খুঁজুন
advertisement
advertisement
সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০ কার্তিক, ১৪৩৩

ফুলবাড়ীতে আগাম শিম চাষে কৃষকের মুখে হাসি, ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কেজি

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ফুলবাড়ীতে আগাম শিম চাষে কৃষকের মুখে হাসি, ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কেজি

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শিমের সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ। গ্রামের পর গ্রামজুড়ে মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে বেগুনি শিম ফুল আর সবুজ শিমের থোকা। শীতের আমেজ পুরোপুরি জেঁকে বসার আগেই ক্ষেত থেকে উঠতে শুরু করেছে আগাম শিম। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম এবং মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ায় এ চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন উপজেলার প্রান্তিক কৃষকেরা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, শিম তোলা, বস্তাবন্দি করা, মাচা মেরামত এবং পাইকারদের কাছে বিক্রির জন্য সবজি প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। মৌসুমের শুরুতেই ভালো দামে শিম বিক্রি করতে পেরে চাষিদের মুখে ফুটেছে সন্তুষ্টির হাসি।

কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি শিম ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে।

উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের গঙ্গাপ্রসাদ গ্রামের কৃষক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ১২ শতক জমিতে বারি-১ জাতের শিম মাচা পদ্ধতিতে চাষ করেছেন তিনি। ইতোমধ্যে তিন দফায় ৪ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছেন। মাচা তৈরি, সার, বীজ ও কীটনাশকসহ সব মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৬ হাজার টাকা।

তিনি আরও বলেন, ক্ষেতের বর্তমান অবস্থা ভালো। দাম স্থিতিশীল থাকলে এ জমি থেকে আরও অন্তত ৪০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করা সম্ভব হবে। এতে ভালো মুনাফা পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

একই এলাকার আরেক কৃষক নূর ইসলাম ১৫ শতক জমিতে শিম চাষ করেছেন। মৌসুমের শুরুতে তিনি প্রতি কেজি শিম ১২০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।

তবে শিম চাষে প্রতিবছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থাকে। কৃষকেরা জানান, অতিবৃষ্টি, অসময়ে শিলাবৃষ্টি কিংবা অতিরিক্ত তাপদাহে শিমগাছের ফুল ঝরে পড়তে পারে। এ ছাড়া শিকড় পচে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। ফল ছিদ্রকারী পোকা ও জাব পোকার আক্রমণ ঠেকাতে বাড়তি বালাইনাশক প্রয়োগ করতে হয়, যা উৎপাদন খরচ কিছুটা বাড়িয়ে দেয়।

এদিকে, ক্ষেত থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত শিমের দামে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান দেখা গেছে। কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ৯০ টাকায় কেনা শিম আড়তে ১১০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিবহন, শ্রমিকের মজুরি ও পচনের ঝুঁকির কারণে খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়ে যায়।

ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, মাচা পদ্ধতিতে শিম চাষ অত্যন্ত লাভজনক। ফুলবাড়ীতে উৎপাদিত মানসম্মত শিম স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অন্যান্য এলাকাতেও পাঠানো হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এ বছর উপজেলায় আগাম শীতকালীন শিম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৪০ মেট্রিক টন। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আগাম শীতকালীন শিমের চাষ হয়েছে। কৃষকদের শিম চাষে উৎসাহিত করতে উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় দুই প্রাথমিক শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় দুই প্রাথমিক শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও চলমান রয়েছে।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই শিক্ষক হলেন বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবিএম সাইফুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষিকা জেসমিন আক্তার। তারা বেগমগঞ্জ উপজেলার মীরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ইশরাত নাসিমা হাবীব। এর আগে গত রোববার পৃথক দুটি আদেশে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

বরখাস্তের আদেশে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের অশালীন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন বিধি অনুযায়ী তারা খোরপোশ ভাতা পাবেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে ওই দুই শিক্ষকের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে তদন্ত শুরু করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। পরে তাদের ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে অন্য দুটি বিদ্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। এর মধ্যে এবিএম সাইফুল ইসলামকে বালুচরা সমাজ কল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং জেসমিন আক্তারকে ডহরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। তবে কাগজপত্রে তাদের কর্মস্থল ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

চলতি বছরের আগস্টের শেষ দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাদের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ধারণ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয় চলাকালে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে অবস্থান করার সময় ভিডিওটি ধারণ করা হয়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ইশরাত নাসিমা হাবীব বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এবং এতে প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারেপত্তিকর ভিডিও ছড়ানো

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ২:৪১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, মাদ্রাসাশিক্ষক কারাগারেপত্তিকর ভিডিও ছড়ানো

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এক নারীর আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে আবু সাঈদ (৩০) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার আবু সাঈদ গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার ডাকবাংলোর পেছনে অবস্থিত লালমাটিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এক শিক্ষার্থীর মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে ওই নারীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেন শিক্ষক আবু সাঈদ। পরে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে প্রথম দফায় ওই নারীর কাছ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা আদায় করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে আরও ৮০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ৩টার দিকে ওই টাকা নিতে গেলে স্থানীয় লোকজন আবু সাঈদকে আটক করে মারধর করেন। এতে তার মাথায় আঘাত লাগে। খবর পেয়ে পুলিশ ভোর ৫টার দিকে ঘটনাস্থল সম্পর্কে জানতে পারে। পরে আহত শিক্ষকের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সকাল ৯টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দা কাশেম বলেন, ওই নারীর সঙ্গে মাদ্রাসাশিক্ষক আবু সাঈদের সম্পর্ক ছিল। এ ঘটনায় পুলিশের কাছে সঠিক তদন্তের দাবি জানান তিনি।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম কালবেলাকে বলেন, ভুক্তভোগী নারী লিখিত অভিযোগ করলে আবু সাঈদকে রোববার সন্ধ্যায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

চন্দনাইশে এসআরবি সদস্যদের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ৫

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
চন্দনাইশে এসআরবি সদস্যদের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ৫

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৭ ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের যৌথ দল। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মেহেদী হাসান সিফাত (২৩), জাহাঙ্গীর আলম (২৮), আজিজুর রহমান সবুজ (২১), মঞ্জুর ইসলাম (৩৯) ও মো. নবাব শরীফ ওরফে নবাব মিয়া (৩৪)।

এসআরবি-৭-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চন্দনাইশ উপজেলার বরকল ইউনিয়নের কানাই মাদারি গ্রামের ঘাটকুল পাড়ায় অভিযান চালায় এসআরবির একটি দল।

এ সময় বিভিন্ন থানায় ২০টির বেশি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ও এজাহারনামীয় পলাতক আসামি মো. আলমগীর এসআরবি দলের উপস্থিতি টের পেয়ে গ্রেপ্তার এড়াতে চিৎকার করে ৪০ থেকে ৫০ জনকে জড়ো করেন। পরে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসআরবি সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

একপর্যায়ে হামলাকারীরা আরও মারমুখী হয়ে উঠলে নিজেদের নিরাপত্তা এবং সরকারি অস্ত্র ও গোলাবারুদ রক্ষায় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়তে বাধ্য হন এসআরবি সদস্যরা।

এসআরবি-৭ জানায়, হামলার ঘটনায় শনিবার ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে এসআরবি-৭ ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে উত্তর কানাইমাদারী এলাকা থেকে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চন্দনাইশ থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এসআরবি-৭-এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) সহকারী পুলিশ সুপার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম