খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ, ১৪৩৩

নেত্রকোনায় গোরস্থানের দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২০

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নেত্রকোনায় গোরস্থানের দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১২০

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পুরোনো একটি গোরস্থানের আধিপত্য ও সেখানে দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে রংছাতি ইউনিয়নের আমগড়া, পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়ায় প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। এ সময় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আমগড়া এবং পুলিয়া-পানেশ্বর পাড়ার মধ্যবর্তী প্রায় ১৮ কাঠা বা ১৪৪ শতাংশ জমির পুরোনো একটি গোরস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের বিরোধ চলে আসছে। সম্প্রতি আমগড়া গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা গোরস্থানের রাস্তার পাশে দোকান নির্মাণ করে বাজার বসানোর উদ্যোগ নিলে পানেশ্বর পাড়ার লোকজন এতে বাধা দেন।

তাদের দাবি, জমিটি ওয়াকফ সম্পত্তি এবং এটি কেবল কবরস্থান হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত।

বিরোধ মেটাতে প্রায় ১৫ দিন আগে ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হলেও কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। শুক্রবার সকালে গোরস্থানে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষ। সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত চলে সংঘর্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় পুলিয়া ও পানেশ্বর পাড়ার ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িঘর ও দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। একটি বিয়ের বাড়ির গেট ও গরুর খামারেও ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, হামলার সময় প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে।

সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে আমগড়া, নল্লাপাড়া ও হাসনাগাঁও গ্রামের ৫৪ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আহতদের কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্যরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহাব ও হোসেন মিয়া দাবি করেন, প্রায় ৮০ থেকে ৯০ বছর ধরে তাদের পূর্বপুরুষরা গোরস্থানটি দেখাশোনা করে আসছেন। সম্প্রতি প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে সেখানে মাটি কাটার কাজ করা হয়েছে। এ ছাড়া দেয়াল ও পিলার নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ১ লাখ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন বলেও জানান তারা।

তাদের অভিযোগ, আমগড়া গ্রামের কয়েকজনের নেতৃত্বে শুক্রবার সকালে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। গোরস্থানের জমির দলিল তাদের পক্ষে রয়েছে দাবি করে তারা প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান চান।

অন্যদিকে আমগড়া গ্রামের কামাল পাশা গোরস্থানের পাশে দোকান নির্মাণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, গোরস্থানের আধিপত্য নিয়েই মূলত বিরোধের সূত্রপাত। সালিশের পর পানেশ্বর পাড়ার লোকজন ওই এলাকায় গেলে সংঘর্ষ শুরু হয় বলে দাবি করেন তিনি।

রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত গোরস্থানের সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদকে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

মেসিকে সান্ত্বনা দিয়ে রোনালদোর নতুন রেকর্ড

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ২:৪৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মেসিকে সান্ত্বনা দিয়ে রোনালদোর নতুন রেকর্ড

বিশ্ব ফুটবলের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহুদিনের। মাঠের লড়াইয়ে তারা একে অন্যের বড় প্রতিপক্ষ হলেও ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর নজিরও রয়েছে। এবার মেসির বাবার মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়ে নতুন এক রেকর্ড গড়েছেন রোনালদো।

সম্প্রতি বাবা হোর্হে মেসিকে হারিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। বাবাকে নিয়ে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন তিনি। সেই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে মেসি ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

রোনালদো লেখেন, ‘এই কঠিন সময়ে তোমার এবং তোমার পরিবারের জন্য রইল অনেক অনেক ভালোবাসা লিও। শক্ত থেকো।’

মেসির কঠিন সময়ে রোনালদোর এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এরই মধ্যে মন্তব্যটিতে প্রায় ৬৫ লাখ লাইক পড়েছে। ইনস্টাগ্রামের ইতিহাসে কোনো কমেন্টে এটিই সর্বোচ্চ লাইক পাওয়ার রেকর্ড বলে জানা গেছে।

মজার বিষয় হলো, ইনস্টাগ্রামের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লাইক পাওয়া কমেন্টটিও রোনালদোর। কিলিয়ান এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর তাকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি পোস্টে মন্তব্য করেছিলেন সিআর সেভেন। ২০২৫ সালের শেষ দিকে সেই মন্তব্যে লাইক সংখ্যা ৬০ লাখ ছাড়িয়ে যায়।

ফুটবল মাঠে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়ে মেসির প্রতি রোনালদোর এই সহমর্মিতা দুই তারকার ভক্তদের মধ্যেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এর আগে গত শনিবার (৮ আগস্ট) ৬৮ বছর বয়সে মারা যান লিওনেল মেসির বাবা ও দীর্ঘদিনের এজেন্ট হোর্হে মেসি। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর আর্জেন্টিনার রোজারিওতে নিজ জন্মভূমিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

অক্টোবরে চালু হবে ৫ বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল: প্রধানমন্ত্রী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অক্টোবরে চালু হবে ৫ বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল: প্রধানমন্ত্রী

শিশুদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করতে দেশের পাঁচ অঞ্চলে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী অক্টোবর মাসে খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লায় একযোগে এসব হাসপাতাল চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের নবনির্মিত ৫০০ শয্যার ভবন উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালের নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে মোনাজাতে অংশ নিয়ে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য শুধু নতুন ভবন নির্মাণ বা প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো নয়। উন্নত প্রযুক্তির পাশাপাশি দক্ষ জনবল, সুশাসন ও সময়োপযোগী নীতির সমন্বয়ে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের নতুন ৫০০ শয্যার ভবন উদ্বোধনকে সেই লক্ষ্য পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করে হাসপাতালটির পরিসর আরও বাড়ানো হয়েছে। এ জন্য চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, টেকনিশিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

নিউরোলজিক্যাল বা স্নায়ুবিক রোগকে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্ট্রোক, মৃগীরোগ, পারকিনসন্স, ডিমেনশিয়া ও মেরুদণ্ডের জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এসব রোগের জন্য দেশে আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজনও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নতুন ৫০০ শয্যার ভবনের মাধ্যমে এসব রোগের চিকিৎসা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা ও বিশেষায়িত ওয়ার্ডের সমন্বয়ে নির্মিত ভবনটি রোগী সেবার পাশাপাশি চিকিৎসা গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে তুলনামূলক কম খরচে বিশ্বমানের নিউরোচিকিৎসা পান, সেই লক্ষ্যেই ‘নিউরোসায়েন্স-২’ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, অতিরিক্ত শয্যা এবং দক্ষ জনবলের সমন্বয়ে এ প্রতিষ্ঠান দেশের অসংখ্য রোগীর জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার যতই বাড়ুক, রোগীর প্রতি মানবিক আচরণের বিকল্প নেই। প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু একজন রোগীর ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক কষ্ট বুঝে তাকে আশ্বস্ত করার কাজটি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরই করতে হয়।

রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তার মানসিক অবস্থা বোঝা এবং সম্মানজনক ও সহানুভূতিশীল আচরণ চিকিৎসাসেবার মান বাড়ায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, চিকিৎসক, রোগী ও রোগীর স্বজন—এই তিন পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতির সম্পর্ক থাকা জরুরি। চিকিৎসকরা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন কিংবা রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকদের আস্থার সম্পর্ক দুর্বল হয়, তাহলে শুধু হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আজ ১৫ আগস্ট: বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ৫১ বছর

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ২:২১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আজ ১৫ আগস্ট: বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ৫১ বছর

আজ ১৫ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ৫১ বছর পূর্ণ হলো আজ।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে একদল বিপথগামী সেনাসদস্য বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে হামলা চালায়। ওই হামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাশাপাশি তাঁর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এবং পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল নিহত হন।

এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, তাঁকে রক্ষা করতে ছুটে আসা কর্নেল জামিল, পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান এবং সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককেও হত্যা করা হয়।

একই রাতে বঙ্গবন্ধুর ভাগনে শেখ ফজলুল হক মনির বাসভবনেও হামলা চালানো হয়। সেখানে শেখ মনি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকে হত্যা করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসভবনেও হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তাঁর কন্যা বেবি, ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং আত্মীয় আবদুল নঈম খান নিহত হন।

তৎকালীন সময়ে বিদেশে অবস্থান করায় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এই হত্যাকাণ্ড থেকে প্রাণে বেঁচে যান।

হত্যাকাণ্ডের বিচার

দীর্ঘ সময় পর ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর বিচারিক আদালত মামলায় ১৫ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে উচ্চ আদালত ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

এখন পর্যন্ত ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। একজন বিদেশে মারা গেছেন। আর পাঁচ আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।

বদলে গেছে ১৫ আগস্টের সরকারি মর্যাদা

একসময় ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হতো এবং এ উপলক্ষে সরকারি ছুটিও ছিল। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই ছুটি বাতিল করা হয়। ফলে বর্তমানে ১৫ আগস্ট আর সরকারি ছুটির দিন নয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের দিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে বাড়িটিতে আবারও হামলা চালিয়ে ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়।

স্বাধীনতার সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত। ষাটের দশকের শেষদিকে তাঁর নেতৃত্বে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি স্বাধীনতার আন্দোলনের প্রধান নেতায় পরিণত হন।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রমনা রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা হয়ে ওঠে। লাখো মানুষের সমাবেশে তিনি বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর ও বিতর্কিত এক অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে। প্রতিবছর এই দিনটি ঘিরে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক ভূমিকা, হত্যাকাণ্ড এবং এর বিচার নিয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্ক সামনে আসে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম