যে দেশে গাছও ইতিহাসের অংশ
স্কটল্যান্ডের ইতিহাস শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়। দেশটির শতবর্ষী বৃক্ষগুলোও যেন অতীতের নীরব সাক্ষী। গাছের গুঁড়ি, বাকল আর শেকড়ে লুকিয়ে আছে শত বছরের ইতিহাস, যা আজও সংরক্ষণ করা হচ্ছে পরম যত্নে।
গ্লাসগো শহরের কেলভিনগ্রোভ পার্কে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল এক ওক গাছ প্রথম দেখাতেই বিস্মিত করে। এতটাই পুরোনো ও বিশাল যে কয়েকজন মানুষ হাত ধরাধরি করেও তার কাণ্ড ঘিরে দাঁড়াতে পারবেন না। গাছটির পাশে রয়েছে একটি তথ্যফলক, যেখানে উল্লেখ আছে এর বয়স, প্রজাতি ও সংরক্ষণের ইতিহাস। স্কটল্যান্ডে পুরোনো গাছ শুধু প্রকৃতির অংশ নয়, জাতীয় ঐতিহ্যেরও অংশ।
দেশটির বিভিন্ন পার্ক, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, প্রাচীন এস্টেট ও গ্রামের পথে শত শত বছর বয়সী গাছ আজও দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয়দের কাছে এসব বৃক্ষ পূর্বপুরুষের স্মৃতির মতোই মূল্যবান। তাই কোনো গাছ অসুস্থ হয়ে পড়লেও তা কেটে ফেলার বদলে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে চিকিৎসা ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দেখা যায়, শতবর্ষী গাছ রক্ষায় পথের নকশাই পরিবর্তন করা হয়েছে। মানুষের সুবিধার জন্য গাছ কাটা হয়নি; বরং গাছকে বাঁচিয়ে রাখতে পথ ঘুরিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এ যেন প্রকৃতি সংরক্ষণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
অন্যদিকে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নামে অনেক দেশেই পুরোনো গাছ সহজেই কেটে ফেলা হয়। কিন্তু স্কটল্যান্ড দেখিয়েছে, উন্নয়ন আর প্রকৃতি সংরক্ষণ একসঙ্গে চলতে পারে—যদি থাকে আন্তরিকতা ও সচেতনতা।
কেলভিনগ্রোভ পার্ক, গ্লাসগো গ্রিন কিংবা বোটানিক গার্ডেনে প্রতিদিন শতবর্ষী গাছের ছায়ায় মানুষ বই পড়ে, শিশুরা খেলাধুলা করে, প্রবীণরা হাঁটেন। এসব বৃক্ষ যেন শহরের জীবন্ত স্মৃতি, প্রজন্মের পর প্রজন্মকে এক অদৃশ্য বন্ধনে যুক্ত করে রেখেছে।
এক বৃদ্ধার একটি কথাই যেন স্কটল্যান্ডের এই সংস্কৃতিকে সবচেয়ে সুন্দরভাবে তুলে ধরে। বহু বছরের পরিচিত এক ওক গাছের কাণ্ডে হাত রেখে তিনি বলেছিলেন, "আমি ছোটবেলা থেকে এই গাছকে চিনি। আশা করি, আমার নাতিরাও একদিন একে একইভাবে দেখবে।"
স্কটল্যান্ড শেখায়—একটি গাছ শুধু সবুজ নয়, এটি একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে যাওয়া অমূল্য উত্তরাধিকার।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন