খুঁজুন
শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১০ শ্রাবণ, ১৪৩৩

সাংবাদিকের ছদ্মবেশে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল| আতংকে তিন সন্তানের জননী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাংবাদিকের ছদ্মবেশে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল| আতংকে তিন সন্তানের জননী

ছবিতে অভিযুক্ত

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি :

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের নালিয়াটেকি গ্রামে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকের ছদ্মবেশে একাধিক বিবাহিত নারীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে মোঃ সজিব (৩৫) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে ভুক্তভোগী শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করলে নতুন করে আলোচনায় আসে তার পুরোনো অপরাধের ইতিহাস। স্থানীয়রা অভিযুক্ত সজিবকে ‘ভয়ংকর রেপিস্ট’ আখ্যা দিয়ে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

শিক্ষাজীবনের পতন ও অপরাধী চরিত্রের উত্থান

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সজিব বিল্লাল পালোয়ানের ছেলে। তিনি ২০১২ সালে এসএসসি পাস করার পর ধলাদিয়া ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু সেখানে নিয়মিত পড়ালেখা না করায় তিনি দ্রুত পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়েন। পরে তিনি মুন্সীগঞ্জ পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ডিপ্লোমা programme-এ ভর্তি হলেও পঞ্চম সেমিস্টার পর্যন্ত কোন সেমিস্টারেই পাস করেননি। শিক্ষাজীবনের এই ব্যর্থতাই তাকে অপরাধের পথে ঠেলে দেয় বলে স্থানীয়দের ধারণা।

সাংবাদিকতার ছদ্মবেশে প্রতারণা ও নারী নির্যাতন: পড়ালেখা ছেড়ে দেওয়ার পর সজিব নিজেকে সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। কিন্তু তার প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি বিভিন্ন সময় মানুষকে নিজেকে উচ্চ শিক্ষিত হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি স্থানীয় বিবাহিত নারীদের পারিবারিক সমস্যার সুযোগ নিয়ে তাদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন এবং গোপনে তা ভিডিও ধারণ করতেন। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে তিনি তাদের মানসিকভাবে ব্ল্যাকমেইল করতেন। এমনকি ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে তিনি নারীদের যৌন ব্যবসায় বাধ্য করার চেষ্টা করতেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়াও তিনি বিভিন্ন দপ্তরে দালালি ও সাংবাদিক পেশা ব্যবহার করে প্রতারণা করেছেন। জমির নামজারির নামে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। সমাজের পারিবারিক ছোটখাটো বিষয়কে ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে দুই পরিবারের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করেছেন। মাদকসহ বিভিন্ন অপকর্মেও তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

একাধিক মামলা ও পূর্বের কারাদণ্ড:
পুলিশ জানিয়েছে, সজিবের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় এর আগেও একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তিনি এর আগে ধর্ষণ মামলায় কারাভোগও করেছেন। তবে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেও তিনি তার অপরাধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত ছিলেন না। সম্প্রতি তিনি আবারও এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। ওই নারী সাহস করে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ আবারও তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে।

ভুক্তভোগীর বর্ণনা ও প্রতিক্রিয়া:
মামলার বাদী ওই গৃহবধূ জানিয়েছেন, সজিব তাকে বিশ্বাসের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে এবং পরে ভিডিও ধারণ করে তাকে হুমকি দেয়। তিনি দীর্ঘদিন মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করার পর শেষ পর্যন্ত আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যেন সজিবের মতো প্রতারক আর কাউকে শিকার করতে না পারে।

পুলিশের অবস্থান ও গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা:
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। তিনি বলেন, *"আমরা ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছি। অভিযুক্ত সজিবকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তার আগের অপরাধের রেকর্ডও আমাদের কাছে আছে। আমরা দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছি।"

স্থানীয় জনমত ও দাবি:
স্থানীয় বাসিন্দারা সজিবের এই কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা বলছেন, সজিব দীর্ঘদিন ধরে এই অপরাধ করে আসছিল কিন্তু ভয়-ভীতির কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। সম্প্রতি ভুক্তভোগী সাহস করে মামলা করায় অন্য নির্যাতিত নারীরাও আইনের কাছে ন্যায়বিচার চাইবেন বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। তারা প্রশাসনের কাছে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন যেন এ ধরনের অপরাধ পুনরায় না ঘটে।

আইনজীবীদের মতামত:
আইনজীবীরা বলছেন, সজিবের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেইল ও প্রতারণা—এই তিনটি ধারায় একযোগে মামলা হওয়া উচিত। তারা বলেন, ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করা সাইবার অপরাধও বটে। তাই এ মামলায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনও প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে।

সাংবাদিকতার মহান পেশাকে ব্যবহার করে এক ব্যক্তি যখন অপরাধী কর্মকাণ্ড চালায়, তখন তা সমাজে আতঙ্ক ছড়ায়। সজিবের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের সজাগ দৃষ্টি থাকা আবশ্যক যেন এই ধরনের ছদ্মবেশী অপরাধীরা সমাজের শান্তি নষ্ট করতে না পারে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ অনৈতিক-রায়হান রিপন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ অনৈতিক-রায়হান রিপন

ছবিতে রায়হান রিপন

আমির হোসাইন ||সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের মোদের গাঁও গ্রামের বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও প্রথম শ্রেণির নিবন্ধিত ঠিকাদার রায়হান উদ্দিন রিপনের বিরুদ্ধে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ওই সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রায়হান উদ্দিন রিপন।

বুধবার (২২ জুলাই) সিলেটভিত্তিক একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে রায়হান উদ্দিন রিপনকে জড়িয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর এর প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে যেসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর কোনো সত্যতা নেই। যাচাই-বাছাই ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সংবাদ প্রকাশ করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

রায়হান উদ্দিন রিপন বলেন, “আমি তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের মোদের গাঁও গ্রামের একটি স্বনামধন্য মুসলিম পরিবারের সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে প্রথম শ্রেণির নিবন্ধিত ঠিকাদার হিসেবে ব্যবসা করে আসছি। এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে। সুনামগঞ্জ ও তাহিরপুরের মানুষ আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন এবং আমার সামাজিক ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত আছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদে যেসব অভিযোগ ও তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কোনো ধরনের বক্তব্য বা তথ্য যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী। এতে আমার সামাজিক মর্যাদা, ব্যবসায়িক সুনাম ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।”

রায়হান উদ্দিন রিপন বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া এবং তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদটির সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রত্যাহার এবং প্রকৃত সত্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রকাশের দাবি জানান।

যোগফল অনলাইন নিউজ ডেস্ক 

গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

ছবিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | যোগফল

বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে Dacca Institute of Research and Analytics (DAIRA) আয়োজিত Bengal Delta Conference 2026 (BDC 2026)-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদ ও সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁদের ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। একই সঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

মন্ত্রী বলেন, তিনি কোনো পেশাদার বিশ্লেষক নন, বরং মাঠের রাজনীতির একজন কর্মী। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি দেশের রাজনীতি ও মানুষের প্রত্যাশাকে উপলব্ধি করেছেন। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক সংঘাত ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো আন্তর্জাতিক সংকট উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অর্থনৈতিক অনিয়মের কারণে দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়েছে। তবে জনগণের শক্তি ও নতুন সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনর্গঠন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যাংকিং খাতকে কার্যকর করার জন্য সরকার কাজ করছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আনতে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, শিল্প উন্নয়ন, কৃষি খাতের অগ্রগতি এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বাজেটে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন উৎসাহিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গণতান্ত্রিক সংস্কারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের জনগণ তাদের সাহস, ঐক্য ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে—যেখানে মানুষ উন্নত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ পাবে।

উল্লেখ্য, 'Bangladesh and a Changing World: Uncharted Times, Emerging Orders, and the Politics of Care' প্রতিপাদ্যে আয়োজিত BDC 2026-এ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, বৈশ্বিক পরিবর্তন, অর্থনীতি, রাজনীতি, উন্নয়ন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও নীতিগত করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। সম্মেলনে দেশি-বিদেশি গবেষক, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী নেতা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

যোগফল অনলাইন নিউজ ডেস্ক 

যাদুকাটা নদীতে খেয়া পারাপার বন্ধ | দুর্ভোগে লাখো মানুষ ও পর্যটক

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯:৫৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যাদুকাটা নদীতে খেয়া পারাপার বন্ধ | দুর্ভোগে লাখো মানুষ ও পর্যটক

খেয়াঘাটের ছবি

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 

‎সুনামগঞ্জ জেলার ​যাদুকাটা নদীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিয়ারচড়-পাঠানপাড়া খেয়াঘাটটি দুই ইজারাদারের অভ্যন্তরীণ ও দখল সংক্রান্ত দ্বন্দ্বে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন লাখো সাধারণ মানুষ এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। 

ঘাটের দখল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে পারাপার বন্ধ থাকায় তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুরসহ পার্শ্ববর্তী তিনটি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে একদিকে যেমন স্থবির হয়ে পড়েছে স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, অন্যদিকে বিখ্যাত সব পর্যটন কেন্দ্রে আসা হাজার হাজার দর্শনার্থী পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইজারাদারদের দ্বন্দ্ব ও হঠাৎ খেয়া বন্ধ যাদুকাটা নদীর মিয়ারচড়-পাঠানপাড়া খেয়াঘাটের ইজারা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি এই দ্বন্দ্বে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং আজ ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে দেবোত্তর স্টেটের ইজারার দাবিদার শিশির মনির যাদুকাটা নদীর পূর্ব পাড় মিয়ারচড় এলাকায়  ও জেলা পরিষদ থেকে আনা ইজারাদার ওয়াহিদ মিয়া পশ্চিম পাড় পাঠানপাড়া এলাকায় বসে ঘাটের টোল আদায়ের চেষ্টা করে দুই পক্ষ। পরে দুই পক্ষের টোল আদায়ের করার সময় দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে

‎একপর্যায়ে ঘাটের স্বাভাবিক খেয়া পারাপার বন্ধ করে দেওয়া হয়। ​কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ খেয়া চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নদীর দুই পাড়ে হঠাৎ করেই আটকে পড়ে শত শত যানবাহন ও হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী। ইজারাদারদের নিজস্ব স্বার্থের লড়াইয়ে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। ​স্থবির ৩ উপজেলার জীবনযাত্রা

‎​মিয়ারচর-পাঠানপাড়া খেয়াঘাটটি মূলত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর এবং আশপাশের তিন উপজেলার প্রধান সংযোগস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ​সাধারণ মানুষের ভোগান্তি: প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, হাট-বাজারের ব্যবসায়ী, জরুরি রোগী ও সাধারণ কর্মজীবী মানুষ যাতায়াত করেন। খেয়া বন্ধ থাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে  ঘাট বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে  বিকল্প পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে যেমন অতিরিক্ত সময় অপচয় হচ্ছে, তেমনি কয়েকগুণ বেশি পরিবহন ভাড়া গুনতে হচ্ছে। ​পর্যটন খাতে মারাত্মক প্রভাব

‎​প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটকে মুখরিত থাকে। কিন্তু এই খেয়াঘাটটি বন্ধ থাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা চরম বিপাকে পড়েছেন। ​পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছানো অনিশ্চিত: দর্শনার্থীরা মূলত তাহিরপুরের শিমুল বাগান, বারিক্কার টিলা, নীলাদ্রি লেক, লাকমাছড়া এবং টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের উদ্দেশ্যে এই পথ ব্যবহার করে থাকেন। খেয়া পারাপার বন্ধ থাকায় যাদুকাটা নদীর পাড়ে এসে হাজার হাজার পর্যটক আটকা পড়ছেন। বাধ্য হয়ে অনেকেই দর্শনীয় স্থানগুলো না দেখেই ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। ​জনমনে ক্ষোভ ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি ​দুই ইজারাদারের দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও পর্যটন খাত জিম্মি হয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। জানাযায়,  সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ থেকে  ইজারা প্রাপ্ত হয়ে গত ১৮/২০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছে তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়নের মাহতাবপুর গ্রামের মৃত দেওয়ান আলীর ছেলে ইজারা ওয়াহিদ মিয়া(৪৫)।

‎আজ ২৩ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে শিশির মনির নামের একজন ২০/২৫ জনের একটি গ্রুপ নিয়ে দেবোত্তর স্টেটের ইজারাদার দাবি করে ঘাটের দখলে আসে। এই নিয়ে দেবোত্তর স্টেট ও জেলা পরিষদ আনা দুই ইজারাদারের দ্বন্দ্বে সকাল থেকেই বন্ধ থাকে খেয়া পারাপার। যার ফলে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে হাজার হাজার সাধারণ যাত্রীসহ স্থানীয় এলাকাবাসী। স্থানীয়দের ধারণ, ঘাট দখল নিয়ে দুই ইজারাদারের লোকজনের সংঘর্ষে জড়িয়ে ঘটতে পারে যে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।  খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের সিভিল রিভিশন ২৭৪০/২০২৪ নং মামলায় থাকায় দরপত্র বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিন্নাকুলি,লাউড়েরগড়, বড়ণ্ডপটিলাগাঁও ও মিয়ারচর খেয়াঘাটগুলো ইজারা দেয়া যায়নি বিধায়,জেলা পরিষদের রাজস্ব আদায় খেয়াঘাটগুলোর দখল বজায় রাখা, স্থানীয় জনসাধারণের খেয়া পারাপারের সুবিধা এবং জেলা পরিষদ চলতি বছরের ২৪ জুন মাসিক সভায় ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের জন্য মোঃ ওয়াহিদ মিয়াকে ৪২ লক্ষ টাকায় টোল খাস আদায়ের অনুমতি প্রদানের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের ২ জুলাই ২০২৬ হতে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক খেয়াঘাটগুলো সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য খেয়াঘাটগুলো টোল খাস আদায়ে জন্য নির্দেশক্রমে অনুমতি দেয়া হয়।

‎এদিকে,দেবোত্তর ষ্টেটের মালিকানা দাবী করে শিশির আহমেদ জানান,আমি দেবোত্তর ষ্টেটের মালিক কালী চরণ ভজন এর কাছ থেকে এই ঘাটের ইজারা এনেছি। আমি বৈধ্য ইজারাদার। আরেকটি পক্ষ যারা জেলা পরিষদ থেকে এনে ইজারাদার দাবী করছে তারা অবৈধ। মামলা জড়িত থাকার পরেও জেলা পরিষদ কিভাবে হাইকোর্টের আদেশ অন্য করে ইজারা দেয়। কারন এই ঘাট জেলা পরিষদের না।

‎ইজারাদার মোঃ ওয়াহিদ মিয়া জানান,আমরা জেলা পরিষদ থেকে ইজারা এনেছি। শুধু এই বছরেই নয় গত দুই যুগ ধরে আমরা জেলা পরিষদ থেকে এনে এই ঘাট দিয়ে মানুষসহ বিভিন্ন যানবাহন পাড়াপার করছি। আজ হঠাৎ করে একটি পক্ষ দেবোত্তর ষ্টেটের মালিকানা দাবী করে নৌকা পাড়াপাড়ে বাঁধা সৃষ্টি করছে আর আমাদেরকে অবৈধ ইজারাদার বলছে। আমরা জেলা পরিষদ থেকে দীর্ঘ ১৩-১৪ বছর ধরেই ইজারা এনে বৈধভাবেই ঘাট পরিচালনা  করছি।

এ বিষয়ে দেবোত্তর ষ্টেটের মালিক কালী চয়ণ দত্ত চৌধুরী ভজন জানান,আমি কোনো কাগজ শিশির কে দেই নি,তার সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। তবে ওই সব ঘাটের মালিক আমি,জেলা পরিষদ ওই সব ঘাট খাশকালেকশন দিতে পারে না। 

‎এই বিষয়ে জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সমর কুমার পাল এর সাথে এই বিষয়ে বার বার মোটোফোনে যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায় নি।

যোগফল অনলাইন নিউজ ডেস্ক