বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ইতিবাচক মোড়
বিশ্ববাজারে এক দিনের বড় দরপতনের পরও মাস শেষে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে স্বর্ণের দাম। শক্তিশালী মার্কিন ডলারের চাপে শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্বর্ণের দাম কমলেও, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি কমার ইঙ্গিত এবং সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা হ্রাস পাওয়ায় গত পাঁচ মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো মাসিক ভিত্তিতে লাভের মুখ দেখছে মূল্যবান এই ধাতু।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৪০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ১.৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪৯.৮৩ ডলারে দাঁড়ায়। দিনের শুরুতে দাম প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল। একই সময়ে আগস্ট সরবরাহের জন্য নির্ধারিত মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারসের দামও ১.৩ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ১০৭ ডলারে নেমে আসে।
তবে সাময়িক এ দরপতনের পরও পুরো জুলাই মাসে স্বর্ণের দাম প্রায় ১.১ শতাংশ বেড়েছে, যা ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ মাসিক বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির গতি কমে আসায় ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা আগের তুলনায় কমেছে। একই সঙ্গে মাসের শুরুতে তেলের দাম ইরান-সংকটের আগের অবস্থানে ফিরে আসাও স্বর্ণবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বাইবিটের প্রধান বাজার বিশ্লেষক হান তান বলেন, টানা চার মাসের লোকসানের ধারা কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে স্বর্ণ। তবে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ডলারের ওপরে স্থায়ী অবস্থান ধরে রাখতে বাজারকে এখনও লড়াই করতে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বাজারের প্রত্যাশা—ফেডের নীতিনির্ধারকেরা শুধু সুদের হার বাড়ানোর দিকে নয়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যের দিকেও গুরুত্ব দেবেন। এ কারণেই স্বর্ণের দাম এখনো ৪ হাজার ডলারের ওপরে টিকে আছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার কারণে তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করায় পরিস্থিতি পরিবর্তনের আশঙ্কাও রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের শক্তিশালী অবস্থান অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল করে তুলছে। তবুও সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমে আসায় স্বর্ণের দীর্ঘমেয়াদি বাজারে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ২.১ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৫৭.৭৬ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম ০.৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৫০.১৪ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৮১.১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে মাসিক হিসাবে প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়াম—দুই ধাতুই লাভের ধারায় রয়েছে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন