ফুলবাড়ীতে আগাম শিম চাষে কৃষকের মুখে হাসি, ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কেজি
ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
শিমের সবুজ পাতায় ছেয়ে গেছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ। গ্রামের পর গ্রামজুড়ে মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে বেগুনি শিম ফুল আর সবুজ শিমের থোকা। শীতের আমেজ পুরোপুরি জেঁকে বসার আগেই ক্ষেত থেকে উঠতে শুরু করেছে আগাম শিম। উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম এবং মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ায় এ চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন উপজেলার প্রান্তিক কৃষকেরা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, শিম তোলা, বস্তাবন্দি করা, মাচা মেরামত এবং পাইকারদের কাছে বিক্রির জন্য সবজি প্রস্তুত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। মৌসুমের শুরুতেই ভালো দামে শিম বিক্রি করতে পেরে চাষিদের মুখে ফুটেছে সন্তুষ্টির হাসি।
কৃষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি শিম ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে।
উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের গঙ্গাপ্রসাদ গ্রামের কৃষক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ১২ শতক জমিতে বারি-১ জাতের শিম মাচা পদ্ধতিতে চাষ করেছেন তিনি। ইতোমধ্যে তিন দফায় ৪ হাজার টাকার শিম বিক্রি করেছেন। মাচা তৈরি, সার, বীজ ও কীটনাশকসহ সব মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৬ হাজার টাকা।
তিনি আরও বলেন, ক্ষেতের বর্তমান অবস্থা ভালো। দাম স্থিতিশীল থাকলে এ জমি থেকে আরও অন্তত ৪০ হাজার টাকার শিম বিক্রি করা সম্ভব হবে। এতে ভালো মুনাফা পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
একই এলাকার আরেক কৃষক নূর ইসলাম ১৫ শতক জমিতে শিম চাষ করেছেন। মৌসুমের শুরুতে তিনি প্রতি কেজি শিম ১২০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।
তবে শিম চাষে প্রতিবছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থাকে। কৃষকেরা জানান, অতিবৃষ্টি, অসময়ে শিলাবৃষ্টি কিংবা অতিরিক্ত তাপদাহে শিমগাছের ফুল ঝরে পড়তে পারে। এ ছাড়া শিকড় পচে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। ফল ছিদ্রকারী পোকা ও জাব পোকার আক্রমণ ঠেকাতে বাড়তি বালাইনাশক প্রয়োগ করতে হয়, যা উৎপাদন খরচ কিছুটা বাড়িয়ে দেয়।
এদিকে, ক্ষেত থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত শিমের দামে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান দেখা গেছে। কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ৯০ টাকায় কেনা শিম আড়তে ১১০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিবহন, শ্রমিকের মজুরি ও পচনের ঝুঁকির কারণে খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়ে যায়।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, মাচা পদ্ধতিতে শিম চাষ অত্যন্ত লাভজনক। ফুলবাড়ীতে উৎপাদিত মানসম্মত শিম স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অন্যান্য এলাকাতেও পাঠানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এ বছর উপজেলায় আগাম শীতকালীন শিম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৪০ মেট্রিক টন। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আগাম শীতকালীন শিমের চাষ হয়েছে। কৃষকদের শিম চাষে উৎসাহিত করতে উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন