এই ৬ গুণ থাকলে মিলতে পারে জান্নাতের সুসংবাদ
দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। একজন মুমিনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং জান্নাত লাভ করা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা এমন কিছু গুণের কথা উল্লেখ করেছেন, যা একজন ঈমানদারকে জান্নাতের পথে এগিয়ে নেয়।
পবিত্র কোরআনের সুরা আলে ইমরান (আয়াত ১৩৩-১৩৬)-এ মুত্তাকিদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এই গুণগুলো একজন মুমিনের চরিত্রকে পরিপূর্ণ করে এবং আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের অন্যতম মাধ্যম। নিচে সেই ছয়টি গুণ তুলে ধরা হলো—
১. সচ্ছলতা-অসচ্ছলতা—সব অবস্থায় আল্লাহর পথে ব্যয় করা
মুত্তাকিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তারা শুধু স্বচ্ছল অবস্থায় নয়, আর্থিক সংকটের সময়ও সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দান করেন। তাদের দানের উদ্দেশ্য থাকে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, মানুষের প্রশংসা নয়। আন্তরিকতা ও ইখলাসই তাদের দানের মূল ভিত্তি।
২. ক্রোধ সংবরণ করা
রাগ মানুষের বিবেককে আচ্ছন্ন করে ফেলতে পারে। কিন্তু জান্নাতের প্রত্যাশীরা রাগের মুহূর্তেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করেন। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রকৃত শক্তিশালী সেই ব্যক্তি, যিনি রাগের সময় নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
৩. মানুষকে ক্ষমা করা
মুত্তাকিরা অন্যের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেন। তারা বিশ্বাস করেন, দুনিয়ায় মানুষকে ক্ষমা করলে আল্লাহও কিয়ামতের দিন তাদের ক্ষমা করবেন। ক্ষমাশীলতা মানুষের চরিত্রকে মহান করে এবং সমাজে সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা করে।
৪. মানুষের উপকারে নিজেকে নিয়োজিত রাখা
আল্লাহ তাআলা সৎকর্মশীল ও পরোপকারী বান্দাদের ভালোবাসেন। তাই মুত্তাকিরা সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করেন, অন্যের উপকার করার চেষ্টা করেন এবং কারও ক্ষতির কারণ হন না।
৫. গুনাহ হয়ে গেলে দ্রুত তওবা করা
মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তবে মুত্তাকিদের বৈশিষ্ট্য হলো, তারা কোনো গুনাহ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং আন্তরিক তওবা করেন। তারা জানেন, আল্লাহ ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই।
৬. একই গুনাহ বারবার না করা
তওবার পর মুত্তাকি ব্যক্তি সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি থেকে নিজেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেন। নিজের চরিত্র ও আমল সংশোধনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই তাদের লক্ষ্য।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যারা এসব গুণ ধারণ করবে, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা এবং এমন জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত হবে নদী। সেখানে তারা চিরকাল শান্তি ও সুখে বসবাস করবে।
তাই একজন মুসলমানের উচিত কোরআনের এই শিক্ষা অনুযায়ী নিজের জীবন গড়ে তোলা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এসব গুণ বাস্তব জীবনে ধারণ করার চেষ্টা করা।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন