বাউফলে খালে মিলল অজ্ঞাত মরদেহ, নিখোঁজ বাবাকে দাবি করে মেয়ের হত্যা মামলা
ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পটুয়াখালীর বাউফলে খাল থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহকে নিখোঁজ বাবা আলম গাজীর (৫৫) দাবি করে হত্যা মামলা করেছেন তাঁর বড় মেয়ে রিপা বেগম (৩২)। তবে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মরদেহটির পরিচয় নিশ্চিত করতে পারছে না পুলিশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে বাউফল থানায় মামলাটি করেন রিপা বেগম। এতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাউফল পৌর শহরের বাংলাবাজার জামে মসজিদসংলগ্ন আলোকি খাল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ অক্টোবর বাউফলে ছোট স্ত্রী ফারজানা বেগমের বাসা থেকে নিখোঁজ হন আলম গাজী। এরপর থেকে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। আলম গাজীর তিন স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী পিয়ারা বেগম বাউফল পৌর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এবং দ্বিতীয় স্ত্রী কমলা বেগম গলাচিপা উপজেলার পাতাবুনিয়া গ্রামে থাকেন। ছোট স্ত্রী ফারজানা বেগম থাকেন বাউফলের দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। আলম গাজী ছোট স্ত্রীর সঙ্গেই থাকতেন।
রোববার কালাইয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে খাল থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের লুঙ্গি ও টি-শার্ট দেখে সেগুলো নিখোঁজ আলম গাজীর বলে দাবি করেন তাঁর প্রথম স্ত্রী ও চার সন্তান। পরে তাঁর বড় মেয়ে রিপা বেগম হত্যা মামলা করেন।
কালাইয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মনিরুজ্জামান সরদার বলেন, মরদেহটির সঙ্গে প্রায় ১৭টি ইটভর্তি একটি প্লাস্টিকের বস্তা বাঁধা ছিল। মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে এভাবে খালে ডুবিয়ে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে মরদেহটি পটুয়াখালী সরকারি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, স্বজনদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। তবে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মরদেহটি নিখোঁজ আলম গাজীর কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। আলামত ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন