খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ২৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে ডেঙ্গুর ভয়াবহ থাবা, চলতি বছরে মৃতের সংখ্যা-১০

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ৪:০৪ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে ডেঙ্গুর ভয়াবহ থাবা, চলতি বছরে মৃতের সংখ্যা-১০

ছবি যোগফল

শাকুর মাহমুদ চৌধুরী | কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি :

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ক্যাম্পগুলোতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জনই শিশু। বাকি চারজন বয়স্ক নারী ও পুরুষ। একই সময়ে ক্যাম্পগুলোতে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৮৮২ জনের শরীরে। এ পরিস্থিতিতে ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে জনস্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত পুরো কক্সবাজার জেলায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৩৩ জনের। তাঁদের মধ্যে ৪ হাজার ৬১৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ৩২ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন রোহিঙ্গা। একই সময়ে ২৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৩ জন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যু এবং তাঁদের মধ্যে ছয়জন শিশু হওয়ায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। শিশুদের পাশাপাশি বয়স্ক ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্যও ডেঙ্গু মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বিপুলসংখ্যক মানুষের ঘনবসতি, সীমিত বসবাসের জায়গা, অপরিকল্পিত স্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশনের সমস্যার কারণে মশার বংশবিস্তারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বর্ষা-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পাত্র, ড্রাম, পরিত্যক্ত বস্তু ও আশপাশের স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করলেই চলবে না; একই সঙ্গে রোগের বিস্তার রোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে হবে। ক্যাম্পের প্রতিটি ব্লকে নিয়মিত নজরদারি ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বিশেষ করে শিশুদের জ্বর, বমি, পেটব্যথা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা কিংবা রক্তপাতের মতো সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করা জরুরি। একই সঙ্গে ক্যাম্পে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং রোগীদের দ্রুত রেফার করার ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে হবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ, ক্যাম্প প্রশাসন, আন্তর্জাতিক ও বেসরকারি সহায়তা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন। নিয়মিত ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, আক্রান্তের তথ্য হালনাগাদ, মশার প্রজননস্থল নির্মূল এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়মতো কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ক্যাম্পের ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই শিশুদের জীবন রক্ষা এবং বৃহত্তর জনস্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় জরুরি ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

যোগফল | অনলাইন | নিউজ ডেস্ক 

শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে OBE কারিকুলামের সঠিক বাস্তবায়ন জরুরি- বাউবি উপাচার্য

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে OBE কারিকুলামের সঠিক বাস্তবায়ন জরুরি- বাউবি উপাচার্য

ছবি যোগফল

যোগফল প্রতিবেদন :

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের উদ্যোগে ‘Teaching and Assessment in OBE Curriculum’ (আউটকাম বেসড এডুকেশন কারিকুলামে শিক্ষাদান ও মূল্যায়ন) শীর্ষক এক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ০৯ অক্টোবর ২০২৬ (শুক্রবার) সকাল ১০:০০ টায় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর ক্যাম্পাসের উপাচার্যের কনফারেন্স কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।


কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। তিনি বলেন, “আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে আউটকাম বেজড এডুকেশন (OBE) কারিকুলামের সঠিক বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 


প্রচলিত পরীক্ষা ও সনদনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করে গড়ে তুলতে এ কারিকুলাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে নতুন কারিকুলাম অনুযায়ী পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা শিক্ষকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। 


বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত পদ্ধতিতে অভ্যস্ত শিক্ষকদের এ পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষকরা OBE কারিকুলাম অনুযায়ী পাঠদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করবেন এবং এর সফল বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ইতিহাস বিভাগ এ ক্ষেত্রে যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অন্যান্য বিভাগের জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে। 


তিনি কর্মশালা আয়োজনের জন্য ইতিহাস বিভাগকে ধন্যবাদ জানান এবং কলা অনুষদের অন্যান্য বিভাগেও এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান”।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ আবুল কালাম সরকার। 


তিনি বলেন, “OBE কারিকুলাম বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য আরও সমুন্নত রাখা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে ইউজিসির মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষকদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। 


তিনি বলেন, পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন কার্যক্রমে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটিবিচ্যুতি চিহ্নিত করে তা দূর করার ক্ষেত্রে এ কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান আরও উন্নত হবে এবং ইতিহাস বিভাগের ঐতিহ্য ধরে রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি কর্মশালা আয়োজনের জন্য ইতিহাস বিভাগকে ধন্যবাদ জানান এবং এর সফলতা কামনা করেন”।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আশফাক হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “OBE কারিকুলাম বাস্তবায়নে শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ এবং বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে তা দূর করা জরুরি। শিক্ষার্থীসংখ্যার তুলনায় শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার সীমাবদ্ধতা থাকলেও সম্মিলিত উদ্যোগ ও কলা অনুষদের সহযোগিতায় এ কারিকুলামের সফল বাস্তবায়ন সম্ভব। 


তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের জন্য আরও মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা যাবে”।


কর্মশালায় বক্তারা আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা বা আউটকাম বেসড এডুকেশন (OBE) কারিকুলামের গুরুত্ব, এর সঠিক প্রয়োগ এবং শিক্ষার্থীদের সঠিক মূল্যায়নের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এতে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষকগণ অংশ নেন।


যোগফল | অনলাইন | ডেস্ক 

ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুনের বাউবির রংপুর আঞ্চলিক কেন্দ্র পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৫৪ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুনের বাউবির রংপুর আঞ্চলিক কেন্দ্র পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভা

ছবি যোগফল

যোগফল প্রতিবেদন :

 

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)-এর রংপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রে আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সম্মানিত সদস্য প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুনের সঙ্গে কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


মতবিনিময় সভার পূর্বে প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুন রংপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রের অবকাঠামো ও শিক্ষার্থী সেবা সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শন শেষে আঞ্চলিক কেন্দ্রের হলরুমে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন। 


তিনি বলেন, “বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) দূরশিক্ষণের মাধ্যমে সারা দেশে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। রংপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রের অবকাঠামো, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীসেবার সার্বিক ব্যবস্থা পরিদর্শন করে আমি অত্যন্ত সন্তুষ্ট। 


বাউবির সবার জন্য কর্মমুখী, গণমুখী ও জীবনব্যাপী শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আপনাদের নিরলস প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়। উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য শিক্ষার সুযোগ ও সেবার মান আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। আমি আশাবাদী, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ও বাউবির যৌথ উদ্যোগ ও সহযোগিতায় এ অঞ্চলের মানুষের কাছে উন্নত ও মানসম্মত শিক্ষা আরও সহজলভ্য হবে।”


সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলাম এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার টিএম আহমেদ হুসেইন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার বলেন, “রংপুর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত শিক্ষার সুফল নিশ্চিত করতে আমাদের মানসম্মত সেবা অব্যাহত রাখতে হবে। সব বাধা অতিক্রম করে শিক্ষার্থীদের দোরগোড়ায় নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত সেবা পৌঁছে দেওয়াই বাউবি’র মূল লক্ষ্য”।


রংপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রের আঞ্চলিক পরিচালক মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন রংপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রের (হিসাব) যুগ্ম পরিচালক মোঃ আজিজার রহমান। সভাপতির বক্তব্যে মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান আহমেদ বলেন, “বাউবি’র মূল স্লোগান—‘সবার জন্য উন্মুক্ত কর্মমুখী, গণমুখী ও জীবনব্যাপী শিক্ষা’ পৌঁছে দেওয়া। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় শিক্ষা সেবা পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।” 


অনুষ্ঠানে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে রংপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রের আওতাধীন ৮টি উপ-আঞ্চলিক কেন্দ্রের অবকাঠামোগত চিত্র ও সার্বিক তথ্য প্রধান অতিথির সামনে উপস্থাপন করা হয়। মতবিনিময় সভায় রংপুর আঞ্চলিক কেন্দ্রের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। 


যোগফল | অনলাইন ডেস্ক 

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘিরে উত্তেজনা, দুই শিক্ষার্থীকে মারধর

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘিরে উত্তেজনা, দুই শিক্ষার্থীকে মারধর

ছবি যোগফল

সাইফুল ইসলাম | গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :

জুনিয়র শিক্ষার্থীকে গালিগালাজ ও মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) আইন ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। 

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।  আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের দিকে তেড়ে আসতে দেখা যায়। পরে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজেদের আত্মরক্ষায় লাঠি হাতে নেন।  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেন। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিসংখ্যান বিভাগের এক শিক্ষার্থী ও তাঁর ভাইয়ের বাগ্‌বিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে বিষয়টি দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনার রূপ নেয়। রাত আড়াইটা পর্যন্ত এ নিয়ে শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা চলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জায়েদ জামান দাবি করেন, ঘটনার রাতে মুক্তমঞ্চে বসে ছিলেন তাঁর মেজো ভাই অয়েজ জামান। তিনি আইন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এ সময় বিভাগের অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে আইন বিভাগের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী তাঁর ভাইকে মা-বাবা নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, হয়রানি ও লাঞ্ছিত করেন।

অভিযোগে জায়েদ জামান আরও উল্লেখ করেন, দূর থেকে বিষয়টি দেখে তিনি এগিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁকেও গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁদের দিকে তেড়ে এসে মারধর করেন। এ সময় আইন বিভাগের ইমরান, জনি, সাইমুম, জয় শিকদার, মেহেদী, সাজিদ ও রাফি নামের শিক্ষার্থীরা তাঁকে ও তাঁর ভাইকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একপর্যায়ে তাঁর গলা চেপে ধরা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী তাঁদের দুজনকে আলাদা করে বাড়িতে চলে যেতে সহায়তা করেন। এরপর পরিসংখ্যান বিভাগের সহপাঠীরা এসে তাঁদের একটি অটোরিকশায় তুলে দেন। কিন্তু আইন বিভাগের মেহেদী এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিপ্র অটোরিকশাচালকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে তাঁদের নামিয়ে দেন এবং ঘিরে ধরেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে পরিসংখ্যান বিভাগের অন্য শিক্ষার্থীরা এসে তাঁদের সরিয়ে নেন।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, পরিসংখ্যান বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য এগিয়ে গেলে তাঁদের সঙ্গেও মারধরের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন জায়েদ জামান।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

অভিযোগের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আইন ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রশাসনিক ভবনে প্রক্টর দপ্তরে যান। এ সময় পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের গেটের সামনে অবস্থান নেন।

পরবর্তী সময়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা হাতে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের দিকে এগিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়। প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের হস্তক্ষেপে তাঁরা পেছনে সরে যান। তবে কিছুক্ষণ পর আবারও আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা হাতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরাও লাঠি হাতে নিয়ে প্রক্টর দপ্তরের সামনে অবস্থান করেন।

পরে আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাজিউর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। দুই বিভাগের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের সমাধানে প্রক্টর দপ্তরে শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা দীর্ঘ সময় বৈঠক করেন।

বৈঠক শেষে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম আহসান বলেন, "গতকাল রাতে আইন বিভাগের অভ্যন্তরীণ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আইন বিভাগ ও পরিসংখ্যান বিভাগের মধ্যে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় আমি থানায় অবস্থান করছিলাম। বিষয়টি শুনে দ্রুত সেখানে চলে আসি।"

তিনি বলেন, "মেইন গেটে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাই এবং তাঁদের সঙ্গে কথা বলি। পরে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেখানে এলে আমরা তাঁদের হাদি চত্বরে নিয়ে আসি। এরপর হাদি চত্বর থেকে তাঁদের প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসা হয়।"

প্রক্টর আরও বলেন, "এরপরও দেখা যায়, আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা হাদি চত্বরে অবস্থান করছেন। সেখানে আমরা প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের পাঠাই। পাঠানোর পরও দেখা যায়, প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থানরত পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে ধাওয়া করা হয়।"

ঘটনাটিকে অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, "খুবই তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা আমাদের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। আমি তাঁদের আশ্বস্ত করেছি যে, সোমবার বিকেল ৪টার মধ্যে আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করব, ইনশাআল্লাহ।"

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করা হবে না। নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে বলেও শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

যোগফল | অনলাইন |নিউজ ডেস্ক