খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩

৪ মাসের পরিশ্রমে ৫০০ কেজির রাজকীয় কেক, চমকে দিলেন স্প্যানিশ শেফ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
৪ মাসের পরিশ্রমে ৫০০ কেজির রাজকীয় কেক, চমকে দিলেন স্প্যানিশ শেফ

প্রথম দেখায় মনে হতে পারে এটি কোনো রাজকীয় প্রাসাদের ক্ষুদ্র সংস্করণ কিংবা জাদুঘরের দৃষ্টিনন্দন কোনো শিল্পকর্ম। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি—এটি একটি বিয়ের কেক। ওজন প্রায় ৫০০ কেজি, উচ্চতা সাড়ে ৩ মিটার। আর এই বিশাল কেকটি তৈরি করেছেন খ্যাতনামা স্প্যানিশ পেস্ট্রি শেফ মার্ক সোয়ারেজ।

সৌদি আরবের একটি অভিজাত পরিবারের রাজকীয় বিয়ের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে কেকটি। চিনি ও সাদা চকলেট দিয়ে তৈরি এই বিশাল কাঠামো বানাতে শেফ সোয়ারেজের সময় লেগেছে প্রায় চার মাস।

কেক তৈরির আগে প্রায় দেড় মাস ধরে এর নকশা ও কাঠামা চূড়ান্ত করেন তিনি। এরপর প্রায় ১ হাজার ৮০০ ঘণ্টার পরিশ্রমে ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নেয় তার পরিকল্পনা।

ফ্রান্সের ঐতিহাসিক ‘প্যারিস অপেরা গার্নিয়ারে’ আয়োজিত এক জমকালো বিয়ের অনুষ্ঠানে কেকটি প্রদর্শন করা হয়। তবে বর-কনে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছেন।

শেফ সোয়ারেজ জানান, নবদম্পতি এমন একটি কেক চেয়েছিলেন, যা সাধারণ বিয়ের কেকের মতো হবে না। বরং এটি দেখতে হবে রাজকীয় কোনো স্থাপনা বা স্মৃতিসৌধের মতো—যা বিয়ের আভিজাত্য এবং অপেরা গার্নিয়ারের পরিবেশের সঙ্গে মানানসই।

কেকটির উচ্চতা ৩ দশমিক ৫ মিটার বা প্রায় সাড়ে ১১ ফুট এবং প্রস্থ ১ দশমিক ৮ মিটার। এতে সুগার পেস্ট দিয়ে হাতে তৈরি প্রায় ৩৩ হাজার সূক্ষ্ম ফুলের পাপড়ি বসানো হয়েছে।

তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ৫০০ কেজি ওজনের পুরো কাঠামোর মাত্র ০.১ শতাংশ খাওয়ার উপযোগী আসল কেক। বাকি অংশ তৈরি করা হয়েছে সুগার পেস্ট ও হোয়াইট চকলেট দিয়ে।

সাধারণত একাই কাজ করেন মার্ক সোয়ারেজ। কিন্তু এত বড় ও জটিল এই কেক তৈরির জন্য এবার তাকে পেস্ট্রি শেফ বন্ধু, পরিবার ও পরিচিতদের সহযোগিতা নিতে হয়েছে।

শেফের ভাষায়, এত বড় অর্ডার সামলাতে তার নিজের টিমের পাশাপাশি আরও অনেক মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়েছিল। আর সেই সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই তৈরি হয়েছে এই নজরকাড়া ‘রাজকীয় কেক’।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

দিন গোনা ছাড়া আমার কিছু করার নাই: বিদ্যুৎমন্ত্রী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দিন গোনা ছাড়া আমার কিছু করার নাই: বিদ্যুৎমন্ত্রী

দেশে চলমান তীব্র লোডশেডিংয়ের জন্য গ্যাস সরবরাহের সংকট ও ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) সমস্যাকে দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, এ মুহূর্তে এফএসআরইউ মেরামত শেষ হওয়ার অপেক্ষায় দিন গোনা ছাড়া তার হাতে বড় কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘নেভিগেটিং বাংলাদেশ এনার্জি ক্রাইসিস: ইমিডিয়েট প্রায়োরিটিজ অ্যান্ড দ্য পাথ টু এ সাসটেইনেবল এনার্জি ফিউচার’ শীর্ষক সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, এফএসআরইউতে আগুন লাগার পর থেকেই গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি বড় না হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ঘটনার সময় একটি এলএনজিবাহী জাহাজ দ্রুত সরে যেতে সক্ষম হওয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো গেছে।

বর্তমানে দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে গ্যাস সরবরাহ সমন্বয় করা হচ্ছে। তবে এফএসআরইউ সচল না হওয়া পর্যন্ত সংকট পুরোপুরি কাটানো সম্ভব নয়।

লোডশেডিং কমাতে সরকারের ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যুতের চাহিদার ধরন পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আগে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা বেশি থাকলেও বর্তমানে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা বাড়ায় রাতেও বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব যানবাহনের অনেকেই অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করে রাতে চার্জ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে অভিযান চালানো হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

এফএসআরইউর সমস্যা পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৌশলীরা মেরামতের কাজ করছেন। এদিকে লোডশেডিং যতটা সম্ভব কমানো এবং শিল্পে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখতে বিভিন্নভাবে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে গ্যাস আমদানিনির্ভর হয়ে উঠেছে। তবে আমদানি করা গ্যাস গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সেই অনুযায়ী গড়ে ওঠেনি। তাই ভবিষ্যতে গ্যাস সরবরাহের অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে গ্যাস অনুসন্ধান ও খনন বাড়ালেই পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ফলে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি আমদানি করা গ্যাস ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

তরিকুল হত্যা মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তরিকুল হত্যা মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তরিকুল ইসলাম হত্যা মামলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হীরা মিয়াসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে দুজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—রায়গঞ্জ উপজেলার গ্রামপাঙ্গাসী গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে আব্দুল মান্নান, তার ভাই ও রায়গঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হীরা মিয়া, সলঙ্গা থানার বোয়ালিয়ার চর এলাকার মাজেম আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম এবং জেছারত আলীর ছেলে আব্দুল মজিদ। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মজিদ ইতোমধ্যে মারা গেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৩০ আগস্ট জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গ্রামপাঙ্গাসী গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে তরিকুল ইসলামকে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পরে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুল মন্নাফ বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় ১৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণা করেন আদালত।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) শামসুজ্জোহা শাহানশাহ জানান, ১৪ আসামির মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

নোয়াখালীতে জোড়া খুনের মামলায় একজনের ফাঁসি, দুজন খালাস

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নোয়াখালীতে জোড়া খুনের মামলায় একজনের ফাঁসি, দুজন খালাস

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পুকুরের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে গুলিতে দুইজন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা জোড়া খুনের মামলায় প্রধান আসামি সবুজকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় অপর দুই আসামি পারুল ও ফরহাদকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে নোয়াখালীর অতিরিক্ত দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক তৌহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২ এপ্রিল বেগমগঞ্জ উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের মনু মিঝি বাড়িতে পুকুরের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সবুজের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় সেতারা বেগম ও খলিল নিহত হন। এছাড়া আরও পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। তাদের মধ্যে পাঁচজন এখনও অসুস্থ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর আবদুস সহিদ বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির জিআর নম্বর ৪৯৯/১৩। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি জসিম উদ্দিন বাদল বলেন, মামলার প্রধান আসামি সবুজকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর দুই আসামি পারুল ও ফরহাদকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সামছুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম