে আমাদের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউ বন্যপ্রাণী শিকার, ফাঁদ পাতা কিংবা শিকারিদের সহযোগিতা করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উদ্ধার করা পাখিগুলোকে নিরাপদে অবমুক্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়েও স্থানীয়দের সচেতন করা হচ্ছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পাখি ও বন্যপ্রাণী প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিল, জলাশয় ও বনাঞ্চলে অবৈধভাবে পাখি শিকার বন্ধে স্থানীয়দের তথ্য দিয়ে বন বিভাগকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

যোগফল | অনলাইন | নিউজ ডেস্ক 

উখিয়ায় বক শিকারের বিরুদ্ধে বন বিভাগের অভিযান, ১২ বক জীবিত উদ্ধার!

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
উখিয়ায় বক শিকারের বিরুদ্ধে বন বিভাগের অভিযান, ১২ বক জীবিত উদ্ধার!

ছবিতে উদ্ধারকৃত বক

শাকুর মাহমুদ চৌধুরী |  কক্সবাজার প্রতিনিধি :

কক্সবাজারের উখিয়ায় অবৈধভাবে বক শিকারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে বন বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের মাসকারিয়া বিল এলাকায় পরিচালিত অভিযানে শিকারিদের ব্যবহৃত ফাঁদ, জাল ও বিভিন্ন শিকার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধ্বংস করা হয়েছে শিকারিদের তৈরি আস্তানা। এ সময় ফাঁদে আটকে থাকা ১২টি বক জীবিত উদ্ধার করা হয়।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মাসকারিয়া বিল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রজাতির বক ও দেশীয় পাখি শিকারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে উখিয়া রেঞ্জের বনকর্মী ও ইআরটি (ইকো-রেসপন্স টিম) সদস্যরা যৌথভাবে অংশ নেন।

অভিযানকালে শিকারিরা পাখি আকর্ষণের জন্য ককশিট দিয়ে তৈরি নকল বক ব্যবহার করে তৈরি করা ফাঁদ শনাক্ত করা হয়। পরে এসব ফাঁদ, জাল ও অন্যান্য শিকার সামগ্রী জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি শিকারিদের অবস্থানের জন্য তৈরি অস্থায়ী আস্তানাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। উদ্ধার করা ১২টি বককে পরবর্তীতে নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়েছে বলে বন বিভাগ জানিয়েছে।

উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, পাখি শিকার শুধু বন্যপ্রাণীর ক্ষতিই করে না, এটি আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলে। মাসকারিয়া বিলসহ উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ পাখি শিকার বন্ধে আমাদের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউ বন্যপ্রাণী শিকার, ফাঁদ পাতা কিংবা শিকারিদের সহযোগিতা করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উদ্ধার করা পাখিগুলোকে নিরাপদে অবমুক্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়েও স্থানীয়দের সচেতন করা হচ্ছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পাখি ও বন্যপ্রাণী প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিল, জলাশয় ও বনাঞ্চলে অবৈধভাবে পাখি শিকার বন্ধে স্থানীয়দের তথ্য দিয়ে বন বিভাগকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

যোগফল | অনলাইন | নিউজ ডেস্ক