ইনুর বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ হয়নি, খালাস চেয়ে আপিল
ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ তো দূরের কথা, কোনো ফৌজদারি অপরাধও প্রমাণিত হয়নি বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার সিফাত মাহমুদ। প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত মৌখিক ও দালিলিক সাক্ষ্যে কোনো অপরাধ প্রতিষ্ঠিত হয়নি দাবি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাজা বাতিল ও ইনুর খালাস চেয়ে আপিল করেছেন তার আইনজীবীরা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সিফাত মাহমুদ। এদিন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করেন ইনুর আইনজীবীরা।
সিফাত মাহমুদ বলেন, গত ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণা করেন। আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকি পাঁচটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ওই রায়ের বিরুদ্ধে বুধবার ২৩টি যুক্তি বা গ্রাউন্ডে আপিল করা হয়েছে। এতে হাসানুল হক ইনুকে খালাস দেওয়ার পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে।
আপিলের যুক্তি তুলে ধরে ইনুর আইনজীবী বলেন, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণে প্রসিকিউশন যেসব তথ্য-উপাত্ত ও সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছে, সেগুলো যথেষ্ট নয়। তা সত্ত্বেও ট্রাইব্যুনাল তাকে সাজা দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সিফাত মাহমুদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রসিকিউশন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথন, ১৪ দলের বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
তবে এসব কর্মকাণ্ডের পক্ষে উপস্থাপিত মৌখিক ও দালিলিক সাক্ষ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের কোনো উপাদান পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি এসব সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাধারণ ফৌজদারি অপরাধও প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন ইনুর এই আইনজীবী।
মামলার তদন্তের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরে সিফাত মাহমুদ বলেন, তদন্তে ঘাটতি ও সীমাবদ্ধতা ছিল বলে ট্রাইব্যুনাল তার রায়ে উল্লেখ করেছেন। এরপরও ত্রুটিপূর্ণ তদন্তের ভিত্তিতে ইনুকে সাজা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তদন্তের দুর্বলতা এবং উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিলে এ সাজা টেকসই হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সিফাত মাহমুদ আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র বিবেচনায় না নিয়ে প্রসিকিউশনের রাজনৈতিক বয়ানের ওপর নির্ভর করে মামলাটি পরিচালনা করা হয়েছে। তার ভাষায়, এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা এবং এতে অনুমাননির্ভর রায় দেওয়া হয়েছে।
এসব যুক্তি তুলে ধরেই আপিলে হাসানুল হক ইনুর খালাস চাওয়া হয়েছে বলে জানান তার আইনজীবী।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন